• facebook
  • twitter
  • youtube
Wednesday, 7 October, 2026

SIR মামলা বিচারাধীন, নাগরিকত্ব নির্ধারণে বিলাসপুর FRO-র ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন কলকাতা হাইকোর্টের

স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR)-এ ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার বিরুদ্ধে চার ব্যক্তির আপিল বিচারাধীন। তার মধ্যেই তাঁদের

SIR মামলা বিচারাধীন, নাগরিকত্ব নির্ধারণে বিলাসপুর FRO-র ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন কলকাতা হাইকোর্টের

কলকাতা হাইকোর্ট। ফাইল চিত্র।

স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR)-এ ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার বিরুদ্ধে চার ব্যক্তির আপিল বিচারাধীন। তার মধ্যেই তাঁদের নাগরিকত্ব নিয়ে পৃথকভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার উদ্যোগ কেন, তা নিয়ে ছত্তীসগঢ়ের বিলাসপুরের ফরেনার্স রেজিস্ট্রেশন অফিসারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলল কলকাতা হাইকোর্ট।

বিচারপতি কৃষ্ণ রাওয়ের বেঞ্চে মামলার শুনানিতে আদালতের প্রশ্ন, SIR-সংক্রান্ত আপিল যখন সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে গঠিত আপিল ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন, তখন প্রশাসনের অন্য কোনও কর্তৃপক্ষ কীভাবে একই ব্যক্তিদের নাগরিকত্ব নিয়ে পৃথক সিদ্ধান্ত নিতে পারে?

মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জের হিরানন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা মোস্তাকিম শেখের করা মামলার সূত্রেই বিষয়টি আদালতের সামনে আসে। মামলাকারীর দাবি, বিলাসপুরে আটক চার ব্যক্তি—নাসিরুদ্দিন শেখ, লাল্টু শেখ, সফিকুল ইসলাম এবং সাবির শেখ—SIR চলাকালীন ভোটার তালিকা থেকে তাঁদের নাম বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন। সেই আপিল বর্তমানে সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন।

শুনানিতে বিচারপতি রাও প্রশাসনের আইনজীবীর কাছে জানতে চান, একই বিষয়ে প্রশাসনের অন্য কোনও কর্তৃপক্ষ যদি সিদ্ধান্ত নিয়ে নেয়, তা হলে আপিল ট্রাইব্যুনালের ভূমিকা কী থাকে? আদালতের পর্যবেক্ষণ, কোনও ব্যক্তিকে প্রশাসন ইতিমধ্যেই ভারতীয় নাগরিক নন বলে চিহ্নিত করলে, সেই ব্যক্তির বিচারাধীন আপিলের কী প্রভাব থাকবে, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

ফরেনার্স রেজিস্ট্রেশন অফিসারের পদক্ষেপ নিয়েও প্রশ্ন তোলে আদালত। বিচারপতি রাও জানতে চান, যখন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আপিল ট্রাইব্যুনালে সক্রিয়ভাবে বিচারাধীন, তখন একই ব্যক্তিদের নাগরিকত্ব নিয়ে ফরেনার্স রেজিস্ট্রেশন অফিসার কীভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

শুনানিতে জানানো হয়, বিলাসপুরে বাংলাদেশি নাগরিক সন্দেহে মোট ২৩ জনকে আটক করা হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে ১৯ জনকে পরে ছেড়ে দেওয়া হলেও বাকি চারজন এখনও আটক রয়েছেন।

মামলাকারীর আইনজীবী রঘুনাথ চক্রবর্তী আদালতকে জানান, ওই চার ব্যক্তির ভারতীয় নাগরিকত্বের পক্ষে প্রয়োজনীয় নথি রয়েছে। তাঁর দাবি, চারজনের বাবা-মায়ের নাম ২০০২ সালের SIR তালিকাতেও ছিল। এমনকি তাঁরা ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও ভোট দিয়েছেন বলে আদালতকে জানানো হয়।

অন্য দিকে, শুনানিতে নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী অনামিকা পাণ্ডে জানান, বিলাসপুরের সংশ্লিষ্ট দফতরের মাধ্যমে ওই চারজনকে আটক করা হয়েছে। আদালত লক্ষ্য করে, মামলায় এখনও ফরেনার্স রেজিস্ট্রেশন অফিসারকে পক্ষভুক্ত করা হয়নি।

এর পর মামলাকারীর আইনজীবীকে ফরেনার্স রেজিস্ট্রেশন অফিসারকে মামলায় পক্ষভুক্ত করার নির্দেশ দেয় আদালত। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দফতরকে তাদের অবস্থান এবং এখনও পর্যন্ত নেওয়া পদক্ষেপ সম্পর্কে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। মামলাটির পরবর্তী শুনানি আগামী ৮ অক্টোবর।