• facebook
  • twitter
  • youtube
Monday, 29 June, 2026

শেষ মুহূর্তের গোলে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় উঠে ইতিহাস আয়োজক কানাডার, পরের রাউন্ডে কাদের মুখোমুখি?

দক্ষিণ আফ্রিকাকে ১-০ গোলে হারিয়ে ফিফা বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ইতিহাস গড়ল কানাডা

শেষ মুহূর্তের গোলে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় উঠে ইতিহাস আয়োজক কানাডার, পরের রাউন্ডে কাদের মুখোমুখি?

সংযুক্ত সময়ের শেষ মুহূর্তে স্টিফেন ইউস্তাকিওর করা জয়সূচক গোলের সৌজন্যে রবিবার দক্ষিণ আফ্রিকাকে ১-০ গোলে হারিয়ে ফিফা বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ইতিহাস গড়ল কানাডা। এই জয়ের ফলে অন্যতম আয়োজক দেশটি তাদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় জায়গা করে নিল।

দুই দলই এই প্রথম বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে খেলতে নেমেছিল। নির্ধারিত সময়ের খেলা অতিরিক্ত সময়ে গড়াবে বলেই মনে হচ্ছিল। কিন্তু সেই সময়ই বক্সের ঠিক বাইরে থেকে দুর্দান্ত এক নিখুঁত শটে দক্ষিণ আফ্রিকার স্বপ্নভঙ্গ করেন ইউস্তাকিও।

গ্রুপে শীর্ষস্থান অর্জন করতে না পারায় আয়োজক হওয়া সত্ত্বেও লস অ্যাঞ্জেলিসে খেলতে হয়েছিল কানাডাকে। এবার শেষ ষোলোয় হিউস্টনে ৪ জুলাই তাদের প্রতিপক্ষ হবে নেদারল্যান্ডস অথবা মরক্কো। অন্যদিকে, এই হারের ফলে শেষ হয়ে গেল দক্ষিণ আফ্রিকার এবারের বিশ্বকাপ অভিযান।

ম্যাচের আগে কানাডার কোচ জেসি মার্শ দলের তারকা ফুটবলার আলফোনসো ডেভিসের ‘এক্স-ফ্যাক্টর’-এর কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেছিলেন। হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট সারিয়ে তিনি আবার খেলার জন্য উপলব্ধ ছিলেন।

তবে বায়ার্ন মিউনিখের এই উইং-ব্যাক, যিনি এবারের বিশ্বকাপে এখনও একটি ম্যাচও খেলেননি, তাঁকে শুরুর এগারোয় দেখা যায়নি।
তবুও ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে কানাডা। দক্ষিণ আফ্রিকার রক্ষণাত্মক কৌশলের বিরুদ্ধে একের পর এক সুযোগ তৈরি করে তারা।

অন্যদিকে, দক্ষিণ আফ্রিকা মাঝেমধ্যে পাল্টা আক্রমণে বিপদ তৈরি করছিল। তবে প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার ঠিক আগে এক উত্তেজনাপূর্ণ সময়ে গোলের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল কানাডা।

একটি কর্নার থেকে মইজ বম্বিতোর হেড গোললাইন থেকেই ক্লিয়ার করা হয়। এরপর রিবাউন্ডে তাজন বুকানানের শট দুর্দান্তভাবে রুখে দেন দক্ষিণ আফ্রিকার গোলরক্ষক রনওয়েন উইলিয়ামস।

কিছুক্ষণ পরই বিপজ্জনকভাবে এগিয়ে যাওয়া রিচি লারিয়াকে ধাক্কা দেন খুলিসো মুদাউ। কিন্তু পেনাল্টির জোরালো আবেদন নাকচ করে দেন ম্যাচ রেফারি। এতে গ্যালারিতে উপস্থিত বিপুল সংখ্যক কানাডিয়ান সমর্থক ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। দ্বিতীয়ার্ধে দক্ষিণ আফ্রিকা যখন নিজেদের অর্ধে ছোট ছোট পাস খেলেই সময় নষ্ট করতে থাকে, তখন দর্শকদের কটাক্ষ আরো জোরালো হয়ে ওঠে।

ম্যাচের এক ঘণ্টা পার হওয়ার কিছু পর আবারও গোলের সুযোগ তৈরি করে কানাডা। কিন্তু ব্যর্থ হয়। ৭৫তম মিনিটে অবশেষে মাঠে নামেন আলফোনসো ডেভিস। তাঁকে দেখে গোটা স্টেডিয়াম করতালিতে ফেটে পড়ে, আর মাঠে নেমেই ম্যাচের ছবিটা বদলাতে শুরু করেন তিনি।

অবশেষে স্টপেজ টাইমের দ্বিতীয় মিনিটে কাঙ্ক্ষিত গোল পেয়ে যায় কানাডা।ডান প্রান্ত দিয়ে দ্রুত এগিয়ে গিয়ে জ্যাকব শ্যাফেলবার্গ একটি নিখুঁত ক্রস বাড়ান। দক্ষিণ আফ্রিকার ডিফেন্ডার হেড করে বলটি ক্লিয়ার করার চেষ্টা করলেও তা গিয়ে পড়ে ইউস্তাকিওর সামনে।

পোর্তোর এই মিডফিল্ডার, যিনি বর্তমানে লোনে লস অ্যাঞ্জেলিস এফসির হয়ে খেলছেন, বুক দিয়ে বল নামিয়ে জোরালো শটে বল জড়িয়ে দেন জালের বাঁদিকের নিচের কোণে।গোল হতেই কানাডার বেঞ্চে থাকা সব ফুটবলার মাঠে ছুটে আসেন। ঐতিহাসিক এই জয় উদ্‌যাপনে আনন্দে ফেটে পড়ে পুরো স্টেডিয়াম।