• facebook
  • twitter
  • youtube
Monday, 29 June, 2026

হাজার গোলের স্বপ্নপূরণে শারীরিক সক্ষমতার সীমা ছাড়াতেও রাজি রোনাল্ডো! অমানুষিক পরিশ্রম চাই, বলছে গবেষণা

বড় টুর্নামেন্টে রোনাল্ডোর অভিজ্ঞতা, নেতৃত্বের গুণ এবং অদম্য লড়াইয়ের মানসিকতাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন মার্তিনেজ

হাজার গোলের স্বপ্নপূরণে শারীরিক সক্ষমতার সীমা ছাড়াতেও রাজি রোনাল্ডো! অমানুষিক পরিশ্রম চাই, বলছে গবেষণা

৪১ বছর বয়সেও থামার কোনও লক্ষণ নেই। বরং ফুটবল জীবনের সবচেয়ে বড় লক্ষ্য পূরণে আরও মরিয়া হয়ে উঠেছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। সে জন্য নিজের শারীরিক সীমা ছাড়াতেও প্রস্তুত তিনি। কী সেই লক্ষ্য? এক হাজার গোলের ঐতিহাসিক মাইলফলক। যা ছোঁয়ার স্বপ্ন চোখে নিয়ে চলতি বিশ্বকাপে নিজের শারীরিক সক্ষমতার সীমাকেও চ্যালেঞ্জ জানাতে প্রস্তুত পর্তুগিজ মহাতারকা।

বিশ্বকাপে ইতিমধ্যেই ইতিহাস গড়েছেন রোনাল্ডো। উজবেকিস্তানের বিরুদ্ধে গোল করে তিনি ফুটবল ইতিহাসে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে টানা ছ’টি বিশ্বকাপে গোল করার নজির গড়েছেন। বর্তমানে তাঁর কেরিয়ারের গোলসংখ্যা ৯৭৪। অর্থাৎ, চার অঙ্কে পৌঁছতে আর ২৬টি গোল প্রয়োজন। বিখ্যাত এক স্প্যানিশ সংবাদপত্র ‘মার্কা’ জানিয়েছে, রোনাল্ডোর লক্ষ্য শুধু বিশ্বকাপে ভালো খেলা নয়। তাঁর স্বপ্ন, ১০০০ গোলের ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করা। সেই লক্ষ্যে পৌঁছতে হলে তাঁকে নিজের শরীরের উপর বাড়তি চাপ নিতে হবে, আর সেটাই সবচেয়ে বড় ঝুঁকি।

তবে তাঁর এই আকাঙ্ক্ষাই নতুন করে কিছু প্রশ্নও তুলে দিয়েছে। সম্প্রতি ইএসপিএন-এর একটি বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, সবচেয়ে বড় ঝুঁকিটি শুধু পর্তুগিজ মহাতারকার ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে নয়, বরং তা পর্তুগাল দলের সামগ্রিক খেলাতেও প্রভাব ফেলতে পারে। কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে গোলশূন্য ড্রয়ের পর এই প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সেই ম্যাচে রোনাল্ডোর এক্সপেক্টেড গোল (xG) ছিল মাত্র ০.১৭ এবং এক্সপেক্টেড অ্যাসিস্ট (xA) ছিল ০.০৩। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে মিয়ামির তীব্র গরম এবং দীর্ঘ সময় ধরে মাঠে থাকার ধকল। ৪১ বছর বয়সী একজন ফুটবলারের উপর এমন শারীরিক চাপ পড়লে টুর্নামেন্টের গুরুত্বপূর্ণ নকআউট পর্বে, বিশেষ করে দল যদি শেষ পর্যন্ত এগিয়ে যায়, তাহলে তাঁর শক্তি ও সতেজতা অনেকটাই কমে যেতে পারে।

