কেয়া রায়
দেবেনের মতো ম্যান্তামারা লোকের সঙ্গে যে ওর বনবে না, পাকাদেখার দিনই সেটা স্পষ্ট বুঝে গিয়েছিল রেশমী। নামটাও যেমন আদ্যিকালের, মানুষটাও তেমনি পুরোনো ধ্যানধারণা আঁকড়ে থাকা সাবেকি ধরনের। বাপ-মায়ের রুচিরও বলিহারি, সর্বগুণান্বিতা মেয়েকে ধরেবেঁধে এমন জলে ফেলে দিতে হয়! সরকারি চাকুরের জন্য হেদিয়ে মরে, একমাত্র মেয়েকে এমন অপাত্রে দান কেউ করে! সবে কলেজের থার্ড ইয়ারে উঠে রেশমীর একটু পাখা গজিয়েছিল, সেই ডানা ছাঁটার জন্য সপরিবারে উঠেপড়ে লাগল। সে কী তোড়জোড়! মান্তুমাসি কে জানে কোত্থেকে জোগাড় করে আনল এই দেবেনকে। স্বাস্থ্যদপ্তরের করণিক। নিজের না আছে স্বাস্থ্য, না আছে যথেষ্ট সচ্ছল টাকাপয়সা। মা বলল, ‘সচ্ছলতা না থাকলেও চাকরির নিরাপত্তা আছে, যা সবচেয়ে বেশি দরকার।’
বাবা বলল, ‘ছেলেটি গোবেচারা গোছের হলেও উচ্চবংশ। পারিবারিক সহবৎ শিক্ষা আছে। রক্তের গরিমা যাবে কোথায়! চরিত্রের দিক থেকে একশো শতাংশ ভরসা করা যায়। তোমার উড়নচণ্ডী মেয়ে বর্তে যাবে অমন জীবনসঙ্গী পেলে।’
Advertisement
তাহলে কী দাঁড়াল, আর্থিক নিরাপত্তা আর চরিত্রবান হলেই রেশমীর মতো পরমাসুন্দরী স্ত্রী পাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করা যায়? রেশমী কিছুতেই রাজি হতো না, কিন্তু ঠিক সেই সময়ই ওর তৃতীয় বয়ফ্রেন্ড দাগা দিয়ে অষ্ট্রেলিয়ায় পিএইচডি করতে চলে গেল। লং ডিসট্যান্স রিলেশনশিপ আবার রেশমীর পোষায় না। এই টালমাটাল সময়ে বাবার আল্টিমেটাম এল, ‘কিছু উড়ো কথা আমার কানে এসেছে। ওটা কলেজ নাকি প্রজাপতি- দপ্তর? আর দেরি নয়, সামনের অঘ্রাণেই তোমার বিয়ে দেব। নয়তো বংশের মুখে চুনকালি মাখাবে তুমি।’
Advertisement
প্রতিবাদ যে করবে, কাউকে পাশে পেল না। তাই রেশমীর যাবতীয় আক্রোশ গিয়ে পড়ল গোবেচারা লোকটার উপর। ভারী বিয়ের শখ জেগেছে! যোগ্যতা আছে? করিস তো সামান্য কলমপেষা ক্লার্কের চাকরি!
