কাজের দিনে ২ হাজার মানুষকে নিয়ে মিছিল নয়, ৭৫০ জনকে নিয়ে রাজাবাজার থেকে মৌলালি পর্যন্ত মিছিলের অনুমতি। সাউন্ড সিস্টেমে নিষেধাজ্ঞা। চলবে হ্যান্ড মাইক। ১০ স্বেচ্ছাসেবকের নাম-ফোন নম্বর সোমবারের মধ্যে পুলিশকে জমা দেওয়ার নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের।
এসআইআর ইস্যুতে জমিয়েত উলামায়ে হিন্দ, ওয়েস্ট বেঙ্গলের মিছিলে শর্তসাপেক্ষে অনুমতি দিল কলকাতা হাইকোর্ট। সোমবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের নির্দেশ, ১১ আগস্ট নির্ধারিত মিছিল রাজাবাজার থেকে মৌলালি পর্যন্ত করা যাবে। তবে ২ হাজার নয়, সর্বাধিক ৭৫০ জন কর্মী-সমর্থককে নিয়ে মিছিল করতে হবে। সময়ও বদলে দেওয়া হয়েছে। সকাল ১১টা ৩০ মিনিট থেকে দুপুর ১টার মধ্যে মিছিল শেষ করতে হবে।
মিছিলের জন্য একাধিক শর্তও বেঁধে দিয়েছে আদালত। সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহার করা যাবে না। তবে হ্যান্ড মাইক ব্যবহারের অনুমতি রয়েছে। মিছিলের আগে ১০ জন স্বেচ্ছাসেবকের নাম ও ফোন নম্বর আজই কলকাতা পুলিশকে জমা দিতে হবে। পাশাপাশি মিছিল ঘিরে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে হবে পুলিশকেই।
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু রোডের একটি লেন খোলা রাখতে হবে, যাতে মা উড়ালপুলের দিকে যানবাহন চলাচল ব্যাহত না হয়। এসআইআর-এর প্রতিবাদে ১১ আগস্ট রাজাবাজার থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত ২ হাজার মানুষকে নিয়ে মিছিল করতে চেয়ে গত ৩ আগস্ট কলকাতার জয়েন্ট পুলিশ কমিশনারের কাছে ই-মেলের মাধ্যমে আবেদন করেছিল জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ, ওয়েস্ট বেঙ্গল। কিন্তু পুলিশ অনুমতি দেয়নি বলে অভিযোগ সংগঠনের। শেষ পর্যন্ত হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় তারা।
সোমবার শুনানিতে বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, কর্মদিবসে কেন মিছিলের আবেদন করা হয়েছে? ছুটির দিনে করলে সমস্যা কোথায়? সংগঠনের আইনজীবী সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায় জানান, শিয়ালদহ-সহ বিভিন্ন জায়গা থেকে মানুষ মিছিলে যোগ দেবেন। রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল সুরজিৎ নাথ মিত্রের কাছে বিচারপতি জানতে চান, ৩ আগস্ট আবেদন করা হলেও পুলিশ কেন শুক্রবার সন্ধ্যা ৮টার পর জানাল যে অনুমতি দেওয়া সম্ভব নয়? রাজ্যের বক্তব্য, রাজাবাজার থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত ২ হাজার মানুষের মিছিল হলে কর্মদিবসে বড়সড় ট্রাফিক সমস্যা তৈরি হতে পারে। সাধারণ মানুষকেও দুর্ভোগে পড়তে হবে।
রাজ্যের তরফে আরও জানানো হয়, এর আগে ধর্মতলায় মিছিলকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলার ঘটনায় ১১ জন পুলিশকর্মী গুরুতর জখম হয়েছিলেন। বেশ কিছু পুলিশের গাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। তবে বিচারপতির প্রশ্ন, গত এক বছরে কি এত সংখ্যক মানুষের মিছিল হয়নি? হয়ে থাকলে এই মিছিলের অনুমতি দেওয়া হবে না কেন? আদালত স্পষ্ট করে জানায়, ২ হাজার মানুষের মিছিলের অনুমতি দেওয়া সম্ভব নয়। তবে কম সংখ্যক মানুষকে নিয়ে মিছিলের কথা বিবেচনা করা যেতে পারে।
রাজ্যের তরফে বিকল্প রুটের প্রস্তাবও দেওয়া হয়। গড়িয়া বাসস্ট্যান্ড, বৈষ্ণবঘাটা-পাটুলি লিঙ্ক রোড, ইএম বাইপাস হয়ে রাজা সুবোধ মল্লিক স্কোয়ার পর্যন্ত মিছিলের প্রস্তাব দেয় সরকার। হেদুয়া থেকে শ্যামবাজার মোড় পর্যন্ত মিছিলের কথাও বলা হয়। কিন্তু আদালত মনে করে, প্রস্তাবিত রুটের কয়েকটি রাস্তা অত্যন্ত সরু।
আরও পড়ুন: গ্রাহকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে আত্মসাৎ লক্ষ লক্ষ টাকা, পুলিশের জালে ব্রাঞ্চ ম্যানেজার
শেষ পর্যন্ত বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য জানান, রাজাবাজার থেকে শিয়ালদহ স্টেশন লাগোয়া মৌলালি পর্যন্ত মিছিলের অনুমতি দেওয়া যেতে পারে। তবে শর্ত একাধিক। ৭৫০ জনের বেশি জমায়েত করা যাবে না, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মিছিল শেষ করতে হবে এবং শব্দযন্ত্র ব্যবহার করা যাবে না। আদালতের এই নির্দেশে আপাতত এসআইআর-বিরোধী মিছিল নিয়ে জট কাটল। রাজ্য বনাম সংগঠনের টানাপোড়েনের মাঝেই আদালতের শর্তসাপেক্ষ ‘সবুজ সঙ্কেত’।




