জয়টা হাতের মুঠোয় চলে এসেছিল। প্রথমার্ধেই ২-০ এগিয়ে গিয়েছিল ইস্টবেঙ্গল (East Bengal) । কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়িয়ে শেষ পর্যন্ত ম্যাচটা ২-২ করে ফেলে জর্ডনের ক্লাব আল হুসেইন ( Al Hussein)। ফলে এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ২-এর গ্রুপ ডি-র প্রথম ম্যাচ থেকে এক পয়েন্ট নিয়েই ফিরতে হচ্ছে লাল-হলুদ বাহিনীকে।
মাসদুয়েক আগে বিশ্বকাপে খেলে আসা ফুটবলারদের বিরুদ্ধে বুধবার রাতে দুরন্ত লড়াই করেন মহম্মদ রশিদ, আনোয়ার আলিরা। প্রথম এগারোর একাধিক তারকা ছাড়াই এসিএল ২-এ নিজেদের প্রথম ম্যাচ ড্র করে ইস্টবেঙ্গল (East Bengal) । বিদেশের মাটি থেকে এল এক পয়েন্ট।
বুধবার আম্মান ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়ামে জর্ডনের প্রো লিগ চ্যাম্পিয়ন আল হুসেইনের বিরুদ্ধে দারুণ শুরু করেছিল ইস্টবেঙ্গল (East Bengal) । ম্যাচের মাত্র ৯ মিনিটে এগিয়ে যায় তারা। এডমন্ড লালরিন্দিকার শট বিপজ্জনক ভাবে বাউন্স করে আল হুসেইনের ( Al Hussein) গোলরক্ষক ইয়াজিদ আবুলাইলার হাতে। তিনি বল পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারায় সামনে ছিটকে আসে বল। সুযোগ কাজে লাগিয়ে গোল করেন ড্যানিয়েল রামিরেজ।
এর পর অবশ্য ঘরের মাঠে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা শুরু করে আল হুসেইন ( Al Hussein)। আরেফ হাইথামের শট অল্পের জন্য বাইরে চলে যায়। পেদ্রো হেনরিকের শক্তিশালী হেডও আটকে দেন ইস্টবেঙ্গল গোলরক্ষক প্রভসুখন সিং গিল। ফলে চাপ সামলেও নিজেদের গোলের দরজা বন্ধ রেখেছিল লাল-হলুদ।
৩৮ মিনিটে পাল্টা আক্রমণ থেকে দ্বিতীয় গোলের সুযোগ পায় ইস্টবেঙ্গল (East Bengal) । জয় গুপ্তার পাসে বক্সে বল পান লালরিন্দিকা। কিন্তু গোলের সামনে থেকে নেওয়া তাঁর শট বারের উপর দিয়ে চলে যায়।
তবে দু’মিনিট পরেই দ্বিতীয় গোল করে তারা। ডান দিক থেকে রামিরেজের কর্নার ঠিকমতো বুঝতে পারেননি আবুলাইলা। বল প্রথমে আনোয়ারের মাথায় লেগে ও পরে তাঁর গায়ে লেগে জালে ঢুকে যায়। গোলটি শেষ পর্যন্ত অনোয়ার আলির নামে লেখা হয়। প্রথমার্ধের শেষে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল ইস্টবেঙ্গল।
কিন্তু বিরতির পর ছবিটা বদলে যায়। গোল শোধ করতে মরিয়া হয়ে ওঠে আল হুসেইন। সদ্য বিশ্বকাপ খেলে আসা ইয়াজিদ আবুলায়লা, সালিম ওবেদ এবং মাহমুদ আল মারদি ছিলেন যাদের প্রথম একাদশে। মাহমুদ খেলেছেন আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধেও। আক্রমণের ঝাঁঝ বাড়ায় তারা। ৬১ মিনিটে তার ফলও পায়। হার্দিক ভট্টের কাছ থেকে বল কেড়ে বক্সে ঢুকে পড়েন খারুবা। তাঁর কাটব্যাক থেকে অধিনায়ক মাহমুদ আল মারদি গোল করে ব্যবধান কমান।
শেষ পর্যন্ত ৮৭ মিনিটে সমতা ফেরায় জর্ডনের দল। বাঁ দিক থেকে ওবেইদা আল নামারনাহর ক্রস পেয়ে বল জালে পাঠান আহমদ আসাফ। ২-২ হয়ে যায় ম্যাচ। ২-২ হয়ে যাওয়ার পর ফের গোল করে তিন পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়া ইস্টবেঙ্গলের পক্ষে প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে নিশ্চিত হয়ে যায় জর্ডন থেকে এক পয়েন্ট নিয়েই ফিরতে হচ্ছে লাল-হলুদকে।
ম্যাচের একটা বড় সময় পর্যন্ত জয়টা ইস্টবেঙ্গলের (East Bengal) হাতের মুঠোয় ছিল। ২-০ থেকে ২-২—এই স্কোরলাইন শুধু দুই পয়েন্ট হারানোর গল্প নয়, ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ কী ভাবে ধীরে ধীরে হাতছাড়া হয়েছে, তারও প্রতিচ্ছবি। সমর্থকদের আক্ষেপ থাকবে এখানেই।
জর্ডনের এই রাতে ইস্টবেঙ্গল ইতিহাস গড়তে পারত। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা হয়ে রইল এক আফসোসের গল্প।
তবে এই ড্রয়ের ফলে এশিয়ার দ্বিতীয় সারির ক্লাব লিগ এসিএল-২-এ এক ভারতীয় ক্লাব হিসেবে একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির তৈরি করল ইস্টবেঙ্গল (East Bengal) । ২০২৪-২৫ মরসুমে এই লিগের নতুন নামকরণের পর এই প্রথম কোনও ভারতীয় ক্লাব গ্রুপ পর্বে এক পয়েন্ট পেল।
অগাস্টে প্রাথমিক পর্বের গণ্ডী পেরিয়ে গ্রুপ পর্বে জায়গা করে নিয়েছিল ইস্টবেঙ্গল (East Bengal) । এবার তাদের সামনে পরের পরীক্ষা আরও কঠিন। গ্রুপ ডি-র দ্বিতীয় ম্যাচে ১৩ অক্টোবর যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ইরাকের আল-শর্তার বিরুদ্ধে খেলবে লাল-হলুদ।
দেখুন: কলকাতার কলামন্দিরে গ্রামীণ সাংবাদিকতা ও পরিবেশ রিপোর্টিংয়ে সেরাদের সম্মান দ্য স্টেটসম্যানের




