• facebook
  • twitter
  • youtube
Tuesday, 13 October, 2026

পুজোতেও জেলমুক্তি নয় সুজিতের, জামিন খারিজ হাইকোর্টে

তদন্তে অয়ন শীলের বক্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে এসভি রাজু জানান, প্রার্থীদের সুপারিশ করতেন সুজিত। অন্য রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সুপারিশও পুরসভায় পাঠানো হত বলে অভিযোগ। দক্ষিণ দমদম পুরসভায় ১৫২ জনের নাম সুপারিশ করেছিলেন প্রাক্তন মন্ত্রী, এমন দাবিও আদালতে জানানো হয়।

পুজোতেও জেলমুক্তি নয় সুজিতের, জামিন খারিজ হাইকোর্টে

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

পুজোর মুখেও জেলমুক্তি হল না রাজ্যের প্রাক্তন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসুর। পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তাঁর জামিনের আবেদন খারিজ করে দিল কলকাতা হাইকোর্ট। মঙ্গলবার বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের বেঞ্চ এই নির্দেশ দিয়েছে। অন্যদিকে, একই মামলায় বিধাননগরের প্রাক্তন মেয়র সব্যসাচী দত্ত এক মাসের জন্য অন্তর্বর্তী জামিন পেয়েছেন। ফলে একই মামলায় দুই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের ক্ষেত্রে আদালতের দুই ভিন্ন সিদ্ধান্ত ঘিরে চর্চা শুরু হয়েছে।

এর আগে বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের এজলাসে এই মামলার শুনানি শেষ হয়েছিল। কিন্তু পরে তিনি মামলা থেকে সরে দাঁড়ান। তাঁর অনুপস্থিতিতে তাঁর চেম্বারে এক জুনিয়র আইনজীবী মামলার ফাইল চাইতে গিয়েছিলেন বলে জানার পরই বিচারপতি এই সিদ্ধান্ত নেন। এরপর মামলাটি আসে বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের বেঞ্চে। সেখানেই নতুন করে শুনানি হয় সুজিতের জামিনের আবেদনের।

জামিনের বিরোধিতা করে কেন্দ্রের অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল এসভি রাজু আদালতে দাবি করেন, এটি বিপুল অঙ্কের নিয়োগ দুর্নীতির মামলা। তাঁর বক্তব্য, সুজিত বসুর নির্দেশে বেআইনিভাবে বহু প্রার্থীকে পুরসভায় নিয়োগ করা হয়েছিল। প্রায় ৩৪০ জন প্রার্থীর নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। প্রত্যেকের কাছ থেকে ছয় লক্ষ টাকা করে নেওয়া হত বলেও আদালতে দাবি করা হয়।

কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তরফে আরও দাবি করা হয়, সুজিত বসুর নামে ৮ কোটি ৮০ লক্ষ টাকার হদিশ মিলেছে। পরিবারের অন্য সদস্যদের অ্যাকাউন্টেও কোটি কোটি টাকা স্থানান্তর করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। তদন্তে অয়ন শীলের বক্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে এসভি রাজু জানান, প্রার্থীদের সুপারিশ করতেন সুজিত। অন্য রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সুপারিশও পুরসভায় পাঠানো হত বলে অভিযোগ। দক্ষিণ দমদম পুরসভায় ১৫২ জনের নাম সুপারিশ করেছিলেন প্রাক্তন মন্ত্রী, এমন দাবিও আদালতে জানানো হয়।

অন্যদিকে, সুজিত বসুর হয়ে সওয়াল করতে গিয়ে আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি দাবি করেন, প্রথম চার্জশিটে তাঁর মক্কেলের নাম ছিল না। পরবর্তী সময়ে অতিরিক্ত চার্জশিটে তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। নিয়োগের দায়িত্বে সুজিত বসু ছিলেন না বলেও আদালতে যুক্তি দেন তিনি। তাঁর প্রশ্ন, নিয়োগের দায়িত্বে না থাকলে সুজিত কীভাবে চাকরি দিতে পারেন?

আরও পড়ুন: পুজোয় নিরাপত্তার চাদরে কলকাতা, ভিড় সামলাতে মেগা প্ল্যান কলকাতা পুলিশের

সিংভির আরও প্রশ্ন, ২০২১ সালের ঘটনার তদন্তে এত দেরিতে কেন এফআইআর করা হল? ২০২৬ সালে গ্রেপ্তারির সময় নিয়েও প্রশ্ন তুলে তিনি অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক কারণে সুজিত বসুকে এই মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে দুই পক্ষের সওয়াল-জবাবের পর সুজিত বসুর জামিনের আবেদন খারিজ করে দেয় হাইকোর্ট। ফলে পুজোর আগে তাঁর জেলমুক্তির সম্ভাবনা আপাতত অনিশ্চিতই রইল।