আব্দুল বারী
বলুন বদি সাহেব, কী জন্য আমাদের ডেকেছেন? প্রধানশিক্ষক বদিউজ্জামানকে উদ্দেশ করে স্কুল পরিচালন কমিটির সভাপতি জানতে চান। তার কারণ আজকের মিটিংয়ের জন্য কোনও নোটিশ করা হয়নি। কী অ্যাজেন্ডা বলা হয়নি। স্কুল পরিচালন কমিটির দু’জন, গ্রামের সাধারণ মানুষ চারজন, আর স্কুলের কয়েকজন শিক্ষককে এই মিটিংয়ে ডেকে নেওয়া হয়েছে। একটা বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে চান। গত তিন দিন ধরে বিষয়টি ঘুরছে প্রধান শিক্ষকের কক্ষ থেকে স্টাফরুমের ভেতর। অবশ্য স্কুল চত্বর ছাড়িয়ে কথাটা বাইরেও যে যায়নি, তা নয়। বাইরেও গিয়েছে।
Advertisement
একরোখা মজিদ সাহেবকে তিনি বোঝাতে পারছেন না। স্কুলের কয়েকজন শিক্ষকও মজিদ সাহেবকে বুঝিয়েছেন। কিন্তু তিনি বুঝতে চাননি। তিনি ওইরকম মানুষ। কোনও বিষয় একবার ধরলে চট করে ছাড়তে চান না। আর বিষয়টি যদি গাছপালা সংক্রান্ত হয়, তাহলে তো কথাই নাই। বিষয়টি বৃক্ষরোপণ নিয়ে।
তিনি কতগুলো গাছের চারা এনেছেন। স্কুল বিল্ডিংয়ের সামনের দিকে লাগাতে চান। কিন্তু প্রধান শিক্ষকের আপত্তিতে সে কাজ বন্ধ আছে। প্রধান শিক্ষক যে কারণে নিষেধ করছেন, তা নিয়ে তর্ক হচ্ছে। এ বিষয়ে মজিদ সাহেবের পাশে দাঁড়ানোর লোক কম। অধিকাংশ শিক্ষক বদি সাহেবের পো ধরেছেন। অবশ্য তারও কারণ আছে। সময়ের আগে ট্রেন ধরার তাড়া থাকে। তাছাড়া ক্লাস রুটিন, প্রভিশনাল ক্লাসের সুবিধা তো আছেই। প্রধান শিক্ষকের নেক নজরে থাকলে আরও অনেক ছাড় পাওয়া যায়। সেসব নিতে হলে হ্যাঁ-এর সঙ্গে হ্যাঁ তো মেলাতেই হয়। তাই অধিকাংশ শিক্ষকই গলা তুলে মজিদ সাহেবকে বোঝাতে চেয়েছিলেন। মজিদ সাহেব বোঝেননি। তাই পরিচালন কমিটি আর গ্রামের কিছু মানুষ ডেকে মজিদ সাহেবের উপর চাপ সৃষ্টি করতে চান। সে কারণেই মিটিং ডাকা।
Advertisement
বদি সাহেব বলেন, ব্যাপারটা তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয় আবার গুরুত্বপূর্ণও বটে। কারণ বিষয়টির সঙ্গে ক্লাবের ছেলেরাও জুড়ে যাবে। স্কুলের সামনে খোলা মাঠ তো খুব বড় নয়। আপনারা দেখতেই পাচ্ছেন। যেটুকু আছে তাতে স্কুলের কাজে চলে যায়। খেলাধুলার ক্লাস থেকে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, টিফিন পিরিয়ডে ছেলেমেয়েদের ছোটাছুটি সবই হয় ওখানে। অবশ্য পূর্ব দিকের বিল্ডিংটা হয়ে মাঠ একটু ছোট হয়েছে। গাছ লাগিয়ে সেই মাঠ আরো ছোট করতে চাইছেন মজিদ সাহেব। তাই আমার কথা হলো স্কুলের সামনে খেলার মাঠে আর কোনও গাছ লাগানো যাবে না। কিন্তু উনি শুনবেন না, স্কুলের মাঠেই গাছ লাগাবেন।
সভাপতি সাহেব বলেন, কী মজিদ সাহেব, প্রধান শিক্ষকের কথা কি ঠিক? উনি যা বলছেন তা কি সত্যি?
