• facebook
  • twitter
  • youtube
Monday, 10 August, 2026

রঙ্গনা থিয়েটারের মালিক হাজির জনতার দরবারে, মুখ্যমন্ত্রীকে নালিশ তৃণমূল সাংসদ, বিধায়কের বিরুদ্ধে

আর বিপুল কষ্টের কথা জানিয়ে সুবিচারের আশায় সস্ত্রীক হীরক মুখোপাধ্যায় হাজির হলেন মুখ্যমন্ত্রীর জনতার দরবারে

রঙ্গনা থিয়েটারের মালিক হাজির জনতার দরবারে, মুখ্যমন্ত্রীকে নালিশ তৃণমূল সাংসদ, বিধায়কের বিরুদ্ধে

CM Suvendu Adhikari Photo-SNS

শহর কলকাতায় একদা নাট্যচর্চার কেন্দ্রবিন্দু ছিল। এখন টুকটাক হলেও বাম আমল থেকে তেমন গুরুত্ব পায়নি নাট্য দলগুলি। থিয়েটার প্রেমীদের জন্য তৃণমূল কংগ্রেস সরকার কিছু কাজ করলেও তা সার্বিক পরিস্থিতি বদলাতে পারেনি। এখন রাজ্যে এসেছে বিজেপি সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রত্যেক সপ্তাহে জনতার দরবার করেন সল্টলেকের পার্টি অফিসে। সেখানে সোমবার এক অবাক করা দৃশ্য ধরা পড়ল। সেখানে খ্যাতনামা এক খিয়েটার সংস্থার মালিক এসে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করলেন। আর যা জানালেন তাতে বাকরুদ্ধ হওয়ার জোগাড়।

এদিকে উত্তর কলকাতার গোয়াবাগানের রঙ্গনা থিয়েটার একদা পশ্চিমবঙ্গের মানুষের মুখে মুখে ফিরত। কিন্তু তারপর বাস্তব ছবিটা কালের গতিতে পাল্টে যায়। জয়জয়ন্তী, কী বিভ্রাট, মোসায়েব, বাদশাহি চাল-এর মতো সুপারহিট নাটক এখনও পুরনো দিনের মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে রেখেছে। আর নাট্যপ্রেমীরা তো জানেই। এইসব কালজয়ী নাটক নিয়ে এই কল্লোলিনী কলকাতায় রীতিমতো চর্চা চলত। কিন্তু এখন সেসব শুধুই স্মৃতি। বদলের কলকাতায় দর্শকের অভাবে প্রায় ২৩ বছর ধরে বন্ধ রঙ্গনা থিয়েটার। সমস্যা পড়েন কর্মীরা। অবশেষে পাশেই এক জমিতে রঙ্গনার কর্মীদের নিয়ে প্রসাধনী দ্রব্য তৈরির কারখানা খোলেন থিয়েটার হলের মালিক হীরক মুখোপাধ্যায়। তিন বছর আগে সেই জমিও দখল হয়ে গিয়েছে। থানা-পুলিশ, প্রশাসন, সাংসদ, বিধায়ককে ধরেও ফল হয়নি।

অন্যদিকে এমনই সব অভিযোগ সোমবার মুখ্যমন্ত্রীর জনতার দরবারে এসে জানিয়ে গেলেন রঙ্গনা থিয়েটারের মালিক। আর বিপুল কষ্টের কথা জানিয়ে সুবিচারের আশায় সস্ত্রীক হীরক মুখোপাধ্যায় হাজির হলেন মুখ্যমন্ত্রীর জনতার দরবারে। আর মুখ্যমন্ত্রীকে পেয়ে রঙ্গনা থিয়েটারের মালিক বলেন, ‘২০০৩ সালে রঙ্গনা থিয়েটার দর্শকের অভাবে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। রঙ্গনার কর্মীদের নিয়ে পাশেই প্রসাধনী দ্রব্যের কারখানা গড়ে তুলেছিলাম। ভালই চলছিল সেই কারাখানা। কিন্তু ২০২৩ সালের ১৩ মে আমার কাছে কর্মীরা ফোন করে জানায় কারখানার দরজা খোলা যাচ্ছে না। তালা দেওয়া।’

এই ঘটনার পর অনেক দৌড়ঝাঁপ করেছিলেন। কিন্তু সব দরজাই তাঁকে ফিরিয়ে দিয়েছিল। কেউ ন্যায্য বিচার দেননি তাঁকে। চোখের জল ফেলে বাড়ি ফিরতে হয়েছিল তাঁকে। হীরক মুখোপাধ্যায় দুঃখের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে বললেন, ‘পুলিশ তখন কোনও সাহায্য করেনি। অভিযুক্ত আদিত্য আঢ্যি চাবি নিয়ে এসে জানিয়েছিল যে ওই জায়গা তাঁর। আমার গায়েও ওর লোক হাত তোলে। আমি আদালতে যাই। ইনজানশন পাই। কারখানার সব জিনিস লরি করে ওরা নিয়ে গিয়েছে। আদিত্য আঢ্যিকে দিয়ে প্রমোটাররা ওই জমি দখলের জন্য এই কাজ করিয়েছে। সব বন্ধ হয়ে গিয়েছে। সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, বিধায়ক অতীন ঘোষ কেউ সাহায্য করেননি।’ মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন দেখবেন। মুখে হাসি নিয়ে ফিরলেন হীরকবাবু।