হকার সমস্যা একটা বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বিজেপি সরকারের। শহরের হকারদের সরিয়ে পথচারীদের চলাফেরার যোগ্য করে তুলতে চায় রাজ্য সরকার। কিন্তু হকারদের তুলতে গেলেই সেখানে তাঁরা বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছেন। তার সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলিও বিরোধিতা করতে থাকে। এই আবহে হকার সমস্যা সমাধান করতে স্টেট মনিটরিং কমিটি গড়তে চলেছে নবান্ন বলে সূত্রের খবর। এই কমিটি সমীক্ষার কাজ করে রিপোর্ট দেবে। তার ভিত্তিতে হকার সমস্যার সমাধান করা হবে। দুর্গাপুজোর পরে হকার উচ্ছেদ নিয়ে পদক্ষেপ করা হবে। সেটা একপ্রকার নিশ্চিত। এই অবস্থায় নবান্নে হকারদের এক প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করেন পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। বৈঠক শেষে জানা গিয়েছে, হকার সমস্যা সমাধানে স্টেট মনিটরিং কমিটি তৈরি করা হবে।
এই কমিটি হকার সমীক্ষার কাজ করবে, যেখানে হকারদের প্রতিনিধিরাও থাকবেন। জোকা-এসপ্ল্যানেড মেট্রো করিডরের জন্য ময়দান মার্কেটের ৫২৮ জন ব্যবসায়ীকে দোকান সরানোর নোটিস দিয়েছে রেল বিকাশ নিগম লিমিটেড। অগ্নিমিত্রা পালের সঙ্গে দেখা করেন হকার্স জয়েন্ট অ্যাকশন কমিটির ৬ সদস্যের দল। সেখানে তাঁরা নিজেদের একাধিক দাবি জানিয়েছেন। রেলের নোটিসে উল্লেখ করা হয়েছে, ২৬ আগস্টের মধ্যে ময়দান মার্কেট খালি করার কথা জানানো হয়েছে পূর্ত দপ্তরকে। এক্ষেত্রে উচ্ছেদ করা হচ্ছে না। সাময়িক সরানো হচ্ছে। জোকা-এসপ্ল্যানেড মেট্রো করিডরের কাজের জন্য এসপ্ল্যানেড মেট্রো স্টেশন নির্মাণের কাজ এগোতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাই ৫২৮ জন ব্যবসায়ীকে নোটিস দেওয়া হয়েছে।
হকার সংগঠন এবং মন্ত্রীর বৈঠক শেষে হকার্স জয়েন্ট অ্যাকশন কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কলকাতা পুরসভা এলাকায় ২০১৫ সাল পর্যন্ত ৫৯ হাজার ৫৯ জনের তালিকা আছে। তাঁদের নিয়ে রাজ্য সরকার ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। পরে যাঁরা রাস্তা দখল করে ব্যবসা করছেন তাঁদের বিষয়ে সরকার পরে ভাবনাচিন্তা করবে। তবে নিয়ম ভেঙে যাঁরা হকারি করছেন তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পুলিশ প্রশাসনের কাছে আবেদন জানিয়েছেন হকার ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা। তাঁদের বক্তব্য, নিয়ম অনুযায়ী ফুটপাতের তিন ভাগের এক ভাগ অংশে দোকান করা যেতে পারে। ফুটপাত পুরো দখল করা তাঁরাও সমর্থন করেন না। স্থানীয় নেতা এবং পুলিশ প্রশাসনের মাধ্যমেই সেটা হচ্ছে।
তাছাড়া গড়িয়াহাট, হাতিবাগান বা কলেজ স্ট্রিটের ক্ষেত্রে কী হবে? এই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। তবে পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, ‘হকার সংগঠনের প্রতিনিধির সঙ্গে আমাদের একটা আলোচনা হয়েছে। তবে যা সিদ্ধান্ত নেওয়ার মুখ্যমন্ত্রী নেবেন। দুর্গাপুজো পর্যন্ত কোনও হকার উচ্ছেদ হবে না।’ আর হকার্স জয়েন্ট অ্যাকশন কমিটির সাধারণ সম্পাদক অসিত সাহার বক্তব্য, ‘আমরা পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রীর কাছে আমাদের একাধিক দাবি জানিয়েছি। তিনিও আশ্বাস দিয়েছেন। একটা স্টেট মনিটরিং কমিটি হবে। তাঁরা সমীক্ষার কাজ করবেন। তারপরে আবার এই বিষয়গুলি নিয়ে আমরা আলোচনায় বসব।’




