মাস তিনেক আগেই যারা টি-২০ ক্রিকেটে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছে, সেই ভারত আয়ারল্যান্ডে গিয়ে যে এ ভাবে মুখ থুবরে পড়বে, তা কি কেউ ভাবতে পেরেছিল? বোধহয় না। অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ারও বোধহয় ভাবতে পারেননি, তাঁর অধিনায়কত্বে প্রথম সিরিজেই তাঁর দল এ ভাবে মুখ থুবরে পড়বে।
গত ৩৪ মাসে এমন হার স্বীকার করতে হয়নি ভারতের টি-২০ দলকে। পরিসংখ্যান বলছে প্রায় ১০৫০ দিন পর টি-২০-তে ভারত অপরাজিত থাকার পর কোনও সিরিজে হারল। তাও আবার টি-২০-র বিশ্ব ক্রমতালিকায় ১১ নম্বরে থাকা কোনো দলের কাছে।
বেলফাস্টে দ্বিতীয় টি-২০ ম্যাচে মাত্র এক রানে হারের পর দুই ম্যাচের সিরিজে ২-০ ব্যবধানে ইতিহাস গড়ে ভারতকে হারিয়েছে আয়ারল্যান্ড। সিরিজ শেষে ভারতের অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ার অকপটে স্বীকার করে নিলেন, এই সিরিজে প্রতিপক্ষই সবদিক থেকে এগিয়ে ছিল।
ম্যাচ শেষে শ্রেয়স বলেন, ‘ওরা আমাদের চেয়ে অনেক ভালো খেলেছে। উইকেটের পরিস্থিতি ওরা আমাদের চেয়ে অনেক ভালোভাবে বুঝেছিল। প্রথমে ব্যাট করা দল হিসেবে ওরা জানত কীভাবে খেলতে হবে। আমরা সেটা ঠিকভাবে বুঝতে পারিনি।’
শ্রেয়সের কথা শুনে ক্রিকেট মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, উইকেটের পরিস্থিতি, পরিবেশ বোঝার জন্য তা হলে কেন কয়েক দিন আগে বেলফাস্টে গিয়ে প্রস্তুতি শিবির করল না ভারতীয় দল? তা হলে কি তারা আয়ারল্যান্ডকে তেমন গুরুত্ব দেয়নি? একবারও তারা ভাবেনি যে একটু অসাবধান হলেই এমন অসন্মানিত হতে পারে ভারতীয় ক্রিকেট?
ভারতের ব্যাটিং নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন অধিনায়ক। তাঁর কথায়, ‘আমাদের ব্যাটিং ইউনিট হিসেবে আরও ভালো করা উচিত ছিল। মাঝের ওভারগুলোয় আমরা নিয়মিত উইকেট হারিয়েছি। সেই কারণেই চাপ বেড়ে গিয়েছিল।’
শুধু মাঝের ওভারে নয়, শুরু থেকেই ভারতীয় ব্যাটাররা প্রবল চাপে ছিলেন রবিবার। ১৫৫ রান তাড়া করতে নেমে এক রানের মধ্যেই দু’উইকেট হারায় ভারত। দুই ওপেনার সঞ্জু স্যামসন ও অভিষেক শর্মা কোনো রান না করেই ফিরে যান। সারা ইনিংসে একমাত্র তিলক বর্মা (৪৬ বলে ৫৫) ছাড়া আর কেউই কুড়ি রানের গণ্ডীও পেরোতে পারেননি।
তবে নিজের ইনিংস নিয়ে কিছুটা ইতিবাচক ছিলেন শ্রেয়স। তিনি বলেন, ‘আমার জন্য ইতিবাচক বিষয় ছিল, আমি নিজের ছন্দে ব্যাট করতে পেরেছি। ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে খেলতে চেয়েছিলাম এবং সেটাই করার চেষ্টা করেছি।’ নিজের ছন্দে তিনি সাত বলে দশ রান করেন। হতাশ অধিনায়কের মুখে এমন হাস্যকর মন্তব্য বেশ অবাক করার মতোই।
দুই ম্যাচেই ভারত নতুন কয়েকজন ক্রিকেটারকে সুযোগ দিয়েছিল। তাঁদের নিয়ে অধিনায়ক বলেন, ‘নতুন ছেলেদের জন্য এটা দারুণ শেখার অভিজ্ঞতা। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলতে গেলে এই ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতেই হয়। আমি নিশ্চিত, ওরা এই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেবে এবং ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরবে।’
মাত্র ১৯ রানেই তিনটি উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় সফরকারী ভারত। এরপর তিলক বর্মার লড়াকু ৫৫ রান ভারতকে ম্যাচে ফিরে আসার পথ দেখালেও অন্যান্য ব্যাটাররা কিছুই করতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত নাটকীয় লড়াইয়ে ১ রানে হার মানতে হয়। তাই শ্রেয়সের নিজেদের দুর্বলতার কথা স্বীকার করে নেওয়া ছাড়া কোনো উপায় ছিল না।
আয়ারল্যান্ড শুধু সিরিজই জেতেনি, ভারতের বিরুদ্ধে নিজেদের ইতিহাসে প্রথম টি-২০ সিরিজ জয়ের নজিরও গড়েছে। একই সঙ্গে ২০২৩ সালের পর এই প্রথম কোনও দ্বিপাক্ষিক টি-২০ সিরিজে পরাজিত হল ভারত। এর পর ইংল্যান্ডে তাদের জন্য কী অপেক্ষা করে আছে, এটাই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।




