নিউটাউনে তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা এল অ্যান্ড টি-র বিশাল অফিস বৃহস্পতিবার উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। প্রদীপ জ্বালিয়ে ‘আনন্দ নিকেতন’ নামে ওই ক্যাম্পাসের উদ্বোধন করলেন তিনি। এই অফিস ৭ লক্ষ ৪৮ হাজার বর্গফুট জায়গা জুড়ে অবস্থিত। এই বিশাল অফিস উদ্বোধনের পর মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই সংস্থার নিউটাউন ক্যাম্পাসে মোট ৫৮০০ জনের কর্মসংস্থান হবে। যেসব দক্ষ ও মেধাবী রাজ্যবাসী বাংলা ছেড়ে বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ বা অন্য কোনও রাজ্যে চলে গিয়েছেন তাঁদের পুনরায় রাজ্যে ফেরার বার্তা দিলেন শুভেন্দু অধিকারী। বিশেষ করে পরিযায়ী শ্রমিকদের উদ্দেশে বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী।
পশ্চিমবঙ্গের বহু পরিযায়ী শ্রমিক ভিন রাজ্যে কাজ করতে চলে যান। কারণ এখানে সেভাবে কাজের সুযোগ পান না তাঁরা বলে অভিযোগ। আবার এখানে বড় শিল্প নেই বলে বহু মেধাবী যুবক-যুবতীকে ভিন রাজ্যে গিয়ে কাজ করতে যেতে হয়। অনেকে আবার বিদেশেও পাড়ি দেন। ফলে পরিবার-পরিজনকে ছেড়ে অন্যত্র কাজ করতে হয়। সেখানে নানা সমস্যা থেকে শুরু করে বিপদে পড়তে হয়। তখন তাঁরা পরিবারকে পাশে পান না। আর পরিবারও পাশে থাকতে না পেরে উৎকণ্ঠায় দিন কাটান। এই পরিস্থিতি কাটাতেই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘দয়া করে ফিরে আসুন। এখানে ডবল ইঞ্জিন সরকার প্রতিষ্ঠা হয়েছে।’
পরিযায়ী শ্রমিক থেকে মেধাবী যুবক-যুবতী নিজেদের রাজ্যে ফিরে এলে কাজের সুযোগ পাবেন। পরিবারের সঙ্গে থাকতে পারবেন। এমনকী রোজগার করে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আনন্দে কাটাতে পারবেন। বৃহস্পতিবার নিউটাউনে এল অ্যান্ড টির অফিস উদ্বোধন করে এমনই বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বিধায়ক পীযূষ কানোরিয়া। অফিস উদ্বোধনের পরে শুভেন্দু অধিকারীর বার্তা, ‘রাজ্যের উন্নয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ডবল ইঞ্জিন সরকার। এই ক্যাম্পাস একটি বার্তা বহন করছে। আবার পশ্চিমবঙ্গ শীর্ষ স্থানে যেতে পারে। ডবল ইঞ্জিন সরকার রাজ্যে কর্মসংস্থান তৈরিতে বদ্ধপরিকর। ছোট শিল্প উদ্যোগকে সাহায্য করবে রাজ্য সরকার। রাজ্যে আরও বিনিয়োগ হবে।’
তাছাড়া এখানে ভারী শিল্প নিয়ে আসতে একাধিক শিল্পপতিদের সঙ্গে কথাবার্তা চলছে রাজ্য সরকারের। আমূল এসেছে। লাক্স কোজি কারখানা করবে বলে কথা দিয়েছে। টাটা গোষ্ঠীর সঙ্গেও কথা চলছে। দুর্গাপুজোর আগে বড় কোনও শিল্পের ঘোষণা হতে পারে বলে সূত্রের খবর। এই আবহে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর আহ্বান, ‘রাজ্যে দক্ষতা সম্পন্ন কর্মীর কোনও অভাব নেই। আগের সরকার যোগ্যদের সম্মান দিতে পারেনি। কিন্তু এখন পরিস্থিতি বদলেছে। যুব সমাজকে আর রাজ্য ছাড়তে হবে না। বাংলার পুনর্গঠনে ডবল ইঞ্জিন সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আশা করি পশ্চিমবঙ্গে আরও বিনিয়োগ হবে। পশ্চিমবঙ্গকে নতুন করে গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য। তাই দয়া করে ফিরে আসুন।’




