• facebook
  • twitter
  • youtube
Saturday, 31 October, 2026

ইন্দ্রনীল সেনের স্ত্রীকে তলব করল লালবাজার, হাজিরা দিতে হবে মধুছন্দাকে

তাছাড়া ইন্দ্রনীলের সামনে ২০২৫ সালে ইউনেস্কোর সঙ্গে মাস আর্টের চুক্তির বিষয়টি তুলে ধরে তদন্তকারীরা জানতে চান, কেন তার

ইন্দ্রনীল সেনের স্ত্রীকে তলব করল লালবাজার, হাজিরা দিতে হবে মধুছন্দাকে

Madhuchhanda Sen Summoned Photo-SNS

স্বামী আগেই জেলে গিয়েছেন। আর তা নিয়ে রাজ্য-রাজনীতি বেশ সরগরম। কারণ তিনি প্রাক্তন মন্ত্রী। দুর্গাপুজোর পাস বিক্রি করা থেকে শুরু করে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হ্যাঁ, তিনি রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন। কিন্তু তারপরও থেমে থাকছে না চর্চা। এবার ইন্দ্রনীল সেনের স্ত্রী মধুছন্দা সেনকে তলব করল লালবাজার। দুর্গাপুজো পাস দুর্নীতি কাণ্ডে মধুছন্দা সেনকে লালবাজারে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাসের জালিয়াতি নিয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে। দুর্নীতি কাণ্ডে আদালতে আগাম জামিনের আবেদন করেছিলেন মধুছন্দা সেন। এবার দুর্নীতির রহস্য উদঘাটনে মধুছন্দা সেনকে তলব করল পুলিশ।

এদিকে ইউনেস্কো দুর্গাপুজোকে স্বীকৃতি দেওয়ার পর পরিকল্পনা করেই খোলা হয়েছিল মাস আর্ট সংস্থা। এই কোম্পানির মাধ্যমে দুর্গাপুজোর প্রিভিউ পাস বিক্রি করা হয়। তার জেরে আর্থিক দিক থেকে লাভবান হয় ওই সংস্থা। এই উদ্দেশের কথা লালবাজারে সিটের জেরায় প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন জানিয়েছেন বলে সূত্রের খবর। তারপরই স্ত্রী মধুছন্দাকে তলব করল পুলিশ। দুর্গাপুজোর পাস বিক্রির তদন্তে নেমে গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, তিনবছরে প্রায় এক লক্ষ পাস বিক্রি করা হয়েছিল। প্রাথমিকভাবে ৫০-৬০ কোটি দুর্নীতির তথ্য সামনে এলেও সেটার পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলেই মনে করছেন তদন্তকারীরা।

অন্যদিকে ইন্দ্রনীল সেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের আমলে তথ্য সংস্কৃতি মন্ত্রী ছিলেন। আর ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিপুল অঙ্কের পাস দুর্নীতি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। ওই আর্থিক দুর্নীতির সঙ্গে ইন্দ্রনীল সেন সরাসরি যুক্ত বলে পুলিশের দাবি। ‘মাস আর্ট’ প্রতারণা মামলায় তদন্ত করছে লালবাজার। কোটি কোটি টাকার আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে প্রিভেনশন অফ মানি লন্ডারিং অ্যাক্টের অধীনে মামলার তদন্ত শুরু করেছে ইডি। বুধবার সিজিও কমপ্লেক্সে ইডির সমনে হাজিরা দিয়ে বেরনোর সময় কলকাতা পুলিশ গ্রেপ্তার করে ইন্দ্রনীলকে।

তাছাড়া ইন্দ্রনীলের সামনে ২০২৫ সালে ইউনেস্কোর সঙ্গে মাস আর্টের চুক্তির বিষয়টি তুলে ধরে তদন্তকারীরা জানতে চান, কেন তার তিনবছর আগে থেকে তাদের লোগো ব্যবহার করে পাস বিক্রি করা হল? ইন্দ্রনীল সেন তদন্তকারীদের জানান, আসলে দুর্গাপুজোকে সামনে রেখে যে ব্যবসা করা যায় সে কথা মাথায় আসে ইউনেস্কো স্বীকৃতি দেওয়ার পরই। তাদের লোগো ব্যবহার করলে সহজেই বিশ্বাসযোগ্য হবে সাধারণ মানুষের কাছে। তাই কোম্পানি খোলার পর ইউনেস্কোর লোগো-ব্র্যান্ড ভাঙিয়েই ব্যবসা করে গিয়েছেন বলে সূত্রের খবর। ২০২২ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত দুর্গাপুজোয় মাস আর্টকে সামনে রেখে কমপক্ষে ৩০ কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে। ইন্দ্রনীলের স্ত্রী মেয়ে, আত্মীয়ের নামে থাকা বেশ কয়েকটি ভুয়ো ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা জমা পড়েছে। এসব তথ্য হাতে পেতে এবার ইন্দ্রনীলের স্ত্রী মধুছন্দা সেনকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় পুলিশ।