মজিদ সাহেব বলেন, কথাটা কিছুটা ঠিক, কিছুটা ঠিক নয়। আমি গাছ লাগাতে চাই। তবে স্কুলের মাঠে নয়। যেখান দিয়ে আমরা স্কুলের বারান্দায় উঠছি সেই রাস্তার দুপাশে। দুপাশে দুটো অমলতাস আর দেবদারু লাগাতে চাই। গ্রীষ্মকালে অমলতাস গাছে হলুদ ফুল ফোটে। সবুজ পাতার মাঝে থোকা থোকা হলুদ ফুলের ঝুরি নামে। সে এক অবাক করা সৌন্দর্য। আর তার পাশে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকবে দেবদারু। আমি তো মাঠের জায়গায় নামতে চাইনি। স্কুল বিল্ডিংয়ের সামনে দেওয়ালের পাশে ওটুকু জায়গা তো এমনি পড়ে থাকে। খেলাধূলা হয় না। বরং আরো কিছু ফুলের গাছ লাগালে সৌন্দর্য বৃদ্ধি হয়।
স্কুলের শিক্ষক জয়ন্তবাবু বলেন, মজিদ সাহেব, এই সৌন্দর্য বৃদ্ধির কাজটা আপনার বাড়িতে করুন না। সেখানে করলে আরও ভালো হয়। স্কুলে ফুল চাষ করবেন, হাজারো ছেলে-মেয়ে, কে কখন ছিঁড়বে তার ঠিক আছে। তাই নিয়ে আবার অশান্তি শুরু হবে। তখন আবার ফুল রক্ষা কমিটি গঠন করতে চাইবেন।
বদি সাহেব জয়ন্তবাবুকে সমর্থন করেন। বলেন, ঠিকই তো, মজিদ সাহেব যা লোক আবার একটা ইস্যু খাড়া করবেন। তাছাড়া এখন এমনিতেই স্কুলে ছেলে মেয়েদের সামলানো যাচ্ছে না। কে কখন ফুল ছিঁড়ে কার চুলে গুঁজে দেবে, তা নিয়ে স্কুলে না আবার ঝামেলা শুরু হয়। গার্জিয়ান এসে হম্বিতম্বি করে।
মজিদ সাহেব বলেন, দেখুন জয়ন্তবাবু, আপনি তো কমিটি গঠনের কথা বললেন, কমিটি গঠন করে সবকিছু ঠিকঠাক হয় না। তার সঙ্গে আন্তরিক চেষ্টা থাকা দরকার। স্কুলে তো অনেক ধরনের কমিটি আছে। স্কুল কী ঠিকঠাক চলছে? চলছে না। প্রধান শিক্ষক মশাইয়ের কথাতেই তা স্পষ্ট। ছেলে মেয়ে সামলানো…।
মজিদ সাহেবের কথা শেষ হওয়ার আগেই বদি সাহেব বলে ওঠেন, আজ তো স্কুলের কোনও অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কথা বলার জন্য মিটিং নয়। যে বিষয়ের জন্য বসা হয়েছে সেই বিষয়ের উপর আলোচনা হোক। কি বলেন সভাপতি সাহেব?
হ্যাঁ, ঠিক কথা। আজকের বিষয়ের উপর আসা যাক। তার উপর আলোচনা হোক।
গ্রাম থেকে যে কয়েকজন এসেছিলেন তাঁদের মধ্যে একজন বলে ওঠেন, মজিদ সাহেব কথা তো ঠিকই বলেছেন। ওঁর কথার মধ্যে তো কোনও ভুল নাই। স্কুল যে ঠিক জায়গায় নাই, কমবেশি সে কথা আমরাও জানি।
আরও যে কয়েকজন এসেছিলেন তাঁরা কেউ কেউ প্রধান শিক্ষকের পক্ষ নিয়ে কথা বলতে থাকেন। কিছুক্ষণ তর্ক বিতর্ক চলে। কে কী বলেন, কিছুই বোঝা যায় না। সন্ধেবেলায় টিভিতে যেমন হয় আর কী!
