আবারও আইপিএলে টিকিটের কালোবাজারি ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। রয়েল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু বনাম দিল্লি ক্যাপিটালস ম্যাচের কমপ্লিমেন্টরি টিকিট আশি হাজার টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রির অভিযোগে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে দিল্লি অ্যান্ড ডিস্ট্রিক্ট ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের একাধিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। ঘটনায় ইতিমধ্যেই চার জনকে গ্রেফতার করেছে দিল্লি পুলিশ।
গত ২৭ এপ্রিল অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়েছিল দিল্লি ক্যাপিটালস এবং রয়্যাল চ্যালেন্জার্স বেঙ্গালুরু ম্যাচ। মূলত, ম্যাচটি বিরাট কোহলির দলের বিরুদ্ধে হওয়ায় ওই ম্যাচ ঘিরে দর্শকদের মধ্যে প্রবল উত্তেজনা ছিল। ফলে, টিকিটের ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়েছিল। সেই সুযোগকেই কাজে লাগিয়েই একটি চক্র সক্রিয় হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ।
Advertisement
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, কমপ্লিমেন্টরি টিকিট, যা সাধারণত দর্শকদের বিনামূল্যে দেওয়া হয়, সেগুলিই কালোবাজারে বিক্রি করা হয়েছিল। এক একটি টিকিট আবার বিক্রি হয়েছে ৮০ হাজার টাকারও বেশি দামে। তদন্তে জানা গিয়েছে, অন্তত এক হাজারেরও বেশি কমপ্লিমেন্টরি টিকিট চড়া দামে বিক্রি করা হয়েছিল। টিকিট কালোবাজারির ঘটনায় প্রথমে অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামের বাইরে থেকে তিন জনকে গ্রেফতার করে দিল্লি পুলিশ। ধৃত এই তিন ব্যক্তি হলেন মুকিম, গুফরান এবং মহম্মদ ফয়জল। তাঁদের জেরা করে পঙ্কজ যাদব নামে এক পেট্রল পাম্প কর্মীর নাম সামনে আসে। পরে তাঁকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে শুধু এই চার ব্যক্তি নন, তদন্তে ডিডিসিএ’র কয়েকজন কর্তারও হদিশ পেয়েছেন দিল্লি পুলিশের আধিকারিকরা।
Advertisement
এর পরেই গত বৃহস্পতিবার ডিডিসিএ’র চার জন কর্মকর্তাকে প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা ধরে জেরা করা হয়। তাঁদের মধ্যে দু’জন সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। যদিও এখনও পর্যন্ত তাঁদের নাম প্রকাশ করেননি পুলিশ। বিষয়টি নিয়ে দিল্লি পুলিশের এক কর্তার বক্তব্য, ডিডিসিএ কর্তাদের নেতৃত্বে একটি সংগঠিত চক্র দীর্ঘদিন ধরেই এই কালোবাজারিতে সক্রিয়। ম্যাচের গুরুত্ব অনুযায়ী এরা টিকিটের দাম নির্ধারণ করতো এবং সময় যত এগোত, ততই দাম বাড়ত।তিনি আরো বলেন, ম্যাচ বিশেষে ৮ হাজার থেকে শুরু করে ৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত দামে টিকিট বিক্রি করা হতো। তদন্তকারীদের দাবি, আইপিএলে দিল্লিতে আয়োজিত প্রতিটি ম্যাচের জন্যই বরাদ্দ প্রায় এক হাজার কমপ্লিমেন্টরি টিকিট এই চক্রের মাধ্যমে কালোবাজারীদের হাতে চলে যেত। নিয়ম অনুযায়ী, বিসিসিআই ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলিকে নির্দিষ্ট একটা অংশ টিকিট স্থানীয় আয়োজক সংস্থাকে কমপ্লিমেন্টরি হিসেবে দেয়, যা মূলত দর্শকদের মধ্যে বিনামূল্যে বিতরণের কথা। ফের একবার এই ঘটনায় ক্রিকেট প্রশাসনিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। এদিকে, দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত এখনও চলছে এবং আরও নাম সামনে আসতে পারে।
Advertisement



