চোরবাগান সার্বজনীন দুর্গাপুজোয় মৃত্যুমিছিল নিয়ে গোটা শহরে চর্চা শুরু হয়েছে। অপ্রত্যাশিত এই ঘটনার পর নড়েচড়ে বসল রাজ্য প্রশাসন এবং রাজ্য সরকার। কেউ পুজো কমিটির দিকে আঙুল তুলছেন, কেউ অভিযোগ করছেন পুলিশ-প্রশাসনের বিরুদ্ধে। এই পরিস্থিতিতে দুর্গাপুজোর আনন্দ আর নেই রাজ্যের মানুষের মনে। এখন আতঙ্কে রয়েছেন রাজ্যবাসী। অন্যান্য পুজো মণ্ডপে যাওয়া নিয়ে সতর্কতা অবলম্বন করছেন। যেভাবে আনন্দ বদলে গিয়েছে বিষাদে তাতে কপালে ভাঁজ পড়েছে অনেকের। প্রথম সপ্তমীর সন্ধ্যায় চোরবাগান সার্বজনীনের পদপিষ্টের ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে অন্তত ১৯ জনের। রবিবার এই ঘটনা নিয়ে মুখ খুললেন রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। তিনি জানান, গাফিলতির কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।
এখন চোরবাগানের দুর্ঘটনা এবং মৃত্যুমিছিল নিয়ে সবটা সরেজমিনে খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তদন্তের স্বার্থে চোরবাগানের ঘটনাস্থলের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বাজেয়াপ্ত করেছে লালবাজার। ওই এলাকায় জারি করা হয়েছে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৬৩ ধারা। এই আবহে রবিবার চোরবাগান সার্বজনীনের পদপিষ্টের ঘটনা নিয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘এই ধরনের ঘটনা খুবই দুঃখজনক এবং দুর্ভাগ্যজনক। সকলে একসঙ্গে আনন্দ করছিল, হঠাৎ করে দুর্ঘটনা ঘটে গেল। এতজনের অকাল প্রয়াণ। অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে এই ধরনের ঘটনা কুম্ভমেলা, গঙ্গাসাগরে হয়ে থাকে। এমন জায়গায় বহু মানুষের জমায়েত হয়। আগে থেকে সাবধান থাকা উচিত আয়োজকদের। একটু ভুলের জন্য দুর্ঘটনা ঘটে যায়।’
ইতিমধ্যেই প্রাথমিক তদন্তে কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে পুলিশ সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে। ধৃতদের তালিকায় আছেন পুজো কমিটির সম্পাদক এবং সহ-সভাপতি, একটি বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থার দুই আধিকারিক-সহ আরও কয়েকজন। এই ঘটনা নিয়ে দিলীপ ঘোষের বক্তব্য, ‘বছর বছর কলকাতায় দুর্গাপুজো হচ্ছে। কিন্তু এমন বেদনাদায়ক ঘটনা কখনও ঘটেনি। প্রত্যেক পুজো কমিটিকে ভিড় সামলানোর দিকে নজর দিতে হবে। লক্ষ লক্ষ মানুষ দর্শন করে। পুলিশের সব দিক ভাল করে খতিয়ে দেখে তবে পুজোর অনুমতি দেওয়া উচিত। সামান্য ভুলের জন্য বড় ঘটনা ঘটে যেতে পারে।’
তাছাড়া প্রায় ২৫ ফুট চওড়া রাস্তার ১৫ ফুটই দখল করে রেখেছিল স্টল। তাই বেরোনোর জন্য অবশিষ্ট ছিল মাত্র ১০ ফুট রাস্তা। এতটা গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা কীভাবে স্টল বসানোর জন্য দখল করা হল সেটা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে পুলিশ। রবিবার এই ঘটনা নিয়ে দিলীপ ঘোষের কড়া বার্তা, ‘এই ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, স্বাস্থ্যমন্ত্রী, মুখ্যসচিব, অন্য সরকারি আধিকারিক এবং বিজেপির নেতা-কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়েছেন। ইতিমধ্যেই ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য আর্থিক সাহায্য ঘোষণা করা হয়েছে। স্বজনহারা পরিবারদের পাশে আছি আমরা। এই ঘটনার যথাযথ তদন্ত হবে।’




