নিউ জার্সিতে ফরাসি বিপ্লব। বিশ্বকাপের রাউন্ড অফ ৩২ এর ম্যাচে সুইডেনকে ৩-০ গোলে হারিয়ে প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে উঠল ফ্রান্স। নেপথ্যে সেই কিলিয়ান এমবাপে। মঙ্গলবার রাতে অবশ্য তাঁকে যোগ্য সঙ্গত দিলেন মাইকেল ওলিস। পাশাপাশি, বিশেষ প্রশংসা করতেই হয় কোচ দিদিয়ের দেশঁর। ম্যাচে সুইডেনকে ন্যূনতম সুযোগটুকু দেননি তিনি। বরং, শুরু থেকে শেষপর্যন্ত দাপট দেখিয়ে গেলেন এমবাপেরা। যদিও, একতরফা ম্যাচে প্রথম গোল পেতে অবশ্য ফ্রান্সকে অপেক্ষা করতে হলো প্রথমার্ধের শেষ পর্যন্ত।
তবে, ম্যাচের ২০ মিনিটে অফসাইডের কারণে এমবাপের একটি গোল বাতিল হয়। এরপর ৩২ মিনিটে ওলিসের পাস থেকে এমবাপের শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। এর মিনিট চারেক পরে ওলিসের বাইসাইকেল কিকও প্রতিহত হয় সেই পোস্টেই। একইসঙ্গে, বিশেষ প্রশংসা করতেই হয় সুইডিশ গোলরক্ষক উইডেল জেটারস্ট্রমের। ম্যাচে দলের হয়ে বেশকিছু নিশ্চিন্ত পতন রোধ করেন তিনি।
অবশেষে, প্রথমার্ধের ৪৫ মিনিটে কর্নার থেকে উসমান ডেম্বেলের পাস ধরে দুই ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে গোল করে যান এমবাপে। তাঁর করা একমাত্র গোলে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় ফ্রান্স। এই প্রসঙ্গে বলা যায়, চলতি বিশ্বকাপে এটা ছিল এমবাপের পঞ্চম গোল। যারফলে, বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি গোল করার ইতিহাসে তিনি টপকে গেলেন জার্মান কিংবদন্তি মিরাস্লোভ ক্লোজেকে। শুধু তাই নয়, বিশ্বকাপের নকআউটে ন’টি গোল করে সর্বাধিক গোল করার নজিরও গড়ে ফেললেন ফরাসি এই তারকা।
বিরতির পর গোল ব্যবধান বাড়ানোর লক্ষ্যে আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে দেশঁর দল। ৫৩ মিনিটে ওলিসের নিখুঁত পাস থেকে ব্যবধান বাড়ান ব্র্যাডলি বার্কোলা। ৭৪ মিনিটে ওলিসের ডিফেন্স চেরা থ্রু পাস ধরে নিজের দ্বিতীয় ও দলের হয়ে তৃতীয় গোলটি করে যান এমবাপে। তাঁর এই গোলের ফলে নতুন নজির তৈরী করলেন ওলিস। পাঁচটি অ্যাসিস্ট করে চলতি বিশ্বকাপে সর্বাধিক গোল করানোর নজির গড়েছেন তিনি।
এদিকে, জোড়া গোলের সুবাদে বিশ্বকাপে এমবাপের মোট গোলসংখ্যা দাঁড়াল ১৮। ফলে, বিশ্বকাপে মোট গোলের বিচারে লিওনেল মেসির (১৯) ঠিক পিছনেই রয়েছেন তিনি। চলতি আসরে ইতিমধ্যেই ছয় গোল করে সোনার বুটের লড়াইয়েও মেসির সঙ্গে রয়েছেন ফরাসি তারকা।
বিষয়টি নিয়ে ম্যাচ শেষে এমবাপে জানান, ব্যক্তিগত রেকর্ড নয়, দলের সাফল্যই তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, আগামী ১৯ জুলাই নিউ জার্সিতে ফাইনাল খেলাই বর্তমানে তাঁর একমাত্র লক্ষ্য। যদিও এজন্য যে তারা ধাপে ধাপে এগোতে চান, সেকথাও জানাতে ভোলেননি। একইসঙ্গে এমবাপে বলেন, মেসি কত গোল করছে, সে দিকে আপাতত নজর দিতে চান না। তাঁর মতে, এখন প্যারাগুয়ের বিরুদ্ধে প্রি-কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচে আরও উন্নতি করাই তাঁদের প্রধান লক্ষ্য। অন্যদিকে, মায়ের মৃত্যুর পর এই প্রথমবার ফ্রান্সের ডাগআউটে ফিরলেন কোচ দিদিয়ের দেশঁ। সুইডেনের বিপক্ষে এই ম্যাচে দলের পারফরম্যান্স নিয়ে সন্তুষ্ট হলেও প্রথমার্ধে একাধিক সুযোগ নষ্ট হওয়ার একটা আক্ষেপ শোনা গেল তাঁর গলায়।
প্রি-কোয়ার্টারে প্যারাগুয়ের মুখোমুখি হবে ফ্রান্স। রাউন্ড অফ ৩২ এর ম্যাচে জার্মানিকে হারিয়ে দিয়েছে লাতিন আমেরিকার এই দলটি। ফলে, শেষ আটে যাওয়ার লড়াইটা যে দেশঁ’র দলের জন্য খুব একটা সহজ হবে না তা বলাই বাহুল্য।




