এবারে রঞ্জি ট্রফি ক্রিকেটে শুরু থেকেই দারুণ ফর্মে রয়েছেন বিদর্ভের টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান আমন মোখাড়ে। ইতিমধ্যেই তিনি ৫২৭ রান করে সবার নজর কেড়ে নিয়েছেন। সাত ইনিংস খেলেছেন। তার মধ্যে রয়েছে তিনটি শতরান ও একটি অর্ধ শতরান। চলতি বিজয় হাজারে ট্রফিতেও আমনের দুরন্ত ভূমিকা দেখতে পাওয়া যাচ্ছে। তিনি যেন স্বপ্নের রথের সারথি হয়ে দলকে জিতিয়ে নিয়ে চলেছেন। গত বারের চ্যাম্পিয়ন কর্ণাটককে হারিয়ে বিজয় হাজারে ট্রফিতে ফাইনালে পৌঁছে গেছে আমনের বিদর্ভ। ফাইনালে খেলার ছাড়পত্র পাওয়ার পরেই বিদর্ভের খেলোয়াড়রা স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন, এবারে ট্রফি জেতার।
শুক্রবার বিজয় হাজারে ট্রফির হাই ভোল্টেজ সেমি ফাইনাল ম্যাচে বিদর্ভের খেলোয়াড়রা চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ৬ উইকেটে জয় তুলে নিয়েছে কর্ণাটকের সঙ্গে লড়াই করে। টসে জিতে করুণ নায়ার ও শ্রীজিৎরা ব্যাট করতে নামেন। কর্ণাটকের করুণ নায়ার ৭৬ ও শ্রীজিৎ ৫৪ রান করার সৌজন্যে কর্ণাটক ২৮০ রানে ইনিংস শেষ করে। বিদর্ভের হয়ে বল হাতে দারুণ পারফরম্যান্স দেখিয়ে কর্ণাটক শিবিরে ধস নামিয়ে দেন দর্শন নলকাণ্ডে। কর্ণাটকের ২৮০ রানের জবাবে বিদর্ভের খেলোয়াড়রা খুব সহজেই জয়ের জন্য রান তুলে নেন। বিশেষ করে ওপেনার অথর্ব তাইডে খুব তাড়াতাড়ি আউট হয়ে গেলেও আমন বড় ভূমিকা নিয়ে খেলতে থাকেন। শেষ পর্যন্ত আমন ১৩৮ রান করে বিদর্ভের জয়কে নিশ্চিত করে দেন। তাঁর সঙ্গে যোগ্য সঙ্গ দিয়ে রবিকুমার সমর্থ ৭৬ রান করে অপরাজিত থাকেন। ২২ বল বাকি থাকতেই ৪ উইকেট হারিয়ে ২৮৪ রান করে বিদর্ভের খেলোয়াড়রা জয়ের হাসি হাসে।
Advertisement
এদিকে বিদর্ভের ওপেনিং ব্যাটসম্যান ২৪ বছর বয়সী আমন মোখাড়ে দ্রুততম খেলোয়াড় হিসেবে হাজার রানের গণ্ডি পার করলেন। যার ফলে তিনি ইতিহাসের পাতায় নাম লিখিয়ে ফেললেন। মাত্র ১৬টি ইনিংসে শতরান করার কৃতিত্ব দেখালেন তিনি। এবারে বিজয় হাজারে ট্রফিতে শুরু থেকেই আমন সবার নজরে চলে এসেছিলেন। এমনকি বাংলার বিরুদ্ধে তাঁর ব্যাট থেকে শতরান আসে। আবার হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে ৮২ রানে আউট হলেও জম্মু ও কাশ্মীর, বরোদা, উত্তরপ্রদেশে ও কর্ণাটকের বিরুদ্ধে পরপর শতরান করে শিরোনামে উঠে এসেছেন তিনি। বলতে দ্বিধা নেই, এক পর্বে এতগুলি শতরান সর্বকালের রেকর্ড বলে বলা হচ্ছে। আমন যখন ৯৯ রান করেন, তখনই ৭৮১ রান করে সোনার আলোয় নাম লিখিয়েছেন। তবে আমন পারফরম্যান্স দেখালেও এখনও পর্যন্ত এই তরুণ ক্রিকেটারের সামনে জাতীয় দলে খেলার সুযোগ আসেনি। আমন এ বিষয়ে কোনও চিন্তিত নন। তিনি মনে করেন, আগামী দিনে নির্বাচকরা যদি আমাকে নির্বাচিত করেন জাতীয় দলের জন্য, তাহলে দেশের হয়ে ভালো খেলার চেষ্টায় কোনও ত্রুটি থাকবে না।
Advertisement
Advertisement



