কেনই বা এত জল্পনা আর কেনই বা এত গোপনীয়তার অভাব? রোহিত শর্মার অবসর-সম্ভাবনার ইসুতে এই প্রশ্নই তুলেছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের অন্দরমহল। তাদের বক্তব্য, বোর্ডের পরিকল্পনার কথা কেন এ ভাবে লোকসমক্ষে চলে আসছে? এ জন্য সম্ভবত তারা দায়ী করেছেন জাতীয় নির্বাচক কমিটির সদস্যদেরই। এবং সেই কারণেই এ বার কণ্ঠরোধ করা হল তাঁদের। অজিত আগারকর ও তাঁর কমিটির সদস্যদের সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, মিডিয়ার প্রতিনিধিদের সঙ্গে আর কথা নয়।
রোহিত শর্মার এক দিনের ক্রিকেট-ভবিষ্যৎ ঘিরে লাগাতার জল্পনা এতটাই বিরক্ত করেছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডকে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে নির্বাচক কমিটির অভ্যন্তরীণ আলোচনা ফাঁস হওয়ার ঘটনায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছে বোর্ড। জাতীয় নির্বাচকদের মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলা তো দূরের কথা, কোনও ধরনের যোগাযোগ না রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে কার্ডিফে দ্বিতীয় এক দিনের ম্যাচে ভারতের হারের পরই জোর গুঞ্জন ছড়ায়, লর্ডসে তৃতীয় ও শেষ ওডিআই-ই নাকি হতে পারে রোহিত শর্মার শেষ আন্তর্জাতিক এক দিনের ম্যাচ। যদিও বিসিসিআই সচিব দেবজিত সইকিয়া সেই জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে স্পষ্ট জানিয়েছেন, ভারতীয় দলের পরিকল্পনায় যতদিন রোহিত থাকবেন, ততদিন তিনি খেলবেন।
কিন্তু এক ক্রিকেট ওয়েবসাইট তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, রোহিতকে ঘিরে যে তথ্য বাইরে চলে এসেছে, তাতে বিসিসিআই অত্যন্ত অসন্তুষ্ট। বোর্ড নাকি নির্বাচকদের স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, ভবিষ্যতে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কোনও ধরনের আলোচনা বা তথ্য প্রকাশ করা যাবে না।
বলা হয়েছে, বর্তমানে পরিস্থিতি অত্যন্ত পরিবর্তনশীল। রোহিতকে নিয়ে এত বেশি জল্পনা চলছে যে, পর্দার আড়ালে ঠিক কী ঘটছে, তা নিয়ে এখনই নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়। এদিকে, ভারতীয় ক্রিকেটে এখন বড় প্রশ্ন—রোহিত শর্মা কি ২০২৭ সালের এক দিনের বিশ্বকাপ পর্যন্ত খেলতে পারবেন? দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবোয়ে এবং নামিবিয়ায় যৌথভাবে অনুষ্ঠিতব্য সেই বিশ্বকাপে খেলার ইচ্ছা রোহিতের দীর্ঘদিনের লক্ষ্য বলেই মনে করা হচ্ছে।
তবে তাঁর সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স নির্বাচকদের একাংশকে সন্তুষ্ট করতে পারেনি। সম্প্রতি আটটি ইনিংসে রোহিতের সংগ্রহ মাত্র ২৪১ রান। গড় ৩০.১২ এবং স্ট্রাইক রেট ৮৮.৬০। এই পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে নির্বাচকদের একাংশ মনে করছেন, প্রাক্তন অধিনায়কের উপর আর বোধহয় ভরসা করা উচিত নয়।
একটি চ্যানেলে দাবি করা হয়েছে, গত মাসে আফগানিস্তান সিরিজ শুরুর আগেই নির্বাচক কমিটির কয়েকজন সদস্য রোহিতকে জানিয়ে দিয়েছিলেন যে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় তাঁকে আর রাখা হচ্ছে না। সেই আলোচনার বিষয়ে ভারতীয় দলের প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীরও অবগত ছিলেন। সম্ভবত তিনিই রোহিতকে সরানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
তবু বোর্ডের কর্তাদের সঙ্গে কথা বলার পর আফগানিস্তান সিরিজ এবং ইংল্যান্ড সফরের ওয়ানডে দলে জায়গা পান রোহিত। কিন্তু ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম দুই ম্যাচে যথাক্রমে ১১ ও ২৬ রান করার পর নির্বাচকদের একাংশ ফের তাঁদের অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। যদিও বিসিসিআইয়ের সরকারি অবস্থান এখনও একটাই—রোহিত শর্মার অবসর নিয়ে ছড়ানো জল্পনার কোনও ভিত্তি নেই।
বোর্ডের এই গোপনীয়তা অবলম্বন নতুন কিছু নয়। দীর্ঘদিন ধরেই এমনটা হয়ে আসছে। শচীন তেন্ডুলকর ও সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের অবসরের আগেও বোর্ড পুরো বিষয়টা গোপন রাখার চেষ্টা করেছিল। তা সত্ত্বেও যখন সংবাদ মাধ্যমে বিভিন্ন খবর প্রকাশিত হয়, তখন নির্বাচক থেকে শুরু করে খেলোয়াড়, সবারই কণ্ঠরোধ করার নির্দেশ দেন ভারতীয় ক্রিকেট কর্তারা। এ বারেও সেই পথেই হাঁটছেন তাঁরা।
এখন দেখার, রবিবার লর্ডসে চলতি সিরিজের শেষ ওয়ান ডে ম্যাচে রোহিত শর্মা নিজেই তাঁর অবসর ঘোষণা করেন কি না। তেমন কিছু যদি ঘটে, তা হলে যে বোর্ড পুরো বিষয়টাই রোহিতের উপরই চাপিয়ে দিতে পারে এবং ঘোষণা করতে পারে যে, এটা সম্পুর্ণ তারকা ক্রিকেটারের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত এবং এই সিদ্ধান্তে বোর্ডের কোনো হাত নেই। নির্বাচকেরাই যে তাঁকে জোরজবরদস্তি অবসরের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছেন, এই ব্যাপারটা তখন ধামাচাপা দেওয়ার সব রকম চেষ্টাই হয়তো হবে।