কিংকর্তব্যবিমূঢ় রেশমীর মৌনতাকে সম্মতি ধরে নিয়ে বিয়ের উদ্যোগ শুরু হয়ে গেল। রেশমী একটু থিতু হয়ে ভাবার সুযোগ পর্যন্ত পেল না, বিয়ের দিনক্ষণ ঘাড়ের ওপর এসে পড়ল। আহ্লাদে ডগমগ হয়ে দেবেন বরের সাজে ছাদনাতলায় এল। তার আনন্দ দেখে কে! সালঙ্কারা সুসজ্জিতা রেশমীর পাশে ওকে অত্যন্ত বেমানান লাগছিল। বান্ধবীরা সব চতুর, সুযোগ-সন্ধানী। এতদিন যারা রেশমীর জনপ্রিয়তায় জ্বলত, আজ তাদের দিন। একজন রেশমীর কানে কানে বলল, ‘কী দেখে রাজি হলি, বল তো রেশমী? তোর বরের পাশে তোকে দেখে মনে হচ্ছে বানরের গলায় মুক্তোর মালা।’
রেশমী চাপা গলায় হিসহিস করে বলল, ‘মেনুতে পমফ্রেট মশলা, হায়দরাবাদী মাটন বিরিয়ানি আছে। খেয়ে বাড়ি যা। আমার ডিসিশন মেকিং নিয়ে প্রশ্ন তুলিস না।’
বান্ধবী মুখ ভার করে উঠে গেল। মুখ পুড়েছে, এখনও দেমাক কত! ওদিকে শুভদৃষ্টির সময় একবারও দেবেনের মুখের দিকে চাইল না রেশমী। ভেতরটা জ্বলে পুড়ে খাক হয়ে যাচ্ছে। মেয়েদের কাছে কত কাঙ্ক্ষিত আজকের সন্ধ্যাটা! এমন বিফলে গেল ওর জীবন! কোথায় পূর্ব-প্রেমিকদের জিমচর্চিত পেশীবহুল দৃষ্টিনন্দন চেহারা, আর কোথায় এই কোলকুঁজো, কেলে কার্তিক! এমনকি কনকাঞ্জলির সময়ও রেশমীর চোখে একফোঁটা অশ্রু দেখা গেল না। গটগট করে গাড়িতে উঠে সে নির্বিকার বিতৃষ্ণায় শ্বশুরবাড়ি চলে গেল।
পরমাসুন্দরী বৌমা পেয়ে পাত্রের বাড়ির লোকজনেরা ভীষণ খুশি। তারা নানাভাবে রেশমীকে খাতির যত্ন করার চেষ্টা করতে লাগল। শাশুড়ি রান্নাঘরে নিয়ে গিয়ে, ‘সব ভরা দেখছি, বলো বৌমা’, বলে যখন আচার বিচার পালন শুরু করলেন, রেশমী সটান বলে বসল, ‘আমি ভীষণ টায়ার্ড। আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারছি না। আমার ঘরটা দেখিয়ে দিন প্লিজ।’
শাশুড়ি কথাটা খারাপভাবে নিলেন না। ভাবলেন, বাপ-মাকে ছেড়ে এসে মেয়ে বিমর্ষ নিশ্চয়ই। তিনি তড়িঘড়ি শোবার ঘরে নিয়ে এলেন রেশমীকে। আদর করে বললেন, ‘তুমি রেস্ট করো মা। নিয়ম কানুনের আগে তোমার শরীর।’
বিনয়ের অবতার! মনে মনে শাশুড়িকে মুখ ভেংচে গভীর ঘুমে তলিয়ে গেল রেশমী। ফুলসজ্জার রাতে দেবেন ইনিয়ে বিনিয়ে জ্ঞান দেবার চেষ্টা করেছিল।
‘মায়ের সঙ্গে মানিয়ে চলবে। বাবা একটু রাশভারী, কিন্তু অন্তরে স্নেহের কাঙাল। দিদি কালেভদ্রে বাপের বাড়ি আসে, তাকে একটু সঙ্গ দিয়ো’, ইত্যাদি প্রভৃতি।
কিছুক্ষণ এসব গাওনা শোনার পর প্রকাণ্ড একটা হাই তুলে রেশমী বলেছিল, ‘আপনি কি সবসময় এমন সুদীর্ঘ জ্ঞানগর্ভ লেকচার দ্যান? সামনে রূপসী স্ত্রীকে পেয়েও শরীর জাগে না? কলকব্জা সব ঠিকঠাক কাজ করে তো আপনার?’
