• facebook
  • twitter
  • youtube
Saturday, 7 November, 2026

কলকাতায় ৩৪০০ কালীপুজো, চোরবাগানের পুনরাবৃত্তি রুখতে পুলিশ কমিশনারকে বিশেষ নির্দেশ শুভেন্দুর

কলকাতায় প্রায় ৩৪০০টি কালীপুজো হয়। শহরের এত বিপুল সংখ্যক পুজোকে কেন্দ্র করে যাতে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়

কলকাতায় ৩৪০০ কালীপুজো, চোরবাগানের পুনরাবৃত্তি রুখতে পুলিশ কমিশনারকে বিশেষ নির্দেশ শুভেন্দুর

কলকাতায় প্রায় ৩৪০০টি কালীপুজো হয়। শহরের এত বিপুল সংখ্যক পুজোকে কেন্দ্র করে যাতে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সে বিষয়ে আগেভাগেই সতর্ক কলকাতা পুলিশ। বিশেষ করে চোরবাগানের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে কলকাতা পুলিশের কমিশনার অজয় নন্দকে বিশেষ নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পুলিশের বিভিন্ন ডিভিশনের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর উপর জোর দিয়েছেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট নির্দেশ, কালীপুজোয় নিরাপত্তা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণে কোনওরকম গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না। শহরের বিভিন্ন প্রান্তে দর্শনার্থীদের বিপুল সমাগমের কথা মাথায় রেখে পুলিশের প্রতিটি ডিভিশনকে সমন্বয় রেখে কাজ করতে হবে।

কোথাও ভিড়ের চাপ বাড়লে দ্রুত পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার ব্যবস্থা রাখতে হবে। চোরবাগানের মতো বিপর্যয় যাতে আর না ঘটে, তা নিশ্চিত করাই এখন পুলিশের অন্যতম লক্ষ্য।

উল্লেখ্য, দুর্গাপুজোর সপ্তমীর সন্ধ্যায় চোরবাগানের একটি পুজোমণ্ডপে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। ঠাকুর দেখতে উপচে পড়েছিল দর্শনার্থীদের ভিড়। তার মধ্যেই বাইরে শুরু হয় প্রবল বৃষ্টি।

বৃষ্টি থেকে বাঁচতে বহু মানুষ মণ্ডপের ভিতরে আশ্রয় নেওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। অল্প জায়গায় বিপুল মানুষের ভিড় জমে যাওয়ায় পদপিষ্ট হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়।

ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন, ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছিলেন ২৫ জন। তাঁদের দ্রুত কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যাওয়া হয়। আহতদের মধ্যে কয়েক জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গিয়েছিল।

পরিস্থিতির খবর পেয়েই হাসপাতালে পৌঁছেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। ঘটনার পর বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল চোরবাগান পুজোমণ্ডপের আলো। বন্ধ রাখা হয়েছিল মণ্ডপের বাহিরপথও।

তদন্তের স্বার্থে পুজো কমিটির ১২ জন সদস্যকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছিল পুলিশ।

চোরবাগানের সেই ঘটনার পর থেকেই কালীপুজোর নিরাপত্তা নিয়ে বাড়তি সতর্ক প্রশাসন। কলকাতার ৩৪০০টি পুজোকে কেন্দ্র করে কোথায় কতটা ভিড় হতে পারে, কোন এলাকায় যান চলাচলে চাপ বাড়তে পারে, তা খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি, জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতিও রাখতে হবে পুলিশকে। মণ্ডপে প্রবেশ ও বেরোনোর পথ, দর্শনার্থীদের ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং বৃষ্টির মতো আকস্মিক পরিস্থিতিতে বিকল্প ব্যবস্থা রাখার উপরও জোর দেওয়া হচ্ছে।

চোরবাগানের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে কালীপুজোয় কলকাতা পুলিশের প্রস্তুতি ও বিভিন্ন ডিভিশনের মধ্যে সমন্বয় কতটা কার্যকর হয়, এখন সেটাই দেখার।