এতদিন শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে, কিন্তু আর দুর্নীতি হবে না। স্টেটসম্যানের সঙ্গে মুখোমুখি সাক্ষাৎকারে বললেন মন্ত্রী ভাস্কর ভট্টাচার্য।
প্রশ্ন: গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর এবং বিধায়ক। কিভাবে দুটি বিষয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চলছেন?
উত্তর: দুটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর রয়েছে। একটি শ্রম দপ্তর। অন্যটি জনস্বাস্থ্য কারিগরি। শ্রীরামপুর বিধানসভা রয়েছে। সামঞ্জস্য রেখে চলতেই হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গের দায়িত্বও রয়েছে। সামঞ্জস্য রেখে চলাটাই আমাদের কাজ।
প্রশ্ন: এই মুহূর্তে কাজের প্রায়োরিটি কী?
উত্তর: দপ্তরে বেশ কিছু বিষয় ঘাটতি রয়েছে। সাধারণ মানুষের প্রচুর আশা-আকাঙ্ক্ষা রয়েছে। দপ্তর সামলানো মানে, সেই আশা-আকাঙ্ক্ষাগুলো তো পূরণ করতেই হবে। আমার এলাকায় বিভিন্ন শ্রমিকের যে সমস্যাগুলো রয়েছে সেগুলো মিটিং করে মেটাচ্ছি। নিজের কেন্দ্র এবং দপ্তর সামলানো অটোমেটিকালি একে অপরের পরিপূরক হয়ে যাচ্ছে। যখন বিধায়ক কার্যালয়তে থাকি তখন প্রচুর মানুষ প্রচুর সমস্যা নিয়ে আসেন। ভাবতে অবাক লাগে এত সমস্যা নিয়ে মানুষ ছিলেন কি করে এতগুলো বছর? আসলে আগে মানুষ বলার সুযোগই পেতেন না। এখন পাচ্ছেন। মানুষকে বোঝাতে হচ্ছে সব সমস্যার সমাধান মন্ত্রী নয়। টলারেন্স বাড়াতে হচ্ছে। মানুষকে বোঝাতে হচ্ছে সমস্যা অনুযায়ী সমাধান করতে হবে।
প্রশ্ন: জল জীবন মিশন এখনও পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি পশ্চিমবঙ্গে। মালভূমি ও শুষ্ক অঞ্চলে গ্রীষ্মকালে পানীয় জলের বড় সমস্যা থাকে। যদিও বা পানীয় জল পৌঁছে দেওয়া যায় সেক্ষেত্রে আর্সেনিকের সমস্যা থাকে। এর সমাধান নিয়ে কিছু ভেবেছেন?
উত্তর: জল জীবন মিশন, গঙ্গা অ্যাকশন প্ল্যান কেন্দ্রীয় সরকারের প্রকল্প। কেন্দ্রের কাছ থেকে টাকা এসেছে। কিন্তু প্রচুর দুর্নীতি হয়েছে। দুর্নীতিকে উপড়ে ফেলে যদি আমায় কাজ করতে হয় তাহলে আগে যারা দুর্নীতি করেছে তাদের আমাকে শনাক্ত করতে হবে। শনাক্তকরণের কাজও চলছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন দুর্নীতিবাজদের শনাক্ত করতে হবে। আমাদের দপ্তর কড়াভাবে নজর দিচ্ছে যারা দুর্নীতি করেছে তাদের ওপরে। পিএফ না দেওয়া, গ্রাচুইটি না দেওয়া শ্রমিকদের এগুলো হবে না। এগুলো যারা করেছে তাদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। টাকা লুঠ করে গা ঢাকা দিয়ে থাকা যাবে না। এই সরকার শ্রমিক দরদী সরকার। শ্রমিকদের স্বার্থ আমরা সবসময় দেখব। এর সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে শিল্প। শিল্প হলে কর্মসংস্থান হবে, শ্রমিক লাগবে। শ্রমিক ভাইরাই যদি না থাকেন তাহলে শিল্প হবে কী করে?
প্রশ্ন: কারখানাগুলোতে যাতে শ্রমিক আইন বলবৎ থাকে, যাতে আর শ্রমিকদের সমস্যায় পড়তে না হয় তার জন্য কী ভাবনা রয়েছে?
উত্তর: সবকিছু নিয়ে ভাবনা রয়েছে। শিক্ষা স্বাস্থ্য সবকিছুর মানোন্নয়ন করতে হবে এবং আমরা করছি। চা শ্রমিকদের জন্য ২৫ দিনের যে কাজ বন্ধ ছিল, তা নতুন করে চালু হচ্ছে। দিনের পর দিন চুক্তিভিত্তিক শ্রমিকরা টাকা পাননি। সেগুলো আমরা ক্লিয়ার করছি। মালিক এবং শ্রমিক পক্ষের সাথে মিটিং করে যাতে কোন কারখানা বন্ধ না হয়, বন্ধ কারখানাগুলো যাতে খুলে যায় যত তাড়াতাড়ি সম্ভব, টাকা পয়সা যাতে কারোর মার না যায় সবদিকে নজর রাখা হচ্ছে।