এবার তাঁর সামনে শেষ ষোলোয় ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে বড় পরীক্ষা। বৃহস্পতিবারের সেই ম্যাচে রোনাল্ডো নামবেন গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচেই পুরো ২৭০ মিনিট খেলে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, “এই তিনটি ম্যাচের সংযুক্ত সময়ও যদি যোগ করা হয়, তাহলে বিশ্বকাপে রোনাল্ডো সম্ভবত প্রায় ৩০০ মিনিট মাঠে কাটিয়ে ফেলেছেন।” রোনাল্ডোর অসাধারণ দক্ষতা নিয়ে কোনও প্রশ্ন নেই। এমনকী, তাঁর মতো দুর্দান্ত ফিট একজন ফুটবলারের ক্ষেত্রেও কয়েক সপ্তাহব্যাপী একটি টুর্নামেন্টে শক্তি বাঁচিয়ে খেলাই সাফল্যের চাবিকাঠি হতে পারে। এ প্রসঙ্গে পর্তুগালের কোচ রবার্তো মার্তিনেস বলেন, “ক্রিশ্চিয়ানোর পক্ষে ৯০ মিনিট খেলা কোনও সমস্যাই নয়। কিন্তু পরের ম্যাচে কী পরিস্থিতি হবে, সেটা তো আগে থেকে জানা যায় না। আমরা ইতিমধ্যেই ২১ জন খেলোয়াড়কে ব্যবহার করেছি, তাই খেলার সময়টা আমরা সবার মধ্যে ভাগ করে দিচ্ছি।”

বড় টুর্নামেন্টে রোনাল্ডোর অভিজ্ঞতা, নেতৃত্বের গুণ এবং অদম্য লড়াইয়ের মানসিকতাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন মার্তিনেজ। সেই কারণেই তাঁর খেলার সময় নিয়ন্ত্রণ করাকে প্রয়োজনের চেয়ে বরং কৌশলগত সিদ্ধান্ত হিসেবেই দেখা হচ্ছে। বেশ কয়েকটি দল তাদের তারকা ফুটবলারদের বিশ্রাম দিয়েছে। যেমন আর্জেন্টিনা জর্ডানের বিরুদ্ধে ম্যাচে লিওনেল মেসিকে দ্বিতীয়ার্ধে নামিয়েছিল, আর নরওয়ে ফ্রান্সের বিরুদ্ধে ম্যাচে আর্লিং হলান্ডকে খেলায়ইনি। কিন্তু রোনাল্ডোকে মাঠে রেখেই এগিয়েছে পর্তুগাল। এ বিষয়ে মার্তিনেজ বলেন, “আমরা অন্য দলের অন্য খেলোয়াড়দের সঙ্গে কোনও তুলনা করি না। সেটা করলে তা একেবারেই শিশুসুলভ আচরণ হবে।”

রোনাল্ডো অবশ্য জানিয়ে দিয়েছেন, ব্যক্তিগত রেকর্ড তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ হলেও দলের সাফল্যই সবার আগে। পর্তুগিজ মহাতারকা বলেন, “আমি কখনও রেকর্ডের পিছনে ছুটি না। বরং রেকর্ডই আমার পিছনে ছোটে।” তিনি আরও বলেন, “এক হাজার গোল করা আমার কাছে কোনও আবেগ নয়। যদি সেটা হয়, খুব ভালো। আর যদি না-ও হয়, তাতেও কোনও সমস্যা নেই। বর্তমানই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।” তবে বাস্তব চিত্র বলছে, রোনাল্ডো এখনও গোল করার খিদে হারাননি। আল-নাসর এবং পর্তুগাল—দুই দলের হয়েই নিয়মিত গোল করছেন তিনি। সেই কারণেই অনেকের বিশ্বাস, ১০০০ গোলের স্বপ্ন এখনও বাস্তবসম্মত।

কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণ করতে গেলে তাঁকে আরও বেশি ম্যাচ খেলতে হবে, আরও বেশি সময় মাঠে থাকতে হবে। বয়সের এই পর্যায়ে সেটাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। চোটের ঝুঁকি যেমন বাড়বে, তেমনই শারীরিক ধকলও হবে অনেক বেশি। তবে রোনাল্ডোর অদম্য মানসিকতাই তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি। বিশ্বকাপের মঞ্চে ইতিহাস গড়ার পর এবার তাঁর নজর ফুটবল ইতিহাসের আর এক অনন্য মাইলফলকের দিকে— এক হাজার গোল। আর সেই লক্ষ্য পূরণে প্রয়োজন হলে নিজের শারীরিক সীমাকেও অতিক্রম করতে প্রস্তুত পাঁচ বারের ব্যালন ডি’অরজয়ী।