• facebook
  • twitter
  • youtube
Friday, 6 November, 2026

রবীন্দ্র সরোবরে ছটপুজো হচ্ছে না, আগের অবস্থান থেকে সরে সাফ জানিয়ে দিলেন অগ্নিমিত্রা

তাছাড়া সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের কপি ইঞ্জিনিয়াররা নবান্নে পাঠিয়ে দেন। রবীন্দ্র সরোবর ও সুভাষ সরোবরে ছটপুজো না করার জন্য

রবীন্দ্র সরোবরে ছটপুজো হচ্ছে না, আগের অবস্থান থেকে সরে সাফ জানিয়ে দিলেন অগ্নিমিত্রা

Rabindra Sarovar Photo-SNS

দক্ষিণ কলকাতার ফুসফুস বলা হয় রবীন্দ্র সরোবরকে। এখানে সকালে মানুষজন আসেন প্রাতঃভ্রমণ করতে। সন্ধ্যেবেলাতেও একই ছবি দেখা যায়। তার উপর নানা ক্লাব আছে এখানে। সেখানে ছেলে-মেয়েরা নানা বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিয়ে থাকেন। আর প্রবীণ নাগরিকদের সময় কাটানোর আদর্শ জায়গা। সেখানে দূষণ হলে প্রাকৃতিক পরিবেশ খারাপ হবে। এই কারণে সেখানে কোনও পুজো-পার্বণ হয় না। কিন্তু রাজ্যের পুরমন্ত্রী কদিন আগে বলেছিলেন, ছটপুজো রবীন্দ্র সরোবরে হবে। তা নিয়ে তুমুল বিতর্ক দেখা দেয়। অবশেষে এবার রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দিলেন ছটপুজো রবীন্দ্র সরোবরে হবে না।

নিজের এই অবস্থান বদলের নেপথ্য কারণ অবশ্য খোলসা করেননি তিনি। তবে মনে করা হচ্ছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই প্রস্তাবে রাজি হননি। এবার ‘জাতীয় লেক’ রবীন্দ্র সরোবরে ছটপুজোর অনুমতি দিতে চেয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সেই ভাবনায় বদল করতে বাধ্য হলেন পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। ২০১৭ সালে ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইবুন্যালের নির্দেশের পর থেকেই রবীন্দ্র সরোবর এবং সুভাষ সরোবরে ছটপুজো বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে রাজ্য সরকার। ২০২০ সালে ছটপুজো করতে দিতে চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেও লাভ হয়নি। কারণ ছটপুজোয় জলের দূষণ হয়। এমনকী রবীন্দ্র সরোবরের মধ্যে বাজি ফাটালে তাতে বায়ুদূষণও হয়ে থাকে। তাতে রবীন্দ্র সরোবরের জলের মাছ মারা যাওয়ার অভিযোগ আগে উঠেছিল।

আর এইসব কারণে পরিবেশ আদালতে মামলা হয়। সেই মামলার প্রেক্ষিতেই রবীন্দ্র সরোবর এবং সুভাষ সরোবরে ছটপুজো করা যায় না। বরং সারাবছর রক্ষণাবেক্ষণ করতে হয় যাতে প্রাকৃতিক ক্ষতি না হয়। গত বুধবার পুরমন্ত্রী সংবাদমাধ্যমে স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, ‘গত সরকারের আমলে রাজনীতি করে হিন্দুদের উৎসব বন্ধ করা হয়েছিল। এখন আর তা বন্ধ করা হবে না। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে স্থানীয়দের স্বার্থে এই বছর রবীন্দ্র সরোবর ও সুভাষ সরোবরেও ছটপুজোর অনুমতি দেওয়া হবে।’ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে বলেও জানিয়েছিলেন। তাতেই প্রতিবাদের সুর চড়াতে থাকেন পরিবেশবিদরা।

তাছাড়া সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের কপি ইঞ্জিনিয়াররা নবান্নে পাঠিয়ে দেন। রবীন্দ্র সরোবর ও সুভাষ সরোবরে ছটপুজো না করার জন্য অনুরোধ করেন। তার পরই নিজের অবস্থান বদল করলেন পুরমন্ত্রী। ছটপুজোর পুণ্যার্থীদের জন্য পাটুলি, নোনাডাঙা, যোধপুর পার্ক এবং পোদ্দারনগরে বিকল্প ঘাটের ব্যবস্থা করেছেন কেএমডিএ ইঞ্জিনিয়ারাররা। এরপরই বিকল্প হিসাবে ৫০টি জলাশয় তৈরি রাখা হচ্ছে বলে জানিয়ে অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, ‘যদি অনুমতি না পাই, তবে রবীন্দ্র সরোবরে ছটপুজো হবে না। পরিবেশ আদালতের অনুমতির বিরুদ্ধে যেতে পারব না। তাই ৫০টা ঘাট দক্ষিণ কলকাতায় তৈরি থাকছে।’