• facebook
  • twitter
  • youtube
Sunday, 8 November, 2026

কালীপুজোয় আলোর রোশনাইয়ে ভাসল শহর থেকে জেলা, কালীঘাট-দক্ষিণেশ্বর-তারাপীঠে নামল ঢল

এখন নানা ইলেক্ট্রনিক বাতি বেরিয়েছে। চেন লাইট থেকে শুরু করে বাহারি বাতিতে আবাসন থেকে গৃহস্থ বাড়ি সেজে উঠেছে। তার সঙ্গে

কালীপুজোয় আলোর রোশনাইয়ে ভাসল শহর থেকে জেলা, কালীঘাট-দক্ষিণেশ্বর-তারাপীঠে নামল ঢল

Kalighat Temple Photo-ANI

পারদ খানিকটা কমেছে। হালকা একটা ঠাণ্ডার আমেজ অনুভব করছেন সকলেই। আর তা গায়ে মেখেই বেরিয়ে পড়েছেন মানুষজন। শহর থেকে গ্রামবাংলার জনপ্রিয় যেসব কালীপুজো সেসব মণ্ডপগুলিতে এবং মন্দিরে ভক্তদের ঢল নেমেছে। এই আবহে ভেসে আসছে পান্নালাল ভট্টাচার্যের-‘মা গো আনন্দময়ী’ গানের কলি। একদিন আগে থেকেই আলোর রোশনাইয়ে ভাসছে পথঘাট। রবিবার তা উৎসবের চেনা মেজাজ ফিরিয়ে এনেছে। গলি থেকে রাজপথ ঝলমল করছে দীপাবলির আলোকসজ্জায়। আগেই বাঙালির পাতে চোদ্দ শাক পড়েছে ভূত-চতুর্দশীতে। রবিবার সকাল থেকেই মাংসের দোকানে লাইন পড়েছে। গৃহস্থের ঘরে জানালা-বারান্দায় জ্বলে উঠেছে চোদ্দ প্রদীপ। আর কালীঘাট, দক্ষিণেশ্বর, তারাপীঠে ভক্তদের ঢল নেমেছে।

দুর্গাপুজোয় চোরবাগানে মৃত্যুমিছিল দেখেছে মহানগরী। তাই আর যাতে এমন কোনও ঘটনা না ঘটে সেজন্য প্রস্তুত প্রশাসন। কালীঘাট মন্দিরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্ছিদ্র করা হয়েছে। মন্দিরজুড়ে রয়েছে পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ। পুলিশের কিয়স্ক বসানো হয়েছে। সাদা পোশাকের পুলিশ নজরদারি চালাচ্ছে। রবিবার ভোররাত ৩টে থেকে সোমবার ভোররাত ৩টে পর্যন্ত টানা মন্দির খোলা থাকছে। তখন মায়ের কাছে পুজো দেওয়া যাবে। কালীঘাট মন্দিরে কালীপুজোর দিন লক্ষ্মীপুজোও হয়। তাই আগ্রহ আছে ভক্তদের। কালীঘাটের মতোই টালিগঞ্জের করুণাময়ী কালীমন্দির, লেক কালীবাড়িতে মাতৃ আরাধনার প্রস্তুতি রয়েছে। মায়াবী আলোর মালায় সেজে উঠেছে দক্ষিণেশ্বর।

এখন নানা ইলেক্ট্রনিক বাতি বেরিয়েছে। চেন লাইট থেকে শুরু করে বাহারি বাতিতে আবাসন থেকে গৃহস্থ বাড়ি সেজে উঠেছে। তার সঙ্গে কালীপুজোর আলোকসজ্জা তো আছেই। রবিবার সকাল সাড়ে ৫টায় দক্ষিণেশ্বর মন্দির খুলেছে। মায়ের দর্শন করতে ভিড় করছেন ভক্তরা। তার জন্যই রাত জেগে লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন অনেকে। মন্দির কর্তৃপক্ষ সূত্রে খবর, নির্দিষ্ট তিথি মেনে মায়ের পুজো শুরু হয়েছে। রীতি মেনে রাতে গঙ্গায় জোয়ার আসায় ঘটোত্তোলন হয়েছে। ওই জল দিয়ে মাকে স্নান করানো হয়। তার পর শুরু হয় বিশেষ পুজোপাঠ। মা সেজেছেন বিশেষ বেনারসি, কয়েকশো ভরির সোনা এবং হীরের গয়নার রাজবেশে। সাদা ভাত, ঘি ভাত, পাঁচরকম ভাজা, তরকারি, মাছ, চাটনি, খিচুড়ি, পায়েস, পাঁচরকম মিষ্টি সহযোগে ভোগ নিবেদন করা হচ্ছে। ভিড় সামাল দিতে পুলিশের প্রস্তুতি রয়েছে। দক্ষিণেশ্বর মন্দিরের অছি ও সম্পাদক কুশল চৌধুরী বলেন, ‘আলোয় সাজিয়ে তোলা হয়েছে মায়ের মন্দির। ১৭২ বছরের নিয়ম ও রীতি মেনেই মায়ের পুজো হচ্ছে।’

তাছাড়া বীরভূমের তারাপীঠেও পুজো শুরু হয়েছে। তারাপীঠে মা সারাবছরই নানা রূপে পূজিতা হন। দীপান্বিতা অমবস্যায় মায়ের বিশেষ পুজোর আয়োজন হয়। তারাপীঠ থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে রয়েছে দেখুরিয়া এবং উদয়পুরের কালী মন্দির। কথিত আছে, সাধক বামাক্ষ্যাপা নিজের বাড়ির পুজো শেষ করে এই দুই গ্রামে যেতেন। তারাপীঠের সেবায়েতরা এখনও কালীপুজোর পরের দিন সেখানে হাজির হন। তারাপীঠ থেকে ১৭ কিলোমিটার দূরে তারামায়ের বোন মৌলিক্ষা। এখানে ঝাড়খণ্ড এবং পশ্চিমবঙ্গের অজস্র ভক্ত ভিড় করেন।