মাঠে নামা মানেই আমি দেশের কথাই চিন্তা করি। দেশকে খেতাব তুলে দেওয়াটাই আমার প্রধান লক্ষ্য। সেই কারণেই আগামী ২০২৭ সালে একদিনের বিশ্বকাপ ক্রিকেটে খেলার জন্য নিজেকে তৈরি করছি। মানসিক দিক দিয়ে আমি অনেকটাই এগিয়ে রয়েছি। কারা কী ভাবছেন, তা কখনওই আমাকে বিচলিত করে না। আবারও বলছি, দেশকে চ্যাম্পিয়ন করতে পারলে আমার থেকে খুশি মানুষ কেউ হতে পারবেন না। আমি তো এখন একটিমাত্র ফরম্যাটে খেলি। সেটা হল একদিনের ক্রিকেট। বেশ কিছুদিন আগেই টেস্ট এবং টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়ে ফেলেছি। আর তখনই বলেছিলাম একদিনের ক্রিকেট ছাড়া আমি অন্য কোনও টুর্নামেন্টে অংশ নেব না। তাহলে কি বিরাট কোহলি ২০২৭ সালে একদিনের বিশ্বকাপ ক্রিকেটে খেলবেন না, এই প্রশ্নটা আসছে কেন?
ক্রিকেটপ্রেমীরা কোহলিকে নিয়ে অনেক চিন্তা করেন। নিঃসন্দেহে ভারতীয় ক্রিকেটে তারকা হিসেবে বিরাট কোহলিকে নিঃসন্দেহে ভাবা যায়। সেখানে কোনওরকম অন্য কোনও কথা উঠতে পারে না। ভারতীয় ক্রিকেটে রাজা বলে অভিভূত করা হয় বিরাট কোহলিকে। সেখানে কোচ গৌতম গম্ভীরের সঙ্গে সেইভাবে দুরন্ত সম্পর্ক, তা নয়। অনেক ব্যাপারেই ব্যবধান তৈরি হয়। হয়তো সেই কথা ভেবেই বিরাট কোহলি স্পষ্ট কথা বলেছেন, নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করার জন্য আমি কখনওই বাধ্য নই।
Advertisement
বিশ্বকাপের সময় কোহলির বয়স হবে ৩৯। ফিটনেস নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। তাছড়া তারুণ্যে নজর দিতে গিয়ে কোহলি বা রোহিত শর্মাদের মতো সিনিয়রদের সঙ্গে দূরত্ব বেড়েছে কোচ গম্ভীরের। মাঝে তো রো-কো’র একদিনের ক্রিকেটে ভারতীয় দলে থাকা নিয়ে প্রশ্ন উঠে গিয়েছিল। তবে টানা শতরান করে জবাব দিয়েছেন কোহলি। ফের নিজেকে প্রমাণ করতে হবে? একথা কেন উঠছে?
Advertisement
আইপিএলে তাঁর দল আরসিবি-কে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে মুখ খুলেছেন ৫৪টি একদিনের ক্রিকেটে শতরানের মালিক। কোহলি বলছেন, আমার পরিকল্পনা পরিষ্কার। আমি যেখানে আছি, সেই পরিবেশে যদি নিজের অবদান রাখতে পারি। কিংবা যদি অবদান রাখার মতো জায়গা থাকে, তাহলে আমাকে দেখতে পাবেন। কিন্তু নিজের মূল্য ও যোগ্যতা প্রমাণ করার মতো জায়গায় আমি নেই। কারণ নিজের প্রস্তুতি নিয়ে আমি সৎ। আমি নিয়মিত পরিশ্রম করছি। ক্রিকেট জীবনে যা পেয়েছি, তার জন্য কৃতজ্ঞ। আজও যখন খেলতে নামি, তখন মন দিয়েই খেলি।’
তিনি আরও বলেন, আমি অনেকের থেকে বেশি পরিশ্রম করি। ৪০ ওভার জুড়ে বাউন্ডারি মারার ক্ষমতা রাখি। এখনও মনে করি, ৫০ ওভারে যে বলটাই খেলি না কেন, সেটাই আমার শেষ বল। আমি সেভাবে ব্যাট করি, সেভাবে রান করি। দলের জন্য সেভাবে খেলি। এত কিছুর পরও যদি নিজেকে প্রমাণ দিতে হয়, তাহলে সেই জায়গাটা আমার জন্য নয়। এমন নয় যে একটা সিরিজের এক সপ্তাহ বা দু’সপ্তাহ আগে প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করি। আমি সারা বছর প্রস্তুতির মধ্যে থাকি। সেটাই আমার জীবন। আমার কাজ। আমার লক্ষ্য।
Advertisement



