কলকাতার একাধিক দর্শনীয় স্থানের মধ্যে অন্যতম কালীঘাট মন্দির। এই মন্দিরকে অনেকেই সতীপীঠ বা শক্তিপীঠ বলে থাকেন। এখানে নিয়মিত হাজার হাজার ভক্তের ঢল নেমে থাকে। এককথায় বলা হয় কালীক্ষেত্রে। বিশেষ পুজোর দিনে তো কালো মাথার সারি ছাড়া আর কিছু দেখাই যায় না। একাধিক তীর্থক্ষেত্র রয়েছে পশ্চিমবঙ্গে। তার মধ্যে কালীঘাট বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। কদিন আগে সিদ্ধান্ত হয়েছে, কালীঘাট থানা থাকলেও পৃথক কালীঘাট ফাঁড়ি তৈরি করা হবে নিরাপত্তার স্বার্থে। এখন কালীঘাটের নিরাপত্তার বেষ্টনী আঁটোসাঁটো করতে তৎপর হয়েছে প্রশাসন। এবার কালীঘাট মন্দিরে শুরু হলো এনএসজি’র মহড়া। সপ্তাহের শুরুতেই কালীঘাট মন্দির ঘিরে ফেলল এনএসজি আধিকারিকরা। সেখানে উপস্থিত ছিলেন কলকাতা পুলিশ, এসটিএফ এবং কমান্ডো ইউনিটও।
ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের পর এটা দ্বিতীয় মহড়া কলকাতায়। সোমবার ১৩ সদস্যের একটি এনএসজি টিম এবং কলকাতা পুলিশের বিশেষ দল পৌঁছে যায় কালীঘাট চত্বরে। থার্মাল স্ক্যানার সিস্টেম বসিয়ে দিয়ে থ্রিডি ছবি তোলা হয়। এনএসজি সদর দপ্তরের নির্দেশ অনুযায়ী, ২৪ থেকে ২৭ আগস্ট-এই তিনদিন ধরে কালীঘাট মন্দির চত্বরে বিশেষ নজরদারি বা রেইকি পরিচালনা করা হবে। এদিন কালীঘাট মন্দিরে এনএসজি’র গ্রুপে ছিলেন একজন ইউনিট অফিসার, দু’জন অ্যাসিস্ট্যান্ট কমান্ডার এবং ১০ জন কমান্ডো। মহড়া পদ্ধতিতে অংশ নেন কলকাতা পুলিশ, এসটিএফ, কলকাতা কমান্ডো ইউনিটও।
কালীঘাট মন্দিরের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের কী কী ব্যবস্থা রয়েছে, সে বিষয়েও এদিন জানতে চাওয়া হয় মন্দির কমিটির তরফ থেকে। কালীঘাট মন্দিরের নিরাপত্তা নিয়ে আগেই বড় পদক্ষেপ করেছিল কলকাতা পুলিশ। দর্শনার্থীদের সুবিধা এবং মন্দির চত্বরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করার জন্য পৃথক পুলিশ ফাঁড়ির ব্যবস্থা করা হয়েছে। কলকাতা পুলিশের সরকারি ওয়েবসাইটেও কালীঘাট থানার পরিকাঠামোর কথা উল্লেখ করা রয়েছে। এনএসজি দেশের বিশেষ সন্ত্রাসবিরোধী বাহিনী। গুরুতর জঙ্গি হামলা বা সন্ত্রাসবাদী পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য প্রশিক্ষিত এই বাহিনীর কোনও গুরুত্বপূর্ণ জনসমাগম স্থলের নিরাপত্তা পর্যালোচনায় অংশগ্রহণ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তাই মন্দিরের সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি, মন্দিরে ঢোকার-বেরোনোর পথ পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
তাছাড়া অনেকদিন ধরেই কালীঘাট মন্দিরের নিরাপত্তায় পৃথক আউটপোস্ট তৈরির পরিকল্পনা চলছে। এবার সেটা বাস্তবায়িত হতে চলেছে। এই আউটপোস্টের জন্য কলকাতা পুলিশের সাউথ ডিভিশন থেকে ২০ জন পুলিশকর্মীকে মোতায়েন করা হবে বলে সূত্রের খবর। কালীঘাট মন্দিরে কি জঙ্গি হামলা হতে পারে? এমন প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কালীঘাট মন্দির চত্বর এবং দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার কথা ভেবে পৃথক পুলিশ ফাঁড়ি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই প্রথম কোনও ধর্মীয় স্থানের জন্য পৃথক পুলিশ ফাঁড়ির ব্যবস্থা করছে লালবাজার। কলকাতা পুলিশের বিবৃতি অনুযায়ী, দর্শনার্থীদের সুবিধা এবং মন্দিরের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার করতেই পৃথক পুলিশ ফাঁড়ি তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।




