আবার গ্রেফতার কলকাতার আনন্দপুর থানা এলাকার গুলশন কলোনির মহম্মদ ফিরোজ। যিনি পরিচিত মিনি ফিরোজ নামে। সঙ্গে তার ডান হাত বলে পরিচিত মহম্মদ সাজিদকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতার করেছে কলকাতা পুলিশের গুন্ডাদমন শাখা। এই ফিরোজের নামে আগেও একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছিল। এমনকি অস্ত্র আইনেও হয়েছিল মামলা। সেই কারণেই গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তার বিরুদ্ধে ৩৭টি মামলা দায়ের করা হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে।
২৩ জুন ফিরোজ ও সাজিদের বিরুদ্ধে তপসিয়া থানবায় মামলা দায়ের করা হয়েছিল। তার ভিত্তিতে এফআইআর দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছিল পুলিশ। তারপরেই শনি্বারে ডানকুনির টোলপ্লাজা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গাড়ি করে পালাচ্ছিল ২ জনেই। সেই সময়েই তাদের গ্রেফতার করা হয়েছিল।
গত বছরে ডিসেম্বরে গুলশন কলোনিতে অশান্তি ঘটেছিল। গত বছরের ১১ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় ওই এলাকায় বন্দুক নিয়ে তাণ্ডব চালায় কয়েক জন দুষ্কৃতী। সেই অশান্তির ঘটনায় নাম জড়ায় ফিরোজের। ঘটনার সঙ্গে যুক্ত কয়েক জনকে গ্রেফতার করা সম্ভব হলেও ফিরোজের নাগাল পাচ্ছিল না পুলিশ। ঘটনার পর থেকেই গা ঢাকা দিয়েছিলেন তিনি। এলাকা ছেড়ে পালিয়ে বেড়ালেও সমাজমাধ্যমে সক্রিয় ছিলেন ফিরোজ। মাঝেমধ্যে ভিডিয়ো আপলোডও করছিলেন।
তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে গোপন সূত্রে পুলিশ খবর পায়, ফিরোজ এলাকা ছেড়ে দিল্লিতে পালিয়ে গিয়েছেন। সেই সূত্র ধরে কলকাতা পুলিশের একটি দল দিল্লিতে হানা দেয়। সেই সূত্র ধরে দিল্লি থেকে ফিরোজ়কে গ্রেফতার করা হয়। ওই সময় গ্রেফতার হয়েছিলেন সাজিদও।
বেশ কয়েক দিন হেফাজতে থাকার পর জামিনে মুক্তি পান ফিরোজ এবং সাজিদ। তবে আবার তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয় থানায়। সেই মামলায় গ্রেফতার আবার গ্রেফতার হলেন ফিরোজেরা।
কলকাতায় একের পর এক অপরাধের ঘটনায় বার বার জড়িয়েছে গুলশন কলোনির নাম। ঘন জনবসতি এবং ঘিঞ্জি ওই এলাকায় দুষ্কৃতীদের দৌরাত্ম্য নিয়ে লালবাজারের উদ্বেগ বরাবর। কখনও ভরসন্ধ্যায় যুবককে রাস্তায় ফেলে কুপিয়ে খুন করা হচ্ছে, কখনও আবার দুই গোষ্ঠীর বিবাদে প্রকাশ্যেই বোমা-গুলির বৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ। সেই গুলশন কলোনির বাসিন্দা ফিরোজ়ের নাম বার বার কোনও না কোনও অশান্তির ঘটনায় জড়িয়েছে। এমনকি, ১০৮ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষের সঙ্গে তাঁর ‘অদৃশ্য’ বিবাদের অভিযোগও রয়েছে। নিজের বাড়ির সামনে সুশান্তকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনা ঘটেছিল। যদিও গুলি লাগেনি ওই তৃণমূল নেতার গায়ে। সেই গুলিকাণ্ডেও ফিরোজের নাম জড়িয়েছিল।