বেশ কিছুক্ষণ চিল্লামিল্লির পর ঘর ঠান্ডা হয়। কিন্তু কোনও সিদ্ধান্ত হয় না। মজিদ সাহেব তাঁর পয়েন্ট থেকে সরতে রাজি নন। তিনি ওখানেই গাছ লাগাতে চান। গাছ লাগানোর জন্য মাঠের যে বিরাট ক্ষতি হবে, তা প্রমাণ করতে পারেন না বদি সাহেব। ফলে সিদ্ধান্ত ঝুলে থাকে। তবে স্থির হয়, মসজিদ সাহেব এখনই গাছ রোপণ করতে পারবেন না। আরও কয়েকদিন সময় দরকার। আরও বড় করে বিষয়টা নিয়ে ভাবতে হবে। প্রয়োজনে আরও একটা মিটিং ডাকা হতে পারে।
বছরখানেক আগেও ক্লাবের ছেলেরা স্কুলের এই মাঠে খেলাধুলা করত না। তাদের খেলার মাঠ ছিল স্কুল থেকে বেশ খানিকটা দূরে নতুন পাড়ায়। জমিদারি আমল থেকে পড়ে থাকা একটি জায়গায় খেলতো ছেলেরা। গত বছর প্রোমোটাররা গিয়ে সেই জায়গার দখল নিতে চায়। ওই জায়গা জমিদারদের যে শরিকের তার কাছ থেকে নাকি তারা কিনে নিয়েছে। সেই লোক এখন গ্রামে থাকে না। কলকাতায় থাকে। সে নাকি এই ভূমিদস্যুদের কাছে ওই জায়গা বিক্রি করে দিয়েছে।
একটা একটা করে ইঁট গেঁথে ঘিরে নিতে থাকে মাঠ। ক্লাবের ছেলেরা ছুটে বেড়ায়। ওটা ছিল তাদের শ্বাস নেওয়ার জায়গা। কীভাবে ছাড়বে তারা। তাছাড়া এতকাল ধরে খেলে আসছে। তাদের শিকড় পোঁতা আছে সেখানে। এই শিকড় ওপড়াতে চায় ভূমিসন্ত্রাসীরা। তাদের আটকাতে হবে। পঞ্চায়েত থেকে বিডিও অফিস, এমনকি থানা পর্যন্ত দৌড়ায় ছেলেরা। ক্লান্ত হয়।
এদিকে একটু একটু করে ইঁটের ঘেরে আটকা পড়ে এলাকার মেম্বার, পঞ্চায়েত প্রধান আরও অনেকে।
পঞ্চায়েত প্রধান বদি সাহেবের মামা। একদিন সন্ধ্যায় ফোন আসে বদি সাহেবের মোবাইলে। বেশ কিছুক্ষণ কথা হয়। সে কী? তা কি সম্ভব? না-না, এ হয় না। তারপর একসময় বলেন, ঠিক আছে, তাই হবে। একটা হাসি খেলা করে ঠোঁটের উপর। বিচিত্র হাসি। সে হাসি পড়া খুব মুশকিল।
পরদিন বিকেলে ছুটির পর ক্লাবের ছেলেরা স্কুল মাঠে বল খেলতে শুরু করে।
খেলা জানতে হয়। খেলা জানলে খেলা ঘুরিয়ে দেওয়া যায়। ভূমিসন্ত্রাসীরা খেলা জানে।
কোনও কোনও দিন ছুটির আগেই ছেলেরা স্কুল মাঠে হাজির হয়। খালি গায়ে, হাফ প্যান্টে বুট পরে। গা ঘামানোর জন্য কেউ কেউ তুড়ুক নাচে। মজিদ সাহেব প্রধান শিক্ষক মশাইকে বলেন, এটা কো-এড স্কুল। তাছাড়া এভাবে ছুটির আগে বাইরের ছেলে স্কুলে ঢুকতে পারে কি? পারে না। এটা বন্ধ হওয়া দরকার।
বদি সাহেব ক্লাবের ছেলেদের ডাক দেন, দু’চারটে কথার পর একটা ধমক দেন। ছেলেরা চলে যায়। সেদিন আর খেলা হয় না।
সন্ধ্যাবেলায় আবার ফোন আসে। অনেকক্ষণ কথা চলে। এবার বদি সাহেবের মুখ ফ্যাকাশে হয়ে যায়। চোখের কোণে ভয়ের কাজল আঁকা হয়।
ক্লাবের ছেলেরা স্কুল ছুটির আগে আর মাঠে ঢোকে না। তবে স্কুল গেটের বাইরে হল্লা করে, শিস দেয়। মজিদ সাহেব বললেও বদি সাহেব নীরব থাকেন। এক অদৃশ্য সুতোয় বদি সাহেব বাঁধা। গত নয় দশ মাস ধরে এমনি চলছে।
মজিদ সাহেব সাইকেল নিয়ে বাড়ি ফিরছেন। তখনও সন্ধ্যা হয়নি। দু’জন ছেলে সাইকেল আটকায়। রাস্তার পাশে তাদের বুলেট গাড়ি ডাবল স্ট্যান্ডে কেমন উদ্ধত ভঙ্গিতে দাঁড় করানো। ছেলে দুটোর হাতে জ্বলন্ত সিগারেট। একজন এসে বলে, শুনুন মাস্টার, স্কুল নিয়ে বেশি মাথা ঘামাবেন না। ছেলে মেয়েদের পড়াবেন, চলে আসবেন। অন্য কাজে নাক গলাবেন না। কথাটা মাথায় ঢুকিয়ে নিন।
মজিদ সাহেব সাইকেল গড়াতে শুরু করেন। একটি ছেলে এগিয়ে গিয়ে বলে, কী হলো, কিছু বলছেন না যে? না বলেই চলে যাচ্ছেন?
