• facebook
  • twitter
  • youtube
Sunday, 27 September, 2026

‘অখণ্ড বাংলা রক্ষায় একজনই লড়েছিলেন’, ইতিহাসের দাবি নিয়ে বামেদের তোপ

কমরেড সুজন চক্রবর্তীর লেখা ‘দেশপ্রেমের খতিয়ান, স্বাধীনতা সংগ্রাম ও বাংলা ভাগ’ বই প্রকাশ অনুষ্ঠানে ইতিহাসের ব্যাখ্যা নিয়ে সরব হলেন

‘অখণ্ড বাংলা রক্ষায় একজনই লড়েছিলেন’, ইতিহাসের দাবি নিয়ে বামেদের তোপ

বাম পরিষদীয় নেতা সুজন চক্রবর্তী। (File Photo: IANS)

কমরেড সুজন চক্রবর্তীর লেখা ‘দেশপ্রেমের খতিয়ান, স্বাধীনতা সংগ্রাম ও বাংলা ভাগ’ বই প্রকাশ অনুষ্ঠানে ইতিহাসের ব্যাখ্যা নিয়ে সরব হলেন বাম নেতৃত্ব। বই প্রকাশ করে বিমান বসু দাবি করেন, স্বাধীনতা আন্দোলনে বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠনের ভূমিকা বইটিতে তথ্যভিত্তিক ভাবে তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলা ভাগের ইতিহাস নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

বিমান বসুর বক্তব্য, ‘‘যাঁর নাম নিয়ে এত কথা বলা হচ্ছে, তাঁকে কখনও বাংলা ভাগ নিয়ে কথা বলতে শুনিনি।’’ নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, তাঁর বয়স তখন ১৩ বছর। শ্রদ্ধানন্দ পার্কে ওই নেতার ভাষণ শুনতে গিয়েছিলেন তিনি। সেখানে তাঁকে বলতে শুনেছিলেন, কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ। পরে বড়দের কাছ থেকে জেনেছিলেন, চুক্তির ভিত্তিতেই কাশ্মীর ভারতের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল।

বিমান বসুর প্রশ্ন, ‘‘কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ—এই কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু অখণ্ড বাংলা রক্ষা করতে একজনই লড়াই করেছিলেন, ইতিহাসে এমন কোনও কথা নেই।’’

অনুষ্ঠানে মহম্মদ সেলিমও বইটির প্রাসঙ্গিকতার কথা তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, বইটি তথ্যনির্ভর এবং বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর কথায়, দেশ শুধুমাত্র কোনও নির্দিষ্ট মানচিত্রের নাম নয়; মানুষের প্রতি ভালোবাসা, আস্থা এবং চলমান সভ্যতার প্রতীক।

বাংলার জন্ম নিয়ে বর্তমানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের দাবি নিয়েও কটাক্ষ করেন সেলিম। তাঁর বক্তব্য, ইতিহাসের ভিত্তিতেই একটি রাজ্যের জন্ম হয়। স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ইংরেজদের বিরুদ্ধে নৌবিদ্রোহের সময় তিনটি পতাকা দেখা গিয়েছিল—কমিউনিস্ট, কংগ্রেস এবং মুসলিম লিগের। তাঁর দাবি, সেই সময় আরএসএসের কোনও পতাকা সেখানে ছিল না।

সেলিম আরও বলেন, সাম্প্রদায়িক ও সাম্রাজ্যবাদী রাজনীতির বিরুদ্ধে কমিউনিস্টরা বরাবর লড়াই করেছে। তাঁর অভিযোগ, আরএসএস স্বাধীনতা সংগ্রাম থেকে নিজেকে দূরে রেখেছিল।

বইয়ের লেখক সুজন চক্রবর্তী বলেন, বহু সংগ্রাম ও আন্দোলনের মধ্য দিয়েই ভারত স্বাধীনতা অর্জন করেছে। জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সাধারণ মানুষ সেই আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন। কিন্তু বর্তমানে ইতিহাস বিকৃত করার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ তাঁর।

সুজনের কথায়, ‘‘মানুষের কাছে সঠিক তথ্য তুলে ধরতেই এই বই লেখা হয়েছে।’’ ‘বন্দে মাতরম’ প্রসঙ্গেও রাজনৈতিক বিরোধীদের নিশানা করেন তিনি। তাঁর দাবি, যারা এখন ‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে বেশি উৎসাহ দেখাচ্ছেন, তাঁদের পূর্বপুরুষদের মধ্যে এমন কাউকে খুঁজে পাওয়া যাবে না, যিনি ওই স্লোগান দিতে দিতে জেলে গিয়েছেন বা ফাঁসির মঞ্চে উঠেছেন।

বই প্রকাশের মঞ্চ থেকে এভাবেই স্বাধীনতা আন্দোলন, বাংলা ভাগ এবং দেশপ্রেমের ইতিহাস নিয়ে বর্তমান রাজনৈতিক বিতর্কে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করলেন বাম নেতারা।