• facebook
  • twitter
  • youtube
Friday, 18 September, 2026

খাম নিয়ে টানাটানি! ঋতব্রতর দলের হাতে প্রতীক, বিপাকে নওশাদ-আব্বাসের আইএসএফ

আসন্ন বিধানসভা উপনির্বাচনের মুখে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন করে তৈরি হয়েছে প্রতীক-জট। তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ বিবাদের

খাম নিয়ে টানাটানি! ঋতব্রতর দলের হাতে প্রতীক, বিপাকে নওশাদ-আব্বাসের আইএসএফ

PIC-AI

আসন্ন বিধানসভা উপনির্বাচনের মুখে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন করে তৈরি হয়েছে প্রতীক-জট। তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ বিবাদের জেরে নির্বাচন কমিশন ‘জোড়াফুল’ প্রতীক সাময়িক ভাবে স্থগিত করে দুই বিবদমান শিবিরকে পৃথক নাম ও প্রতীক দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আর তাতেই বড়সড় বিপাকে পড়তে পারে পীরজাদা আব্বাস সিদ্দিকী ও বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকীর দল ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট। কারণ, দীর্ঘদিন ধরে আইএসএফের সঙ্গে পরিচিত ‘খাম’ প্রতীক এবার বরাদ্দ হয়েছে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘ডেমোক্রেটিক তৃণমূল কংগ্রেস’-কে।

সমস্যার সূত্র এখানেই। আইএসএফ এখনও পশ্চিমবঙ্গে স্বীকৃত রাজ্য দলের মর্যাদা পায়নি। ফলে তাদের কোনও স্থায়ী বা সংরক্ষিত নির্বাচনী প্রতীকও নেই। এত দিন বিভিন্ন নির্বাচনে নির্দিষ্ট অনুমতি নিয়ে ‘খাম’ প্রতীক ব্যবহার করেছে আইএসএফ। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও বিহারের একটি দলের কাছ থেকে এই প্রতীক ধার করে লড়েছিল তারা। পরবর্তী লোকসভা নির্বাচনেও সেই প্রতীক ব্যবহার করা হয়।

কিন্তু এবার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ আলাদা। নির্বাচন কমিশন ‘ডেমোক্রেটিক তৃণমূল কংগ্রেস’-কে আনুষ্ঠানিক ভাবে ‘খাম’ প্রতীক বরাদ্দ করেছে। ফলে একই নির্বাচনে দুই দল একই প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে কি না, তা নিয়েই তৈরি হয়েছে জটিলতা।

আর এই জটিলতার কেন্দ্রে রয়েছে নন্দীগ্রাম। আসন্ন উপনির্বাচনে এই হাইভোল্টেজ কেন্দ্রে প্রার্থী দিয়েছে আইএসএফ। একই কেন্দ্রে প্রার্থী দিয়েছে ঋতব্রতপন্থী ‘ডেমোক্রেটিক তৃণমূল কংগ্রেস’-ও। ফলে একই ব্যালটে দুই দলের প্রার্থীকে ‘খাম’ প্রতীক দেওয়া সম্ভব নয় বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, স্বীকৃত রাজ্য দল না হলে কোনও দলের জন্য স্থায়ী নির্বাচনী প্রতীক সংরক্ষিত থাকে না। নির্দিষ্ট নির্বাচনী সাফল্যের মাধ্যমে রাজ্য দলের স্বীকৃতি পেলে তবেই প্রতীক সংরক্ষণের সুযোগ তৈরি হয়। সেই স্বীকৃতি না থাকায় আইএসএফকে প্রতিবারই মুক্ত প্রতীকের ওপর নির্ভর করতে হয়।

‘খাম’ প্রতীক নিয়ে এই টানাপড়েনের মধ্যেই শুক্রবার দুপুরে বৈঠকে বসেছে আইএসএফ নেতৃত্ব। নওশাদ সিদ্দিকীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এখন প্রশ্ন একটাই—নন্দীগ্রামের লড়াইয়ের আগে আইএসএফের বহু পরিচিত ‘খাম’ কি সত্যিই হাতছাড়া হবে, নাকি কমিশনের সিদ্ধান্তে শেষ মুহূর্তে বেরোবে কোনও সমাধান?