ক্যামাক স্ট্রিটে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিসের ‘বিল বোর্ড’ ভাঙা নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে বড়সড় ধাক্কা খেল তৃণমূল। শুক্রবার বিচারপতি রাজা বসু চৌধুরীর একক বেঞ্চ বোর্ডটি পুনরায় লাগানোর জন্য কোনও অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিতে অস্বীকার করল। সেই সঙ্গে ভবিষ্যতে কলকাতা পুরসভা যাতে ওই অফিসে কোনও ‘ডিমোলিশন’ না চালায়, সেই আবেদনেও এই মুহূর্তে হস্তক্ষেপ করল না আদালত।
অভিষেকের অফিসের বোর্ড খোলার অভিযোগ তুলে বৃহস্পতিবার রাতেই জরুরি ভিত্তিতে মামলা দায়েরের উদ্যোগ নেয় তৃণমূল। শুক্রবার মামলাটি আদালতে উঠতেই আইনজীবী কিশোর দত্ত জানান, ২৭ আগস্ট বিকেল সাড়ে ৪টে নাগাদ দু’জন ব্যক্তি এসে জানান, কলকাতা পুরসভা ক্যামাক স্ট্রিটের ওই বোর্ড সরাতে ‘অপারেশন’ চালাবে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বোর্ডটি খুলে ফেলা হয় বলেও আদালতে দাবি করেন তিনি।
কিশোরের বক্তব্য, ‘চার ঘণ্টার মধ্যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং তা কার্যকরও হয়ে গিয়েছে। এটি আইনের অপব্যবহার এবং আইনগত বিদ্বেষের ঘটনা।’ তাঁর আবেদন ছিল, বোর্ডটি ফের আগের জায়গায় লাগানোর নির্দেশ দেওয়া হোক। ভবিষ্যতে ওই অফিসে পুরসভার আইনে কোনও ভাঙার কাজ না করা হয়। তাতেই বিচারপতির প্রশ্ন, ‘কেন অন্তর্বর্তী নির্দেশ চান, সেটা স্পষ্ট করে বলুন।’
বোর্ড ফেরানোর আর্জি শুনে বিচারপতির স্পষ্ট বক্তব্য, ইতিমধ্যেই যা খুলে ফেলা হয়েছে, তা আদালতের নির্দেশে কীভাবে ফেরানো সম্ভব? ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঘটবে, এই আশঙ্কার ভিত্তিতে পুরসভাকে আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ করা থেকে আটকানোও সম্ভব নয় বলে জানিয়ে দেন তিনি। মামলায় কয়েকজন সরকারি আধিকারিককে ব্যক্তিগতভাবে বিবাদী করা হয়েছিল।
আদালত স্পষ্ট করে জানায়, আধিকারিকেরা তাঁদের সরকারি দায়িত্ব পালন করেছেন। তাই তাঁদের ব্যক্তিগত নাম বাদ দিয়ে সংশ্লিষ্ট পদে সরকারি আধিকারিক হিসেবে উল্লেখ করে নতুন করে মামলা দায়ের করতে হবে। রাজ্যের পক্ষেও যথাযথভাবে নোটিশ দেওয়া হয়নি বলে জানায় আদালত। এ দিন মামলায় নতুন মাত্রা যোগ করেন আইনজীবী জয়দীপ কর। তিনি জানান, ৯ ক্যামাক স্ট্রিটের সম্পত্তিটি পিরামল প্রপার্টিজের এবং ছাদের উপর ওই হোর্ডিং বসানোর জন্য কোনও অনুমতি নেওয়া হয়নি। এই বিষয়ে শেক্সপিয়র সরণি থানাতেও অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলে আদালতে জানান তিনি।
জয়দীপ করকে উদ্দেশ্য করে বিচারপতির প্রশ্ন, ‘আপনি এই মামলার পক্ষ নন।’ অন্যদিকে, পুরসভার কোনও আইনজীবী উপস্থিত না থাকায় আদালত রাজ্যের বক্তব্য শোনে। রাজ্যের অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল বিল্বদল ভট্টাচার্য মামলাটি সোমবার শুনানির জন্য রাখার আবেদন জানান। তাঁর বক্তব্য, পুরসভা একটি ‘বডি কর্পোরেট’, যা কমিশনারের মাধ্যমে কাজ করে। অথচ কমিশনারকে মামলায় পক্ষ করা হয়নি। শেষ পর্যন্ত আদালত এই পর্যায়ে কোনও অন্তর্বর্তী সুরক্ষা দিতে রাজি হয়নি।
আরও পড়ুন: বিলবোর্ড কাণ্ডে হাইকোর্টে অভিষেক, পুলিশের ‘অত্যাচার’-এর অভিযোগ! জরুরি শুনানির আর্জি
বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, মামলাটি এখনও ‘প্রিম্যাচিওর’ পর্যায়ে রয়েছে। আবেদনের একাধিক বক্তব্য যথাযথ ভাবে যাচাই করা হয়নি। নির্দিষ্ট নথিও আদালতে পেশ করা হয়নি। ফলে এখনই আবেদনকারীকে কোনও স্বস্তি দেওয়ার কারণ নেই। আদালতের নির্দেশ, ব্যক্তিগত নামে যাঁদের পক্ষ করা হয়েছে, তাঁদের নাম বাদ দিয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি পদে উল্লেখ করতে হবে। তৃণমূলকে সংশোধিত আবেদন নতুন করে দাখিল করতে বলা হয়েছে। রাজ্যকে হলফনামা এবং আবেদনকারীকে তার জবাব দেওয়ার জন্য এক সপ্তাহ সময় দিয়েছে আদালত। এরপর মামলাটি ‘দৃষ্টি আকর্ষণ করে শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত করা হবে।