সেই যে বেমালুম চুপসে গেল দেবেন, আর স্বামিত্বের অধিকার ফলাতে এগিয়ে যেতে পারল না। মুষড়ে পড়ল সে। এটাই চেয়েছিল রেশমী। অতএব, এসির কুড়ি ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় পাশ ফিরে ভোঁস-ভোঁস করে ঘুমোল রেশমী। আর হতবাক দেবেশের জাগরণে গেল বিভাবরী। ফুলসজ্জার রাত নিষ্ফলা কাটল। পরে অবশ্য ওদের সঙ্গমক্রিয়া হয়েছিল, কিন্তু রেশমীর দিক থেকে কোনো সম্পর্কের উষ্ণতা পাওয়া গেল না। দেবেনকে নিমরাজি হয়ে গ্রহণ করেছে বটে, কিন্তু কোনো বিষয়ে ওর কোনো আগ্রহ প্রকাশ পেত না।
বিয়ের পরেই রেশমী ব্রত নিয়েছিল, ‘মিশন শ্বশুর-শাশুড়ি খেদাও’। বিয়ের বছর না ঘুরতেই স্ত্রীর তাড়নায় আলাদা ফ্ল্যাট নিয়ে ভিন্ন হতে বাধ্য হল বশংবদ স্বামী। শ্বশুর-শাশুড়ির সঙ্গে মানিয়ে গুছিয়ে চলার কোনো তাগিদ রেশমী অন্তর থেকে টের পায় না। অতএব তারা অকারণ বোঝা। ঝামেলা ঘাড় থেকে নামাও। ঘর ছাড়ার কারণে ‘বউভেড়ুয়া’, ‘জরু কা গুলাম’ বলে বন্ধুরা দেবেনকে কত দুয়ো দিল। দেবেন মুখে রা কাড়ল না। ও তখন রেশমীর মন পেতে মরিয়া। রেশমী যেন ওকে সম্মোহিত করে রেখেছে। বৌ মুখ দিয়ে কথা খসানোর আগেই সে হুকুম তামিল করার জন্য উন্মুখ হয়ে থাকে। রেশমী সবার মাথার ওপর পা দিয়ে দাপিয়ে চলে। ওর মোট বইবার জন্য দেবেন নামক গাধাটি আছে তো সদাপ্রস্তুত। শাশুড়ি কেঁদে বলে, ‘ছেলেকে আমার কী জাদু করেছে ওই রাক্ষুসী, মাকে এখন দু’চোখে দেখতে পারে না দেবু।’
মাকে বুঝিয়ে সুঝিয়ে শিগগিরই ফিরে আসবে কথা দিয়ে দেবেন ভাড়া ফ্ল্যাটে আলাদা সংসার পাতল। স্ত্রীর প্ররোচনায় বাধ্য হল প্রৌঢ় পিতামাতাকে ছেড়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসতে। যদিও প্রায় রোজই সে অফিস ফেরৎ বাবা মায়ের খোঁজ খবর নিয়ে আসে।
ব্যক্তিত্বহীন স্বামীকে আঁচলে বেঁধে এবার সর্বনেশে খেলায় নামল রেশমী। পুরুষবন্ধু পরিবেষ্টিত হয়ে থাকতে ও পছন্দ করে। বাজারের যাবতীয় রূপটান প্রলেপ স্বামীকে দিয়ে কিনিয়ে নিজেকে অনিন্দ্যসুন্দরী করে সাজিয়ে তোলে। তারপর বিকেলে বেড়াতে বেরোয় পুরুষবন্ধুর গাড়িতে। অফিস ফেরতা হতক্লান্ত স্বামীর পাশে দিয়ে হুস করে বেরিয়ে যায় দুধসাদা মার্সিডিজ। সেখানে শরীর এলিয়ে শুয়ে আছে রেশমী, পাশে বসে মি. তেওয়ারী ওর স্তাবকতা করছে। এও কি সহ্য করা সম্ভব কোনো স্বামীর পক্ষে? করছে তো। মুখ বুজে ফাঁকা ফ্ল্যাটে ঢুকে মন খারাপ করে শুয়ে থাকে দেবেন। নিজের দুর্ভাগ্যকে দোষ দেয় ও। বুঝতে পারে না, বৈধ পরোয়ানা থাকা সত্বেও কেন রেশমীর শরীরমনের একচ্ছত্র অধিপতি হতে পারল না! লোকলজ্জা তুচ্ছ করে বৌ পুরুষবন্ধুদের সঙ্গে গা ঘষাঘষি করে, এই অপমান কী করে সইবে দেবেন! কিছু বলতে গেলেই নারী স্বাধীনতার দোহাই দিয়ে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। শান্তিপ্রিয় নিরীহ দেবেন দোর্দণ্ডপ্রতাপ রেশমীর অশান্তির ভয়ে কেঁচো হয়ে থাকে। মেনে নেয় ওর যথেচ্ছাচার।
