• facebook
  • twitter
  • youtube
Thursday, 1 October, 2026

‘যেমন করেছে তেমনই ফল পাবে’, বীরভূমের কেষ্টকে কটাক্ষ পঞ্চায়েতমন্ত্রীর

তাছাড়া পুলিশ ওই তিনজন যুবককে আটক করেছিল। যদিও বৃহস্পতিবার তিনজনই ছাড়া পেয়েছে বলে খবর। তবে দিলীপ ঘোষের কথায়

‘যেমন করেছে তেমনই ফল পাবে’, বীরভূমের কেষ্টকে কটাক্ষ পঞ্চায়েতমন্ত্রীর

Dilip Ghosh Photo-SNS

রাজ্যে পালাবদলের পর নিজেকে খানিকটা বদলে ফেলেছিলেন বীরভূমের একদা বেতাজ বাদশা অনুব্রত মণ্ডল ওরফে কেষ্ট। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির ছেড়ে বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দিয়েছিলেন। ভেবে ছিলেন এভাবে নিজের কৃতকর্ম থেকে বেঁচে যাবেন। কিন্তু তা হল না। বরং বীরভূমের পার্টি অফিসে তাঁর সামনেই চলল তুমুল ভাঙচুর। একইসঙ্গে তাঁর জামার কলার ধরে শাসানি থেকে হুমকি দিয়ে গিয়েছে তিনজন যুবক বলে অভিযোগ। এই ঘটনার পরই অনেকের চর্চায় উঠে আসে, যাঁর ডাকে একদা বাঘে-হরিণে একঘাটে জল খেত সে এখন কার্যত বিড়াল হয়ে গিয়েছে। আৎ এই গোটা ঘটনা নিয়ে অনুব্রতকে তীব্র কটাক্ষ করেছেন রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ।

এই অনুব্রত মণ্ডল তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় থাকতে বীরভূম জুড়ে একছত্র আধিপত্য চালিয়েছিলেন। নিজেকে দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতা হিসাবে তুলে ধরে নানা কুকীর্তি করেছিলেন বলে অভিযোগ। যা দল তাঁকে করতে বলেনি। সেই অত্যাচারের জন্যই তাঁর বিরুদ্ধে জনরোষ আছড়ে পড়েছে বলে এবার মুখ খুললেন বিজেপির ‘দাবাং’ নেতা তথা পঞ্চায়েতমন্ত্রী। বৃহস্পতিবার দিলীপ ঘোষ কটাক্ষ করে বলেন, ‘রাজনীতি এরকমই। কেউ কখনও উপরে। আবার কেউ কখনও নিচে। যদি কেউ ক্ষমতা পায় তার সঠিক ব্যবহার করতে হয়। তৃণমূল আমলে ক্ষমতার অপব্যবহার করা হয়েছে। মানুষ কষ্ট পেয়েছে। যেমন করেছে তেমনই ফল পাবে। তবে এভাবে মারধর করে কোনও প্রতিশোধ নেওয়া যায় না। মানুষের ক্ষোভ এভাবেই বেরিয়ে আসে।’

বুধবার রাতে সিউড়ির তৃণমূলের পার্টি অফিসে যান অনুব্রত মণ্ডল। তখন তিনজন যুবক মোটা কাঠ, লাঠি নিয়ে পার্টি অফিসে ভাঙচুর করে। তারা কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নয় বলেই জানিয়েছে। পুলিশ যখন তাদের নিয়ে যাচ্ছিল সেখান থেকে তখন জয় শ্রীরাম স্লোগান দিয়েছিল। আর এই নিয়ে বৃহস্পতিবার দিলীপ ঘোষের বক্তব্য, ‘জয় শ্রীরাম বিজেপির স্লোগান নয়। সারা ভারতের প্রত্যেকটি মানুষ জয় শ্রীরাম বলতেই পারে। যারা করেছে প্রশাসন বলতে পারবে তারা কারা। আমার মনে হয় না কেষ্টর মারাত্মক কোনও আঘাত লেগেছে। তবে এটা ঠিক, ওর যা পাওনা ছিল কাল ওরা অনেকটা মিটিয়ে দিয়েছে।’

তাছাড়া পুলিশ ওই তিনজন যুবককে আটক করেছিল। যদিও বৃহস্পতিবার তিনজনই ছাড়া পেয়েছে বলে খবর। তবে দিলীপ ঘোষের কথায়, ‘আমি ১০ বছর ধরে বীরভূমে কোনও সভা করতে পারিনি। পুলিশ অনুমতি দিত না। একবার ভুল করে পুলিশ অনুমতি দিয়ে ফেলেছিল। তখন অন্য জায়গায থেকে জল পাম্প করে আমার সভার মাঠে জল ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছিল। আমরা ক্ষমতায় এসেছি। বীরভূম জেলায় সবথেকে বেশি ভোট পেয়েছি। মানুষ তো রাতারাতি সব ভুলে যাবে না। তবে আমাদের শান্তি বজায় রেখে বাংলার উন্নতি করতে হবে।’