• facebook
  • twitter
Tuesday, 10 March, 2026

গোদরেজের কীটনাশক ‘টাকাই’

সংস্থার ক্রপ প্রোটেকশন ব্যবসার সিইও এনকে রাজাভেলু বলেন, কার্যকর পোকা নিয়ন্ত্রণই ভারতীয় কৃষকের সাফল্যের অন্যতম চাবিকাঠি।

ভারতের অন্যতম শীর্ষ কৃষিভিত্তিক সংস্থা গোদরেজ এগ্রোভেট লিমিটেড কৃষকদের সহায়তায় বাজারে আনলো নতুন মাল্টি-ক্রপ কীটনাশক ‘টাকাই’। সংস্থার দাবি, এই নতুন কীটনাশক ধান-সহ একাধিক ফসলে ক্ষতিকর পোকামাকড়ের আক্রমণ দ্রুত নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম এবং দীর্ঘ সময় ধরে সুরক্ষা দেয়।

জাপানের ইশিহাড়া সংজ্ঞ কাইসা (আইএসকে)-র তৈরি সিক্লাপরিন প্রযুক্তির উপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছে এই কীটনাশক। মূলত লেপিডোপ্টেরান শ্রেণির শুঁয়োপোকা জাতীয় পোকামাকড়, যা ফসলের বড় ক্ষতি করে, সেগুলির বিরুদ্ধে এটি কার্যকর। বর্তমানে ধান, ভুট্টা, ছোলা এবং সয়াবিন ফসলের জন্য এই কীটনাশকের অনুমোদন মিলেছে। পাশাপাশি বাঁধাকপি ও লঙ্কা ফসলের ক্ষেত্রেও অনুমোদনের অপেক্ষা চলছে।

Advertisement

ভারতের ‘রাইস বোল’ হিসেবে পরিচিত পশ্চিমবঙ্গে বছরে প্রায় ১৫ মিলিয়ন টন ধান উৎপাদিত হয়। কিন্তু বিভিন্ন ধরনের পোকামাকড়ের আক্রমণে কৃষকেরা বড় ক্ষতির মুখে পড়েন। ধানের ক্ষেত্রে ইয়েলো স্টেম বোরার ও লিফ ফোল্ডার আক্রমণে অনেক সময় ২০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত ফলন কমে যেতে পারে। ভুট্টা ফসলে ফল আর্মিওয়ার্মের আক্রমণে ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত ক্ষতি হয়, যা গুরুতর অবস্থায় ৬০ শতাংশেরও বেশি হতে পারে। সয়াবিন ও সবজি ফসলেও অনুরূপ ক্ষতির আশঙ্কা থাকে।

Advertisement

সংস্থার ক্রপ প্রোটেকশন ব্যবসার সিইও এনকে রাজাভেলু বলেন, কার্যকর পোকা নিয়ন্ত্রণই ভারতীয় কৃষকের সাফল্যের অন্যতম চাবিকাঠি। ‘টাকাই’ দ্রুত পোকামাকড়ের খাদ্যগ্রহণ বন্ধ করে দেয় এবং দীর্ঘ সময় ধরে ফসলকে সুরক্ষা দেয়, ফলে কৃষকেরা ভালো মানের এবং বেশি ফলন পেতে পারেন।

ধানের ক্ষেত্রে ১৫ থেকে ৩০ দিন বয়সে এবং আবার ৪০ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে ১৬০ মিলিলিটার ডোজে এই কীটনাশক প্রয়োগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অন্যান্য ফসলের ক্ষেত্রেও একই মাত্রা ব্যবহার করা যেতে পারে।

এর আগে ভুট্টার জন্য ‘আশিতাকা’ নামে একটি হার্বিসাইড বাজারে এনেছিল সংস্থাটি। নতুন ‘টাকাই’ বাজারে আনার মাধ্যমে কৃষকদের জন্য আরও উন্নত ও টেকসই কৃষি সমাধান তৈরির প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করল সংস্থাটি।

Advertisement