• facebook
  • twitter
  • youtube
Tuesday, 21 July, 2026

‘ট্রফির পিছনে না দৌড়ে খেলাটাকে ভালোবাসো’— বিরাটের এক ফোনেই বদলে গেল সিন্ধুর কেরিয়ার!

সিন্ধু বলেন, 'উনি আমাকে বোঝান, যখন খেলাটাকে আবার উপভোগ করতে শুরু করবে, তখন ফলাফল আপনাআপনিই আসবে। সেই কথাগুলো আমাকে সত্যিই অনেক সাহায্য করেছে'

‘ট্রফির পিছনে না দৌড়ে খেলাটাকে ভালোবাসো’— বিরাটের এক ফোনেই বদলে গেল সিন্ধুর কেরিয়ার!

Photo: Representational Image

দু’বছরের দীর্ঘ ট্রফিখরা, একের পর এক চোট, প্যারিস অলিম্পিক্সে হতাশাজনক বিদায়— সব মিলিয়ে যেন আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছিলেন পি ভি সিন্ধু। সেই অন্ধকার সময় থেকে তাঁকে টেনে তুলেছিলেন ভারতীয় ক্রিকেট তারকা বিরাট কোহলি। তাঁদের মধ্যে একটি কথোপকথনই বদলে দেয় সিন্ধুর মানসিকতা, যার ফল— জাপান ওপেনে ঐতিহাসিক খেতাব।

সম্প্রতি দু’বছরেরও বেশি সময় পরে জাপান ওপেনে বড় খেতাব জেতেন সিন্ধু। ৩১ বছর বয়সে তিনি প্রথম মহিলা ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড় হিসেবে বিএডব্লিউএফ সুপার ৭৫০ শিরোপা জিতে ইতিহাসও গড়েন। তবে এই সাফল্যের পিছনে যে বিরাট কোহলির বিশেষ ভূমিকা রয়েছে, তা নিজেই জানিয়েছেন ভারতের দুবারের অলিম্পিক পদকজয়ী ব্যাডমিন্টন তারকা।

সিন্ধু জানান, গত দু’বছর ছিল তাঁর কেরিয়ারের সবচেয়ে কঠিন সময়। স্ট্রেস ফ্র্যাকচারের চোট, দীর্ঘ রিহ্যাব, প্যারিস অলিম্পিক্সে প্রত্যাশা পূরণ না হওয়া এবং ২০২৪ সালের সাইয়দ মোদি ইন্টারন্যাশনালের পর আর কোনও খেতাব না জেতার হতাশা তাঁকে মানসিকভাবে ভেঙে দিয়েছিল। সেই সময়ই তিনি ফোন করেছিলেন বিরাট কোহলিকে, কারণ তিনি জানতেন, বড় মঞ্চের চাপ এবং কঠিন সময় কাটিয়ে ওঠার অভিজ্ঞতা বিরাটের রয়েছে।

সিন্ধুর কথায়, ‘আমি বিরাট ভাইয়ার সঙ্গে কথা বলেছিলাম। ওঁর সঙ্গে কথা বলার পর আমার দৃষ্টিভঙ্গিটাই বদলে যায়। তিনি আমাকে বলেছিলেন, ট্রফি বা ফলাফলের পিছনে ছুটো না। যে কারণে প্রথম দিন ব্যাডমিন্টন খেলতে শুরু করেছিলে, সেই আনন্দটা আবার খুঁজে বের করো।’

সিন্ধু আরও বলেন, ‘উনি আমাকে বোঝান, যখন খেলাটাকে আবার উপভোগ করতে শুরু করবে, তখন ফলাফল আপনাআপনিই আসবে। সেই কথাগুলো আমাকে সত্যিই অনেক সাহায্য করেছে’।

ভারতীয় শাটলারের মতে, সেই পরামর্শই তাঁর উপর থেকে মানসিক চাপ কমিয়ে দেয়। ট্রফি জেতার চিন্তা না করে তিনি আবার খেলার আনন্দ উপভোগ করতে শুরু করেন। ধীরে ধীরে আত্মবিশ্বাস ফিরে আসে। আর তারই ফল জাপান ওপেনের সাফল্য।

জাপান ওপেন জয়ের পর আবেগাপ্লুত সিন্ধু বলেন, ‘এই শিরোপা আমার কাছে খুবই বিশেষ। দীর্ঘ সময় ধরে আমি কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে গিয়েছি। তাই এই জয় শুধু একটা ট্রফি নয়, নিজের উপর বিশ্বাস ফিরে পাওয়ারও গল্প।’

একজন ক্রিকেটারের পরামর্শ যে একজন ব্যাডমিন্টন তারকার কেরিয়ার ঘুরিয়ে দিতে পারে, সিন্ধুর এই স্বীকারোক্তি সেই কথাই আবারও প্রমাণ করে দিল। HB বিরাট কোহলির একটি সহজ বার্তা— খেলাটাকে আবার‰ ভালোবাসো’— শেষ পর্যন্ত সিন্ধুর কেরিয়ারে নতুন সূচনার পথ খুলে দিল।