• facebook
  • twitter
  • youtube
Wednesday, 22 July, 2026

বিধানসভা থেকে মার্শালরা চ্যাংদোলা করে বের করল কুণালকে, তোলপাড় কাণ্ড

এই ঘটনা দেখেই প্রতিবাদ করতে উঠেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পাল্টা প্রতিবাদ করেন কালীঘাট তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক

বিধানসভা থেকে মার্শালরা চ্যাংদোলা করে বের করল কুণালকে, তোলপাড় কাণ্ড

MLA Kunal Ghosh Photo-SNS

বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলের পর তৃণমূল কংগ্রেস দ্বিখণ্ডিত হয়ে পড়ে। বিধায়করা একটা বড় অংশে পৃথক হয়ে যায়। আর কালীঘাট তৃণমূল একটা পক্ষ হয়ে যায়। তখন থেকেই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে বিদ্রোহী শিবিরের সঙ্গে কালীঘাট তৃণমূলের সম্পর্ক আদায়-কাঁচকলায়। সেটাই এবার চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। খোদ বিধানসভায় একে অন্যকে দেখে নিতে গিয়ে তুলকালাম পরিস্থিতি তৈরি হয়। আর তার জেরে বিধানসভার অধিবেশন কক্ষ থেকে চ্যাংদোলা করে বের করা হলো কুণাল ঘোষকে। যা নিয়ে রাজ্য-রাজনীতি উত্তাল হয়ে উঠেছে।

এদিকে দুই তৃণমূলের দ্বৈরথ চরমে ওঠায় তোলপাড় হয়ে পড়ে বিধানসভা। কুণাল-আখরুজ্জামানের সরাসরি ‘সংঘাতে’ বুধবার উত্তপ্ত হয়ে উঠল বিধানসভার অধিবেশন। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে, মার্শাল ডেকে বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষকে বাইরে বার করে দেওয়ার নির্দেশ দেন স্পিকার রথীনন্দ্রনাথ বসু। একইসঙ্গে কুণাল ঘোষকে সাসপেন্ড করেছেন স্পিকার। খোদ মুখ্যমন্ত্রীর সামনে এমন ঘটনা ঘটায় আলোড়ন পড়ে যায় বিধানসভা কক্ষে। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘এমন অসভ্যতা আগে দেখিনি। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই।’

বিধানসভায় বিরোধীদল হিসাবে স্বীকৃতি পেয়েছে ঋতব্রতের তৃণমূল। মুখ্যসচেতক হয়েছেন আখরুজ্জামান। আখরুজ্জামান এদিন বলতে শুরু করলে তাঁকে বাধা দেয় বিধায়ক কুণাল ঘোষ। এই ঘটনা দেখেই প্রতিবাদ করতে উঠেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পাল্টা প্রতিবাদ করেন কালীঘাট তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক। মুখ্যসচেতক আখরুজ্জামান বলতে উঠতেই কুণাল ঘোষ নিজের আসন ছেড়ে উঠে এসে তাঁর মাইকয়ের সামনে দাঁড়িয়ে পড়েন। তখনই হইচই শুরু হয়ে যায়। শেষে বিধানসভা স্পিকারের নির্দেশে কুণাল ঘোষকে মার্শাল দ্বারা বের করে দেওয়া হয়। কুণাল ঘোষের অভিযোগ, স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দপ্তরের আলোচনায় তাঁর নাম দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বিরোধী দলের মুখ্যসচেতক আখরুজ্জামান সেই নাম কেঁটে দিয়েছেন। তাই প্রতিবাদ করতে ওঠেন তিনি।

তাছাড়া কুণাল ঘোষ নিজের আসন ছেড়ে উঠে আসতেই চরম গোলমাল শুরু হয় বিধানসভায়। বিজেপি বিধায়করাও ওয়েলে নেমে এসে কুণালকে বাধা দেন। আর তাঁকে আসনে ফিরে যেতে বলেন। স্পিকার রথীন্দ্র বোসও কুণালকে নিজের আসনে ফিরে যেতে অনুরোধ করেন। সাসপেন্ড করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। তাতেও কাজ না হওয়ায় মার্শাল ডেকে কুণাল ঘোষকে টেনে-হিঁচড়ে বের করে দেওয়া হয়। এই ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রী ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, ‘প্রতিবাদ অনেকরকম হয়। এই রকম অসভ্যতামি বিধানসভায় আগে দেখিনি। আখরুরসাহেব অনেক দিনের মন্ত্রী এবং বিধায়ক। মুর্শিদাবাদের শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব ওঁর বাবা। আজ যেভাবে একজন সদস্য শারীরিকভাবে নির্যাতন করতে এগিয়ে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে এর তীব্র নিন্দা করছি।’ আর আখরুজ্জমানের সাফাই, ‘৮০ জন বিধায়ক আছে। সবাইকে বলতে দিলে সময় হবে না। আমরা ঠিক করব, কে বলবে বা কে বলবে না।’ যদিও কুণালের অভিযোগ, ‘ইচ্ছা করেই আমার কণ্ঠরোধ করা হয়েছে।’ সমাজমাধ্যমে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় গোটা ঘটনা পোস্ট করে প্রতিবাদ করেছেন।