মজিদ সাহেব দাঁড়িয়ে যান। চোয়াল শক্ত করে তীব্র চোখে ছেলে দুটোর দিকে তাকান। আদেশের সুরে বলেন, হাতের সিগারেট আগে ফেলো, ভদ্রভাবে দাঁড়াতে শেখো। তারপর কথা বলবে। আর বলবেই বা কী? শুনে নাও, আমি কীভাবে চলবো না চলবো, স্কুলে কী করব না করব, তা তোমাদের কাছে শিখবো না। পথ ছাড়ো।
মজিদ সাহেব এগিয়ে যান। হাতের সিগারেট ফেলে একজন বলে, যা শ্লা, এ যে জাঁহাবাজ মাল। তারপর হাঁ করে তাকিয়ে থাকে মজিদ সাহেবের চলে যাওয়ার পথে। পিঠ টান করে মাথা উঁচু রেখে একজন মানুষ চলে যাচ্ছে। তাঁর মাথা যেন ছুঁয়ে যাচ্ছে আকাশ।
আবার একটি মিটিং ডাকা হয়েছে। ভিন গাঁ থেকেও কয়েকজন এসেছেন। কতগুলো মুখ মজিদ সাহেবের ভালো করে চেনা। কাঁচা পয়সায় ফুলে ওঠা মুখ। পেটে বিদ্যা তেমন নাই, তবে দাপট আছে এলাকায়।
মিটিং শুরু হয়। মজিদ সাহেবকে বলতে বলা হয়। মজিদ সাহেব গাছ লাগানোর কথা স্পষ্ট ও জোরালোভাবে বলেন। একজন অল্পবিদ্যা বলে, কী গাছের কথা বলছেন, অমলতাস, তা আবার কী গাছ?
মজিদ সাহেব বলেন, অমলতাসের বিভিন্ন নাম আছে। অনেকে সোনারু, সোনালু, সোঁদাল বলে। গ্রামবাংলায় বাঁদর লাঠিও বলা হয়। গ্রীষ্মকালে হলুদ থোকা থোকা ফুল ফোটে। ভারি সুন্দর।
তা বাঁদর লাঠি স্কুলে লাগানো হবে কেন? ছেলেমেয়েদের বাঁদর বানাতে?
মজিদ সাহেব বলেন, গাছ কখনো মানুষকে বাঁদর বানায় না। মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে নীরবে অনেক কিছু শিক্ষা দেয়। মা যে জীবন দিয়ে শিশুকে পৃথিবীতে নিয়ে আসে, সেই জীবনকে বাঁচিয়ে রাখে। মানুষই মানুষকে বাঁদর করে তোলে।
সভাপতি সাহেব বলেন, ঠিক আছে মজিদ সাহেব, আপনার কথা তো শুনলাম। এবার স্কুলের অন্য শিক্ষকরা কী চান একটু বলুন। তাঁদের কথা শুনে নিই।
স্কুলের কয়েকজন শিক্ষককে জিজ্ঞাসা করা হয়।
দু-একজন ছাড়া সবাই বলেন, প্রধান শিক্ষক মশাই যা করবেন, সেটাই তাঁদের মত।
মজিদ সাহেব তাঁদের মুখের দিকে তাকালেন। কিন্তু মুখ দেখতে পেলেন না। বীভৎস কিছু একটা নজরে পড়ল। এরাই আবার ক্লাসে বসে দুলে দুলে আওড়ায় ‘চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির’। মজিদ সাহেব একটু হেসে ওঠেন। সংকীর্ণ স্বার্থসিদ্ধির জন্য এমনভাবে নিজেকে বিক্রি করা যায়? যায় তো। না গেলে কেন এই মিটিং।
আরও অনেকক্ষণ ধরে আলাপ-আলোচনা চলে। প্রধান শিক্ষক আজ যেন কোথা থেকে বাড়তি শক্তি পেয়েছেন। শিশুবৃক্ষকে বড় করে পল্লবিত ডালপালায় খেলার মাঠের মাঝ পর্যন্ত লতিয়ে দেন। তাছাড়া মজিদ সাহেবের গাছ লাগানোর আবদার ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে। তাই এখন থেকেই তার লাগাম টানতে চান।
দীর্ঘ আলোচনার পর স্থির করা হয় মজিদ সাহেবের কথামতো দেবদারু গাছ দুটি বারান্দায় ওঠার সিঁড়ির দু’পাশে লাগানো হবে। আর অমলতাস গাছদুটি লাগানো হবে স্কুল ঢোকার মেইন গেটের বাইরের দিকে রাস্তার দু’পাশে।
মজিদ সাহেব মনে মনে ভাবলেন, আজ শুধু অমলতাসই নয়, তার সঙ্গে স্কুলের আরও অনেক কিছুই বাইরে চলে গেল।
Advertisement



