হড়পা বান বিপর্যয়ে একেবারে বিপর্যস্ত নেপাল। এর মধ্যে জোড়া ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল নেপাল। বুধবার ভোরে পরপর দুটি ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে নেপালের উত্তর-পশ্চিম। নেপালের ন্যাশনাল সিসমোলজিক্যাল রিসার্চ সেন্টারের (NSRC) তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৪.৫। দ্বিতীয় ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৪.২। তবে এখনও পর্যন্ত কোনও হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
এনএসআরসি-র তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় রাত ১টা ৫১ মিনিটে প্রথম কম্পনটি অনুভূত হয়। এর কয়েক ঘণ্টা পর ভোর ৪টে ২৮ মিনিট নাগাদ দ্বিতীয় কম্পনটি আঘাত হানে। দুটি ভূমিকম্পেরই উপকেন্দ্র ছিল মুগু জেলার কালাই এলাকার কাছে। ভূমিকম্পের কম্পন পার্শ্ববর্তী ডোলপা ও জুমলা জেলাতেও অনুভূত হয়। তবে সম্ভাব্য আফটারশক ও বাড়িগুলির কোনও ক্ষতি হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এদিকে, কয়েক সপ্তাহ আগে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় বিপর্যস্ত নেপালে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ৩৯৯। মঙ্গলবার ন্যাশনাল ডিজাস্টার রিস্ক রিডাকশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অথরিটি প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত আটটি জেলা থেকে এখনও পর্যন্ত এই বিপুল সংখ্যক দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গত ২৬ আগস্ট নেপাল-তিব্বত সীমান্তের কাছে ধসের জেরে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়। এর ফলে উত্তর ও মধ্য নেপালের একাধিক শহর ও গ্রাম ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
আরও পড়ুন: সৌদি আরবের আকাশপথে হঠাৎই হামলার সতর্কতা, প্রথমবার মক্কাতে এয়ার স্ট্রাইক অ্যালার্ট
জেলা-ভিত্তিক হিসেবে, চিতওয়ানে ৩৬৪টি, নওয়ালপরাসি ইস্টে ২৩২টি, নওয়ালপরাসি ওয়েস্টে ২২২টি ও নুয়াকোটে ২০২টি দেহ উদ্ধার হয়েছে। কাঠমান্ডুতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর যৌথ কমান্ডের নেতৃত্বে এখনও জোরকদমে তল্লাশি উদ্ধার অভিযান চলছে। নিখোঁজের সংখ্যা প্রায় ৫ হাজার ১৭০ বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এখনও পর্যন্ত মোট ১৩ হাজার ৭৪২ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।




