ইরানি কাপের লড়াইয়ে চ্যাম্পিয়ন হল ঋষভ পন্থের নেতৃত্বাধীন অবশিষ্ট ভারত। রঞ্জি ট্রফি চ্যাম্পিয়ন জম্মু-কাশ্মীরকে ১৬৭ রানে হারিয়ে ট্রফি জিতে নিল লক্ষ্মীরতন শুক্লার দল। প্রথম ইনিংসে পিছিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত বাংলার দুই জোরে বোলার মুকেশ কুমার ও আকাশ দীপের দাপটে একপেশে জয় তুলে নিল অবশিষ্ট ভারত।
প্রথম ইনিংসে অবশিষ্ট ভারত ২৩৭ রান করে। জবাবে জম্মু-কাশ্মীর ২৭৮ রান তুলে ৪১ রানের লিড নেয়। দ্বিতীয় ইনিংসে অবশ্য ঘুরে দাঁড়ায় অবশিষ্ট ভারত। পন্থেরা করেন ৩১৯ রান। ফলে জয়ের জন্য জম্মু-কাশ্মীরের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ২৭৯ রান।
কিন্তু সেই রান তোলা তো দূরের কথা, দ্বিতীয় ইনিংসে একশো রানও পেরোতে পারল না রঞ্জি চ্যাম্পিয়নরা। ১১১ রানেই শেষ হয়ে যায় জম্মু-কাশ্মীরের ইনিংস। শ্রীনগরের মাঠে পরিচিত পরিবেশেও ব্যাট হাতে দাঁড়াতে পারেননি পরশ দোগরারা। আর তাঁদের ধস নামানোর নেপথ্যে বড় ভূমিকা নিলেন বাংলার দুই পেসার।

জম্মু-কাশ্মীরের দুই ওপেনার শুরুটা অবশ্য মন্দ করেননি। কামরান ইকবাল করেন ৩২ রান, শুভম খাজুরিয়া করেন ৩৬। কিন্তু দু’জনকেই ফিরিয়ে দেন আকাশ দীপ। দুই ওপেনারের জুটি ভাঙার পরই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি চলে আসে অবশিষ্ট ভারতের হাতে।
এর পর বল হাতে ঝড় তোলেন মুকেশ কুমার। একের পর এক উইকেট হারাতে থাকে জম্মু-কাশ্মীর। ১ উইকেটে ৬৫ রান থেকে মাত্র ১১১ রানেই শেষ হয়ে যায় তাদের ইনিংস। অর্থাৎ শেষ ছয় উইকেট মাত্র ১৩ রানের মধ্যে হারায় রঞ্জি চ্যাম্পিয়নরা।
মুকেশ মাত্র ৩৩ রান দিয়ে তুলে নেন ৬ উইকেট। আকাশ দীপ ২৫ রান দিয়ে নেন ৩ উইকেট। তাঁদের দাপটে জম্মু-কাশ্মীরের ব্যাটিং লাইন-আপ কার্যত ভেঙে পড়ে। দুই ওপেনার ছাড়া বলার মতো রান করেন একমাত্র পাঁচ নম্বরে নামা আবদুল সামাদ। তাঁর সংগ্রহ ২০ রান। বাকি ব্যাটারদের কেউই দুই অঙ্কের রান করতে পারেননি। চার জন ব্যাটার সাজঘরে ফেরেন শূন্য রানে।
প্রথম ইনিংসে পিছিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত ১৬৭ রানের বড় ব্যবধানে জয় তুলে নেয় অবশিষ্ট ভারত। তবে দলের জয়ে অধিনায়ক ঋষভ পন্থের অবদান ব্যাট হাতে তেমন ছিল না। প্রথম ইনিংসে ১০ রান করার পর দ্বিতীয় ইনিংসে তিনি করেন মাত্র ৮ রান।
অবশিষ্ট ভারতের এই জয়ে বাংলার ক্রিকেটেরও বড় ভূমিকা থাকল। মুকেশ কুমার ও আকাশ দীপের দুর্দান্ত বোলিংয়ের পাশাপাশি দলের ব্যাটিং কোচ হিসেবেও ছিলেন বাংলার লক্ষ্মীরতন শুক্লা। তাঁর নেতৃত্বেই শেষ পর্যন্ত ইরানি কাপ ঘরে তুলল অবশিষ্ট ভারত।




