যত কেলেঙ্কারি এখন ডোপ পরীক্ষা নিয়ে। কয়েকদিন আগেই কুস্তিগীর বিনেশ ফোগত ডোপ পরীক্ষায় বসতে না চাওয়ায় জাতীয় পর্যায়ে কোনও প্রতিযোগিতায় খেলার ছাড়পত্র পেলেন না। এবারে একই রকম দৃশ্যপট তৈরি হল ক্রিকেটে। পূর্বনির্ধারিত নিয়মানুসারে ডোপ পরীক্ষায় ডাকা হয়েছিল ক্রিকেটার যশস্বী জয়সওয়াল ও শেফালি বর্মাকে। ডোপ পরীক্ষায় তাঁরা অংশ না নেওয়ায় তাঁদের বিরুদ্ধে নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগ করা হয়েছে। এমনকি ন্যাশনাল অ্যান্টি ডোপিং এজেন্সি (নাডা) ভারতীয় দলের দুই ক্রিকেটারকে নোটিশ পাঠিয়েছে। এই বিষয়টি ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের কাছে পৌঁছে গিয়েছে।
নাডার তালিকায় থাকা ক্রীড়াবিদদের নির্দিষ্ট সূচি অনুযায়ী ডোপ পরীক্ষা দিতে হয়। আগামী জানাতে হয় গতিবিধি। সেই মতো নির্দিষ্ট সময় নাডার কর্মীরা নমুনা সংগ্রহ করেন। নাডা সূত্রে জানা গিয়েছে, যশস্বীর পরীক্ষা দেওয়ার কথা ছিল গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর। শেফালির নমুনা দেওয়ার কথা ছিল গত বছরের ৭ নভেম্বর। ওই সময় তাঁরা যে স্থানে থাকবেন বলে জানিয়েছিলেন, সেই স্থানে নাডার কর্মীরা গিয়েও তাঁদের পাননি। এর পর কেন তাঁদের গড়হাজিরা, তা নিয়ে ব্যাখ্যা চেয়ে পাঠান নাডা কর্তৃপক্ষ। যশস্বীকে চিঠি দেওয়া হয় গত ১৮ ফেব্রুয়ারি। শেফালিকে গত ২০ ফেব্রুয়ারি। অভিযোগ, সেই চিঠিরও জবাব দেননি ভারতীয় দলের দুই ক্রিকেটার।
Advertisement
ডোপ পরীক্ষা নিয়ে দুই ক্রিকেটার এমন মানসিকতায় ক্ষুব্ধ নাডা কর্তৃপক্ষ। তাই এ বার তাঁদের নোটিস পাঠানো হল। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরীক্ষা না দেওয়ার যুক্তিগ্রাহ্য জবাব দিতে হবে তাঁদের। নাডা কর্তৃপক্ষ বিষয়টিতে নিয়মভঙ্গ হিসাবে দেখছেন। জানানো হয়েছে বিসিসিআইকেও।
Advertisement
নিয়ম অনুযায়ী, কোনও ক্রীড়াবিদ ১২ মাসের মধ্যে তিন বার ডোপ পরীক্ষা এড়িয়ে গেলে শাস্তির মুখে পড়েন। তাই ধরে নেওয়া হয়, সংশ্লিষ্ট ক্রীড়াবিদ নিষিদ্ধ কোনও মাদক ব্যবহার করেছেন এমন সন্দেহ তৈরি হয়। সেক্ষেত্রে দু’বছর পর্যন্ত নির্বাসিত করা হয় অভিযুক্ত ক্রীড়াবিদকে। শাস্তি ঘোষণার আগে শুনানিতে অবশ্য ক্রীড়াবিদদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়ে থাকে।
যশস্বী জয়সওয়াল এখন রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে আইপিএল খেলছেন। শেফালি বর্মা ব্যস্ত রয়েছেন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রস্তুতিতে। এখনই তাঁদের শাস্তি হবে না। কারণ দু’জনের বিরুদ্ধেই প্রথম বার পরীক্ষা বা নমুনা না দেওয়ার অভিযোগ উঠল।
Advertisement