সেদিন মুক্তোর সেটে সেজে উঠেছে অপরূপা। চারদিক ম-ম করছে ফরাসী সুগন্ধে। এসবই মি. আকাশ তেওয়ারীর সৌজন্যে। মি. তেওয়ারী যেমন সুপুরুষ তেমনই ধনবান ব্যক্তি। যদিও তিনি বিবাহিত, তাতে কী! রেশমীও তো বিবাহিতা। খুঁটে বাঁধা গাধাটাকে ছাড়তে চায় না রেশমী। সবই যখন সে মুখবুজে মেনে নিচ্ছে তখন আর ডিভোর্সের হ্যাপায় গিয়ে কী লাভ? মেনে না নিয়ে ওর উপায় আছে! ওই ভেড়াকান্তকে নিয়ে লোক সমাজে বেরোনো যায়! না আছে ড্রেসিং সেন্স, না জানে ম্যানার্স। উচ্চ অভিজাত মহলে কখনও ওঠাবসা নেই যে কেলে কার্তিকের। নেহাৎই ছাপোষা মধ্যবিত্ত।
আজ শহরের অভিজাত পানশালায় রেশমীর নিমন্ত্রণ। হোস্ট অবশ্যই
মি. তেওয়ারী। ফাইভ স্টার হোটেলের ডিস্কে হিল্লোল তুলে প্রবেশ করল রেশমী। ওর রূপের জেল্লায় সবাই ওর দিকে ফিরে তাকিয়ে রইল। জারদৌসির আঁচল লুটিয়ে রাজেন্দ্রাণীর মতো গেস্ট সোফায় শরীর ঢেলে দিল রেশমী। মি. তেওয়ারী তাড়াতাড়ি সুদৃশ্য কাট গ্লাসে ড্রিঙ্ক এনে দিলেন। শেরী নামক পানীয়ে গলা ভিজিয়ে মি. তেওয়ারীর হাতে হাত রেখে লাইভ প্রোগ্রামে মজে গেল রেশমী। এক সময় মিউজিকের তালে স্খলিত বসন সামলে ড্যান্স ফ্লোরে নাচতে দেখা গেল রেশমীকে। মি. তেওয়ারীর বক্ষলগ্না হয়ে নাচতে নাচতে হঠাৎ রেশমীর নজর পড়ল পাশের ড্যান্সিং জোড়ির দিকে। ও কি ভুল দেখছে! চোখে কি চালসে পড়ল! এও কি সম্ভব! দেবেন এখানে! দেবেন নাচের তালে পা মিলিয়েছে জনৈক সঙ্গিনীর সঙ্গে। দেবেন! সে আবার এত ভালো নাচতে শিখল কোথায়? সঙ্গের মেয়েটিই বা কে? ওর হতভম্ব অবস্থা দেখে মি. তেওয়ারী জিজ্ঞেস করল, ‘হোয়াট হ্যাপেনড ডার্লিং?’
নিজেকে সামলে রেশমী বলল, ‘মাই হাসব্যান্ড ইজ ড্যান্সিং হিয়ার। আই নোটিসড হিম।’
‘লেট হিম ড্যান্স। ইউ প্লিজ কাম ক্লোজ টু মি।’
এক ঝটকায় নিজেকে ছাড়িয়ে নিল রেশমী। এত সুন্দর ইভিনিংটা স্পয়েল করে দিল ওই রাস্কেলটা। কেন কে জানে, ভীষণ অসুরক্ষিত লাগছে নিজেকে। এবং অবহেলিত। তাহলে কি মনে মনে দেবেনকে ভরসা করে রেশমী? ভাবে, তেমন অস্বস্তিজনক কিছু ঘটলে ঠিক সামলে নেবে দেবেন? এ কেমনতরো মনের বিকার! যাকে অপছন্দ করে অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে, তাকেই আমার নিজের রাখোয়ালা ভাবে? এ কোন সত্যের মুখোমুখি রেশমী?
ডিজে পার্টির রীতি অনুযায়ী এক মিনিটের জন্য সব ডিস্কো লাইট অফ হয়ে যায়। আজও তার ব্যত্যয় হল না। হঠাৎ সব আলো নিভে হলঘরে ঘুরঘুট্টি অন্ধকার নেমে এল। পাশের জনকেও স্পষ্ট দেখা যায় না। এই সুযোগে কাপলরা ঘনিষ্ঠ হয়। মি. তেওয়ারী চুম্বনের আশায় ঠোঁট নামিয়ে আনলেন রেশমীর ওষ্ঠের দিকে। এক ঝটকায় নিজেকে ছাড়িয়ে রেশমী প্রায়ান্ধকারে খুঁজতে লাগল দেবেনকে। গেল কোথায় সে? এই তো পাশেই ছিল। সঙ্গিনীকে নিয়ে ভোজবাজির মতো উবে গেল নাকি!
এক মিনিট পরে আবার ঝপ করে সমস্ত লাইট জ্বলে উঠল। তখনই রেশমী খুঁজে পেল দেবেনকে। ওই তো সঙ্গিনীকে নিয়ে কোণের সোফায় অন্তরঙ্গ হয়ে বসে আছে। হিতাহিত জ্ঞানশূন্য হয়ে বাঘিনীর মতো তীরবেগে ছুটে গেল রেশমী। জ্বলন্ত চোখে চেয়ে সাপের মতো হিসহিস করে বলল, ‘বাহ্ বাহ্, কী সচ্চরিত্র মানুষ! লজ্জা করে না বান্ধবী নিয়ে পাবে ফুর্তি করতে এসেছ?’
