• facebook
  • twitter
  • youtube
Monday, 13 July, 2026

বেলিংহ্যাম-টুখেলের সম্পর্কে কি ফাটল? জয়ের পরেও প্রকাশ্যে মতবিরোধ, বিশ্বকাপের মাঝেই ইংল্যান্ড শিবিরে চর্চা

বিশ্বকাপ শুরুর আগেও প্রথম একাদশে বেলিংহ্যামের জায়গা নিশ্চিত নয় বলে মন্তব্য করেছিলেন টুখেল, যা নিয়েও জল্পনা তৈরি হয়েছিল

বেলিংহ্যাম-টুখেলের সম্পর্কে কি ফাটল? জয়ের পরেও প্রকাশ্যে মতবিরোধ, বিশ্বকাপের মাঝেই ইংল্যান্ড শিবিরে চর্চা

Bellingham and Tuchel Speculation Photo-SNS

নরওয়েকে হারিয়ে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠার উচ্ছ্বাসের মধ্যেই ইংল্যান্ড শিবিরে নাকি জমছে অশান্তির কালো মেঘ। সামনে এসেছে দলের তারকা মিডফিল্ডার জুড বেলিংহ্যাম এবং কোচ থমাস টুখেলের মতবিরোধের খবর। ম্যাচের পর দলের পারফরম্যান্স নিয়ে টুখেলের কড়া সমালোচনার জবাব দিয়েছেন বেলিংহ্যাম, যা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে ইংল্যান্ড শিবিরে। কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়ের বিরুদ্ধে জোড়া গোল করে দলকে শেষ চারে তুলেছিলেন বেলিংহ্যাম। কিন্তু অতিরিক্ত সময়ের সেই জয়ের পর টুখেল দলের পারফরম্যান্সকে “এলোমেলো” বলে মন্তব্য করেন। সে কথা শুনেই বেলিংহ্যামের সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়া ছিল, “হ্যাঁ, ঠিক আছে, যাই হোক।”

এরপর সতীর্থদের পাশে দাঁড়িয়ে রিয়াল মাদ্রিদের এই মিডফিল্ডার বলেন, “হয়তো উনি জানেন না, ওই ধরনের আবহাওয়ায় এরলিং হলান্ড, ওডেগার্ড, (আন্তোনিও) নুসা, (আলেকজান্ডার) সোরলোথদের বিরুদ্ধে খেলাটা কতটা কঠিন। ওদের বিরুদ্ধে খেলা মোটেও সহজ নয়।” এর পরেই ইংল্যান্ডের মিডিয়ায় জল্পনা শুরু হয়ে গিয়েছে, তা হলে কি দু’জনের মধ্যে সম্পর্ক ভাল না?

মায়ামির প্রচণ্ড গরমে কঠিন লড়াইয়ের পরও দলের খেলায় সন্তুষ্ট ছিলেন না ইংল্যান্ডের কোচ। সেমিফাইনালে ওঠায় খুশি হলেও পারফরম্যান্স নিয়ে হতাশা লুকোননি তিনি। টুখেল বলেন, “ফলাফল দারুণ। আমরা শেষ চারে উঠেছি। এটা অসাধারণ। কিন্তু দলের পারফরম্যান্সে আমি খুশি নই।” তিনি আরও ইঙ্গিত দেন যে, ইংল্যান্ডের খেলায় ছিল অগোছালো ভাব, বারবার ভুল এবং ভাগ্যের সহায়তায় তারা জয় পেয়েছে।

এটাই অবশ্য টুখেল ও বেলিংহ্যামের প্রথম মতবিরোধ নয়। প্রায় এক বছর আগে বেলিংহ্যামের মাঠের আচরণ নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে টুখেল বলেছিলেন, তাঁর কিছু আচরণ দর্শকদের কাছে “বিরক্তিকর” মনে হতে পারে। পরে অবশ্য তিনি ক্ষমা চেয়ে জানান, শব্দটি অনিচ্ছাকৃতভাবে ব্যবহার করেছিলেন এবং বেলিংহ্যামকে আক্রমণ করার কোনও উদ্দেশ্য ছিল না। বিশ্বকাপ শুরুর আগেও প্রথম একাদশে বেলিংহ্যামের জায়গা নিশ্চিত নয় বলে মন্তব্য করেছিলেন টুখেল, যা নিয়েও জল্পনা তৈরি হয়েছিল।

তবে সমস্ত বিতর্কের পরও বেলিংহ্যামের গুরুত্ব নিয়ে কোনও দ্বিধা নেই ইংল্যান্ড কোচের। নরওয়ে এবং মেক্সিকোর বিরুদ্ধে জোড়া গোল করে বারবার দলকে উদ্ধার করেছেন ২৩ বছর বয়সি তারকা। ম্যাচ শেষে টুখেল বলেন, “আর কিছু বলার নেই। ও প্রতি ম্যাচেই এটা করে দেখায়। বিশ্বমানের ফুটবলার।” এবার সেমিফাইনালে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড। কোচ ও তারকা ফুটবলারের মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও, নকআউট পর্বে বেলিংহ্যামের ধারাবাহিক ম্যাচজয়ী পারফরম্যান্সই ইংল্যান্ডের সবচেয়ে বড় ভরসা হয়ে উঠেছে।