অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে নামার জন্য ২৩ বছর অপেক্ষা করতে হয় বাংলাদেশকে। সেই অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে তারা সাদা পোশাকে নেমে প্রথম দিনেই চমক দিল। দুরন্ত বোলিংয়ে বিশ্বের এক নম্বর টেস্ট দল অস্ট্রেলিয়াকে ১৯৮ রানে গুটিয়ে দিল বাংলাদেশ। তার পর ব্যাট হাতেও দাপট দেখিয়ে প্রথম দিনের শেষে চালকের আসনে সফরকারী দল।
কয়েক দিন আগেই প্রস্তুতি ম্যাচে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ৫৪ রানে অলআউট হয়েছিল বাংলাদেশ। সেই ব্যর্থতার কোনও ছাপ অবশ্য দেখা গেল না ডারউইনে।
প্রথম টেস্টে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। শুরুটাও মন্দ হয়নি। প্রথম ঘণ্টায় বিনা উইকেটে ৪৫ রান তুলে ফেলেছিল অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু সেখান থেকেই ম্যাচের রং বদলে দেন হাসান মাহমুদ।
২৬ বছর বয়সি বাংলাদেশের পেসার ধস নামান অস্ট্রেলিয়ার টপ অর্ডারে। তাঁর বিধ্বংসী বোলিংয়ে শেষ পর্যন্ত ৫৫ রান দিয়ে ৬ উইকেট নেন মাহমুদ, যা টেস্ট ক্রিকেটে তাঁর সেরা বোলিং। টেস্টে বাংলাদেশের কোনো পেসারের এটি তৃতীয় সেরা বোলিংও।
অস্ট্রেলিয়ার হয়ে লড়াই করেন মূলত স্টিভ স্মিথ। শুরুতেই মাত্র দু’রানে স্লিপে তাঁর ক্যাচ পড়ে। শুরুতেই জীবন পাওয়ার পর ৭১ রান করেন তিনি। কিন্তু তাঁকে ছাড়া অস্ট্রেলিয়ার প্রথম সারির ব্যাটাররা প্রায় সকলেই ব্যর্থ।
জেক ওয়েদারাল্ড করেন ২৩। ট্রাভিস হেড ২২ রানে বোল্ড হয়ে ফেরেন। মার্নাস লাবুশেন ২০ বল খেলে করেন মাত্র ১ রান। ক্যামেরন গ্রিনের ব্যাট থেকেও আসে ১৩ বলে ১৩। অ্যালেক্স কেরির সঙ্গে স্মিথের ৫৫ রানের জুটিই কিছুটা সামাল দেয় অস্ট্রেলিয়াকে। কিন্তু সেই জুটি ভাঙার পর ফের ধস নামে।
হাসান মাহমুদের সঙ্গে এবাদত হোসেন ও তাসকিন আহমেদের বোলিংও অস্ট্রেলিয়ার উপর চাপ তৈরি করে। তাসকিনের দুরন্ত এক ডেলিভারিতে বোল্ড হন বিউ ওয়েবস্টার। শেষ দিকে আক্রমণে ফিরে অস্ট্রেলিয়ার লেজ গুটিয়ে দেন হাসান।
দিনের খেলার শেষে স্মিথ স্বীকার করে নেন, অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং প্রত্যাশা অনুযায়ী হয়নি। তাঁর কথায়, ‘হ্যাঁ, আজ আমাদের সেরা দিন ছিল না। তবে এখনও অনেক ক্রিকেট বাকি আছে। আরও কয়েকটি উইকেট নিতে পারলে ভাল হত। আশা করছি, সকালে ভাল শুরু করব, দ্রুত কয়েকটি উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের উপর চাপ তৈরি করতে পারব’।
বাংলাদেশের প্রথম উইকেট পড়ে ৩৬ রানে। শাদমান ইসলাম করেন ২০। তাঁকে আউট করেন মিচেল স্টার্ক। সেই উইকেটের পরে আর অস্ট্রেলিয়াকে কোনও সুযোগ দেননি ওপেনার তানজিদ হাসান ও তিন নম্বরে নামা মমিনুল হক।
দিনের শেষে তানজিদ ৩২ এবং মমিনুল ৩৫ রানে অপরাজিত। দ্বিতীয় উইকেটে দু’জনে ৬০ রানের জুটি গড়েছেন। বাংলাদেশের স্কোর এক উইকেটে ৯৬। অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসের থেকে এখনও ১০২ রানে পিছিয়ে থাকলেও হাতে রয়েছে নয় উইকেট।
স্টার্কের একটি ব্যক্তিগত কৃতিত্ব অবশ্য প্রথম দিনের অন্যতম ঘটনা। শাদমানকে আউট করার পরে বাঁহাতি বোলার হিসেবে টেস্টে সর্বাধিক উইকেট নেওয়ার তালিকায় রঙ্গনা হেরাথকে টপকে যান তিনি। তাঁর উইকেটসংখ্যা এখন ৪৩৪। ভারতীয় কিংবদন্তি কপিলদেবের টেস্ট উইকেটের সংখ্যাকেও ছুঁয়ে ফেললেন তিনি।
তবে দিনের শেষে সেই রেকর্ডও অস্ট্রেলিয়ার হতাশা ঢাকতে পারেনি। স্মিথের কথায়, ডারউইনের উইকেট সকালে শিশিরের কারণে কিছুটা ‘আঠালো’ ছিল। তাঁর আশা, দ্বিতীয় দিনের সকালেও বাংলাদেশের ব্যাটাররা একই রকম পরিস্থিতির মুখোমুখি হবেন।
কিন্তু প্রথম দিনের হিসাব বলছে অন্য কথা। অস্ট্রেলিয়ায় দীর্ঘ ২৩ বছর পরে টেস্ট খেলতে নেমে বাংলাদেশের পেস আক্রমণ বুঝিয়ে দিয়েছে, তারা শুধু এখানে অংশগ্রহন করতে আসেনি। হাসান মাহমুদের ছয় উইকেটের ঝড়ে প্রথম দিনের শেষে বরং চাপে প্যাট কামিন্সদের দল।