দেবেন যথারীতি স্থিতধী শান্ত। সে নিচু গলায় বলল, ‘তা তুমি এখানে কী করতে এসেছ? তোমার লজ্জা করে না?’
থমকে গেল আহত বাঘিনী। যেন জোঁকের মুখে নুন পড়েছে। যে মানুষটা সাত চড়ে রা কাড়ে না, তার মুখে বুলি ফুটেছে! সমানে সমানে জবাব দিচ্ছে! দেবেনকে ছেড়ে ও মেয়েটিকে বলল, ‘দেখে তো মনে হচ্ছে, তুমি অবিবাহিত। তা জানো তো ইনি বিবাহিত। নাকি জেনেশুনে ম্যারেড লোকের সঙ্গে ডেট করছ? অভিজ্ঞ লোকের সঙ্গ করা এখন ফ্যাশন!’
দেবেন মেয়েটির হয়ে উত্তর দিল, ‘তুমিও তো ম্যারেড। মি. তেওয়ারী তো দুই বাচ্চার বাপ। তোমরা আসতে পারলে আমরা কেন পারব না?’
তাজ্জব হয়ে যাচ্ছে রেশমী। আহত নারীত্বের যন্ত্রণা কুরে কুরে খাচ্ছে ওকে। ওর মতো সুন্দরীর স্বামী অন্য মেয়েকে সময় দিচ্ছে! এতটা সাহস হল কী করে! ওই মেয়ে রূপে গুণে কোনদিকে রেশমীর থেকে যোগ্যতর? দেবেন হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে! ও শোধ নিচ্ছে রেশমীর বিশ্বাসঘাতকতার। এমন যে হতে পারে দুঃস্বপ্নেও ভাবতে পারেনি রেশমী। না না, দেবেনকে হারাতে পারবে না ও।
বাবা-মায়ের পছন্দ করা খাদহীন সোনা ও। এই মুহূর্তে তীব্র অসূয়া বোধ করছে রেশমী। ও সটান দেবেনের হাত টেনে ধরে বলল, ‘বাড়ি চলো।’
সঙ্গে সঙ্গে উঠে পড়ল দেবেন। শুধু বলল, ‘চলো। কিন্তু মি. তেওয়ারী?’
‘চুলোয় যাক তেওয়ারী। বাড়ি চলো। আমার কেমন শরীর খারাপ লাগছে। দমবন্ধ হয়ে আসছে।’
গাড়িতে উঠে রেশমী শুধোল, ‘ওই মেয়েটা কোথায় গেল? তোমার সাথী?’
‘ভাড়া করা সাথী। পয়সা দিয়ে দিয়েছি। চলে গিয়েছে।’
‘তুমি ভীষণ খারাপ। আমাকে জ্বালাতে ভাড়াটে মেয়ে নিয়ে ডিস্কো থেক-এ এসেছ।’
‘কী করব! তুমি যে আমাকে এতটুকু গুরুত্ব দাও না। তাই একটু উল্টো চাল খেলে দেখলাম, লাগে কিনা? লেগে গেল। তোমার অধিকার বোধ আছে আমাকে নিয়ে। তার মানে কোথাও ভালোবাসাও আছে নিভৃত কোণে। রাতের সব তারাই আছে দিনের আলোর গভীরে।’
এত সুন্দর কথা বলতে পারে দেবেন! এত পুরুষোচিত আত্মবিশ্বাসী ভরাট কণ্ঠস্বর! এই তো চেয়েছে রেশমী চিরকাল। এতদিন হীরে ফেলে কাচ আঁচলে বেঁধেছে। আর না। রেশমী দেবেনের কাছ ঘেঁষে বলল, ‘একটা কথা রাখবে?’
‘কী?’
‘চলো, আমরা পুরোনো বাড়িতে মা বাবার কাছে ফিরে যাই। ওঁরা অনেকদিন একা আছেন।’
রেশমীর এই কথা শুনে দেবেন আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ল। শুধু বলল, ‘যাবে? চলো, কালই আমরা মা বাবার কাছে ফিরে যাই। শিকড় ছাড়া কী গাছ বাঁচে!’
Advertisement



