ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে রাজনৈতিক টানাপোড়েনে খেলার মাঠ বাদ যায়নি।যার ফলে বিভিন্ন মেগা টুর্নামেন্টে দুই দলের অধিনায়করা করমর্দন করতে অস্বীকার করছেন। এমনকি শ্রীলঙ্কার মাঠে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে গ্রুপের খেলায় ভারত ও পাকিস্তানের অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব ও সলমন আলি আঘা টস করলেও দু’জনে হাত মেলাননি। কিন্তু এই ঘটনা যেভাবে মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে, তা কখনওই মেনে নেওয়া সম্ভব নয়।
অন্যদিকে, পাকিস্তানের প্রাক্তন অধিনায়ক তথা প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান জেলবন্দি। জানা গিয়েছে, বর্তমানে গুরুতর অসুস্থ তিনি। জেলবন্দি ইমরানের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিয়েছেন সুনীল গাভাসকার ও কপিল দেবরা। পাকিস্তানের শাহবাজ় শরিফ সরকারকে চিঠি লিখেছেন বিভিন্ন দেশের মোট ১৪ ক্রিকেটার।
Advertisement
সেখানে গাভাসকার ও কপিল দেব ছাড়া চিঠিতে সই করেছেন গ্রেগ চ্যাপেল, মাইকেল আথারটন, অ্যালান বর্ডার, মাইক ব্রিয়ারলি, ইয়ান চ্যাপেল, বেলিন্ডা ক্লার্ক, ডেভিড গাওয়ার, কিম হিউজ, নাসের হুসেন, ক্লাইভ লয়েড, স্টিভ ওয় ও জন রাইট। তাঁদের মধ্যে অনেকেই ইমরানের বিরুদ্ধে খেলেছেন। কিন্তু কঠিন সময়ে প্রতিপক্ষ অধিনায়কের পাশে রয়েছেন তাঁরা।
Advertisement
গাভাসকার লিখেছেন, ‘পাকিস্তানের প্রাক্তন অধিনায়ক, কিংবদন্তি ক্রিকেটার ইমরান খানের স্বাস্থ্য নিয়ে আমরা গভীর ভাবে উদ্বিগ্ন। ক্রিকেট তাঁর অবদান অপরিসীম। অধিনায়ক হিসাবে উনি পাকিস্তানকে ১৯৯২ সালে বিশ্বকাপ এনে দিয়েছেন। আমাদের মধ্যে অনেকেই ইমরানের বিরুদ্ধে খেলেছি। কিন্তু তাঁর প্রতিভা, দক্ষতা ও প্রতিযোগিতামূলক মানসিকতা নিয়ে আমাদের কোনও সন্দেহ নেই। বিশ্বক্রিকেটের সেরা অলরাউন্ডারদের মধ্যে ইমরান একজন। ক্রিকেটের পাশাপাশি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বও উনি সামলেছেন। তাঁর রাজনৈতিক মনোভাব যা-ই হোক না কেন, পাকিস্তানের রাজনীতিতে উনি বড় নাম।’
ইমরান খানের স্বাস্থ্যের কথা জানার পরে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রাক্তন ক্রিকেটারেরা লিখেছেন, ‘গত আড়াই বছর ধরে জেলে থাকাকালীন ইমরানের শরীর খারাপের খবর সামনে এসেছে। বিশেষ করে ওঁর দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়ার খবর পেয়েছি। আমরা মনে করি, ইমরানের মতো এক ব্যক্তিত্বের সঙ্গে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি রেখে আচরণ করা হোক। আমরা পাকিস্তানের সরকারকে অনুরোধ করছি, ইমরানকে দ্রুত ও যথোপযুক্ত চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া হোক। আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেটারের জন্য আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসার ব্যবস্থা করুক প্রশাসন। ওঁর সঙ্গে নিয়মিত পরিবারকে সাক্ষাৎ করতে দেওয়া হোক। ওঁর শারীরিক অবস্থার কথা প্রতিনিয়ত সকলকে জানানো হোক।’
গাভাসকারদের এই চিঠি নিয়ে অবশ্য পাকিস্তান সরকার এখনও কিছু জানায়নি। ভারত ও পাকিস্তানের প্রাক্তন ক্রিকেটারদের সম্পর্কের যে কোনও অবনতি হয়নি তা চলতি বিশ্বকাপেই দেখা গিয়েছে। যেখানে দু’দেশের ক্রিকেটারেরা নিজেদের মধ্যে কথা বলছেন না, হাত মেলাচ্ছেন না, সেখানে ধারাভাষ্যকারের ভূমিকায় থাকা গাওস্করের সঙ্গে পাকিস্তানের দুই প্রাক্তন ক্রিকেটার ওয়াসিম আক্রম ও ওয়াকার ইউনিস খোশমেজাজে কথা বলছেন। এমনকি, টি-টোয়েন্টি ও টেস্ট থেকে অবসর নেওয়া রোহিত শর্মাকেও দেখা গিয়েছে আক্রমকে জড়িয়ে ধরতে। গাভাসকাররা আরও এক বার দেখালেন, খেলার মাঠের লড়াই খেলার মাঠেই রেখে আসা উচিত। তার মধ্যে রাজনীতি ঢোকানো উচিত নয়।
প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের অগস্ট মাস থেকে আদিয়ালা জেলে বন্দি পাকিস্তানের জাতীয় ক্রিকেট দলের প্রাক্তন অধিনায়ক ইমরান। গত বছরের ২৪ মার্চ ইসলামাবাদ হাই কোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল যে, সপ্তাহে দু’দিন জেলে গিয়ে ইমরানের সঙ্গে দেখা করতে পারবেন তাঁর পরিবারের সদস্যেরা। ইমরানের বোন আলিমার অভিযোগ, হাই কোর্টের ওই নির্দেশের পরেও পরিবারের কাউকে ইমরানের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না। আদিয়ালা জেলের সুপারের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ জানিয়েছেন ইমরানের বোন। ইসলামাবাদ হাই কোর্টে সেই আবেদন বিবেচনাধীন। তার মধ্যেই চোখের সমস্যায়
ভুগছেন ‘ক্যাপ্টেন’।
Advertisement



