টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পরেই ভারতের মাটিতে আড়াই মাস ধরে চলবে আইপিএল ক্রিকেট। এই টুর্নামেন্টকে ঘিরে নিশ্চয়ই ক্রিকেটপ্রেমীদের উৎসাহ থাকবে এবং সেই সঙ্গে খেলোয়াড়দের মধ্যেও চ্যালেঞ্জিং মনোভাব দেখতে পাওয়া যাবে। এই প্রতিযোগিতা শেষ হওয়ার পরেই ভারতীয় দলের ক্রিকেটারদের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার জন্য ব্যস্ততা দেখতে পাওয়া যাবে। অর্থাৎ টেস্ট, একদিনের ক্রিকেট ও টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ঠাসা সূচিতে অংশ নিতে দেখতে পাওয়া যাবে ভারতীয় ক্রিকেটারদের। একই সময়ের মধ্যে ভারতের দু’টি আলাদা এবং দু’টি আলাদা প্রতিযোগিতায় ভারতের খেলোয়াড়রা অংশ নেবেন।
প্রথমে আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে যেমন খেলা হবে, তারপরে শ্রীলঙ্কা এবং জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে সিরিজ খেলবে ভারতীয় দল। এছাড়াও ইংল্যান্ড, বাংলাদেশ এবং নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ভারতীয় দল খেলবে, তা আগেই ঘোষণা হয়ে গিয়েছে। আগামী জুলাই-আগস্ট মাসে শ্রীলঙ্কার মটিতে দু’টি টেস্ট ম্যাচ খেলবে ভারতীয় দল। এছাড়াও অতিরিক্ত তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচও হতে পারে। শ্রীলঙ্কায় গত বছর ঘূর্ণি ঝড়ে যে সমস্ত মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাঁদের জন্য বিশেষ ক্রিকেট খেলার বন্দোবস্ত করা হয়েছে। ভারত ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ থেকে প্রাপ্ত অর্থ ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।
Advertisement
ভারতীয় ক্রিকেট দলের সূচি শুরু হচ্ছে জুন মাসে। দেশের মাটিতে আফগানিস্তানের সঙ্গে সিরিজ দিয়ে ভারতের খেলা শুরু। একটি টেস্ট এবং তিনটি এক দিনের ম্যাচ হবে। এর পর ১-১৯ জুলাই ইংল্যান্ড সফরে যাবে ভারতে। সেখানে তিনটি এক দিনের ম্যাচ এবং পাঁচটি টি-টোয়েন্টি খেলবে তারা। তার আগে জুনের শেষে আয়ারল্যান্ডে ছোট সফর হতে পারে। অতীতে (২০১৮, ২০২২, ২০২৩) আয়ারল্যান্ড বোর্ডের অনুরোধে সে দেশে গিয়ে সিরিজ খেলেছে ভারত। এ বারও আলোচনা চলছে একটি সিরিজ খেলার।
Advertisement
শ্রীলঙ্কা সিরিজের পরের সূচি তৈরি করতে গিয়ে ভারতীয় বোর্ডের মাথার ঘাম পায়ে ফেলার জোগাড়। সেপ্টেম্বরে আমিরশাহিতে আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ রয়েছে। ওই মাসটি ভারতীয় ক্রিকেটের ব্যস্ততম সময়। সেই মাসেই বাংলাদেশের বিরুদ্ধে তিনটি এক দিনের ম্যাচ এবং তিনটি টি-টোয়েন্টি রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক সম্পর্কের জেরে সেই সফর ভারত সরকারের অনুমোদনের অপেক্ষায়।
সেই মাসেই জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ় হওয়ার কথা। যদিও তা এখনও আনুষ্ঠানিক ভাবে ঘোষণা করা হয়নি। একই মাসে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ভারতে আসবে তিনটি এক দিনের ম্যাচ এবং পাঁচটি টি-টোয়েন্টি সিরিজ় খেলতে।
সেপ্টেম্বর মাসেই রয়েছে এশিয়ান গেমস। সেখানে খেলা হবে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে। ভারত গত বারের চ্যাম্পিয়ন। ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত এশিয়াড চলার কথা। ফলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, যেখানে জাপানে ভারতের টি-টোয়েন্টি দল খেলতে নামবে এবং দেশের মাটিতে আর একটি দল ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বিরুদ্ধে এক দিনের সিরিজ খেলবে।
১৮ অক্টোবর নিউ জ়িল্যান্ড পৌঁছনোর কথা ভারতের। সেখানে পাঁচটি এক দিনের ম্যাচ, পাঁচটি টি-টোয়েন্টি এবং দু’টি টেস্ট খেলবে ভারত। সাদা বলের সিরিজ়ের পর টেস্ট সিরিজ হবে।
ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে দেশে ফিরবে ভারত। দেশে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে তিনটি করে এক দিনের ম্যাচ এবং টি-টোয়েন্টি খেলবে তারা। আগামী বছর জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসে চলবে ভারত-অস্ট্রেলিয়া সিরিজ।
Advertisement



