• facebook
  • twitter
  • youtube
Tuesday, 28 July, 2026

ধর্মতলায় জেন-জি বিক্ষোভে সুপ্রিম রেহাই, মুক্তি পেলেন ১৬ জন

মঙ্গলবারই সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ নির্দেশ দিয়ে জানায়, নিট প্রশ্নফাঁস কাণ্ডের ঘটনায় যে সকল বিক্ষোভকারীদের গ্রেপ্তার বা আটক করা হয়েছে, তাঁদের মুক্তি দিতে হবে।

ধর্মতলায় জেন-জি বিক্ষোভে সুপ্রিম রেহাই, মুক্তি পেলেন ১৬ জন

PICTURE SOURCE-SNS

সুপ্রিম কোর্টের একটা নির্দেশ। আর তারপরেই বদলে গেল গোটা পরিস্থিতি। নিট প্রশ্নফাঁস কাণ্ডের প্রতিবাদে শুক্রবার ধর্মতলায় একাধিক বাম ছাত্র সংগঠন প্রতিবাদ মিছিলে জড়ো হয়েছিল। সেই মিছিলে ধুন্ধুমার পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। বিক্ষোভের ঘটনায় পুলিশ ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছিল। মঙ্গলবার সেই ১৬ জনকেই ব্যাঙ্কশাল আদালতে তোলা হলে বিচারক পিয়ালী রায় তাঁদের জামিন মঞ্জুর করেন।

মঙ্গলবার ১৬ জনকে আদালতে তোলা হলে প্রথমে পুলিশের আর্জি মেনে জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছিলেন বিচারক। এরপর মঙ্গলবারই সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ নির্দেশ দিয়ে জানায়, নিট প্রশ্নফাঁস কাণ্ডের ঘটনায় যে সকল বিক্ষোভকারীদের গ্রেপ্তার বা আটক করা হয়েছে, তাঁদের মুক্তি দিতে হবে। যদি তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও অপরাধের রেকর্ড না থাকে, তাহলে তাঁদের অবিলম্বে মুক্তির নির্দেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট।

কী জানিয়েছেন আন্দোলনকারীদের আইনজীবী?

শীর্য আদালতের নির্দেশ আসার পরেই পুরো রায় বদলে যায়। এরপর শীর্ষ আদালতের নির্দেশকে মান্যতা দিয়ে বিচারক পিয়ালী রায় ধৃত ১৬ জনের জামিন মঞ্জুর করেন। এদিন আন্দোলনকারীদের আইনজীবী শামিম আহমেদ বলেন, ‘ওই ১৬ জনকে মিথ্যে মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। মানুষের প্রতিবাদে সরকার পক্ষ এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে। তদন্ত করে কিছু পাওয়া যায়নি। তদন্তে কোনও অগ্রগতি নেই।’

নওশাদ সিদ্দিকীর প্রতিক্রিয়া

এদিন ব্যাঙ্কশাল আদালতে আন্দোলনকারীদের সমর্থন করতে আদালতে উপস্থিত ছিলেন ভাঙড়ের বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী। তিনি বলেন, ‘ছাত্র সংগঠনের ডাকা মিছিলে বেশ কিছু বহিরাগত ঢুকে গন্ডোগোল পাকিয়েছে। কিন্তু সাংবাদিকদেরকে মারধর বা হেনস্থা করার তীব্র প্রতিবাদ জানাই। যাঁরা এই ধরনের কাজ করেছেন, তাঁদের শাস্তির প্রয়োজন রয়েছে। যে ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাঁরা অনেকে সেদিনের মিছিলে উপস্থিত ছিলেন না।’

সুপ্রিম কোর্টের রায়

এদিন শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, যেসব আন্দোলনকারী পড়ুয়ার আগে থেকে কোনও অপরাধমূলক রেকর্ড বা ব্যাকগ্রাউন্ড নেই, তাদের অবিলম্বে জেল বা হেফাজত থেকে মুক্ত করতে হবে। সেই সঙ্গে, কোনও অপরাধের ইতিহাস না থাকা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে আপাতত কোনও কঠোর বা বলপ্রয়োগমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা যাবে না বলেও অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত।

আরও পড়ুন: বিক্ষোভে ‘পুলিশি বর্বরতা’: আটক পড়ুয়াদের অবিলম্বে মুক্তির নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের, গড়া হবে SIT

দেশজুড়ে চলা এই ছাত্র বিক্ষোভে পুলিশ বাহিনীর বিরুদ্ধে নির্বিচারে লাঠিচার্জ, টিয়ার গ্যাস, পেলেট গান এমনকী ইলেকট্রিক শক্ ব্যাটন ব্যবহারের অভিযোগ নিয়ে শুনানির সময় সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ, অভিযোগ অত্যন্ত মারাত্মক এবং এর একটি অবাধ, নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। গোটা ঘটনার তদন্তে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির পর্যবেক্ষণে বিশেষ তদন্তকারী দল বা এসআইটি গঠনের সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি সুর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনের ডিভিশন বেঞ্চ। আদালতের সেই রায়ের পরেই ব্যাঙ্কশাল আদালত থেকে মুক্তি পেলেন ১৬ জন আন্দোলনকারী।