প্রবল চাপের মুখে সিদ্ধান্ত বদলাতে বাধ্য হল বিশ্ব ফুটবলের নিয়ামক সংস্থা ফিফা। বিশ্বকাপ শুরুর মাত্র কয়েক দিন আগে এক বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রবল সমালোচনার মুখে পড়েছিল ফিফা। নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে স্টেডিয়ামে বাইরে থেকে পুনর্ব্যবহারযোগ্য জলের বোতল নিয়ে স্টেডিয়ামে ঢোকা নিষিদ্ধ করেছিল ফিফা। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা হল।
সমর্থক, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এবং বিভিন্ন মহলের তীব্র বিরোধিতার মুখে শেষ পর্যন্ত নতুন নির্দেশিকা জারি করতে বাধ্য হয়েছে ফিফা। পরিবর্তিত নির্দেশিকা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের ম্যাচগুলোতে দর্শকেরা একটি সিল করা নরম প্লাস্টিকের পানীয় জলের বোতল স্টেডিয়ামে নিয়ে যেতে পারবেন। বোতলে সর্বোচ্চ ৫৯০ মিলিলিটার জল থাকতে পারবে। তবে ধাতব বা শক্ত প্লাস্টিকের পুনর্ব্যবহারযোগ্য বোতল এখনও নিষিদ্ধই থাকছে।
বিতর্কের সূত্রপাত কয়েক দিন আগে। প্রথমে ফিফা জানিয়েছিল, খালি ও স্বচ্ছ পুনর্ব্যবহারযোগ্য বোতল স্টেডিয়ামে আনার অনুমতি থাকবে। কিন্তু বিশ্বকাপ শুরুর এক সপ্তাহ আগে আচমকাই নিয়ম বদলে সব ধরনের পুনর্ব্যবহারযোগ্য বোতল নিষিদ্ধ করা হয়। ফিফার যুক্তি ছিল, বোতল ছুড়ে মারলে খেলোয়াড় বা দর্শকদের আঘাত লাগতে পারে।
এই সিদ্ধান্তের পরই ক্ষোভে ফেটে পড়েন সমর্থকেরা। বিশেষ করে উত্তর আমেরিকায় গ্রীষ্মের তাপপ্রবাহের মধ্যে দীর্ঘ সময় স্টেডিয়ামে থাকা দর্শকদের স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। ফুটবল সমর্থক সংগঠনগুলো অভিযোগ তোলে, এই সিদ্ধান্তে ডিহাইড্রেশন ও হিটস্ট্রোকের আশঙ্কা বাড়বে।
এমনকী, এই বিতর্ক রাজনৈতিক মহলেও পৌঁছে যায়। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টার্মার প্রকাশ্যে ফিফার সিদ্ধান্তকে “ভুল” বলে মন্তব্য করেন। তাঁর অভিযোগ, নিরাপত্তার চেয়ে বাণিজ্যিক স্বার্থই যেন বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।
ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে অবশেষে অবস্থান বদলায় ফিফা। বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সিএও হেইমো শিরগি জানান, দর্শকদের নিরাপত্তা এবং স্বাস্থ্য—দুই দিকই বিবেচনা করে নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে স্টেডিয়ামের বাইরে ও আশপাশে হাইড্রেশন স্টেশন, মিস্টিং জোন এবং কুলিং টেন্টের ব্যবস্থাও রাখা হবে।
তবে বিতর্ক পুরোপুরি থামেনি। পরিবেশবিদদের প্রশ্ন, পুনর্ব্যবহারযোগ্য বোতল নিষিদ্ধ রেখে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের বোতল অনুমোদন করা কতটা যৌক্তিক? অন্যদিকে সমর্থকদের একাংশের দাবি, ফুটবল বিশ্বকাপের মতো আন্তর্জাতিক আসরে দর্শকদের সুবিধা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি শুরু থেকেই আরও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত ছিল।
বিশ্বকাপে বল গড়ানোর আগেই তাই বোঝা গেল, মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি সংগঠকদের সিদ্ধান্তও এবার আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে।




