রাজ্যে পালাবদল হওয়ার পরে তৃণমূল ছেড়ে অনেকেই বিজেপি শিবিরে ভিড়েছেন। অনেকে আবার ছায়া হয়ে রয়েছেন। ইতিমধ্যেই তৃণমূল কংগ্রেসের ২০ জন সাংসদ এনসিপিআই দলে যোগ দিয়েছেন। তাঁরা ঘোষণা করেছেন, এনডিএ’কে সমর্থন করবেন। আর তখন থেকেই নানা বিষয় সামনে আসতে শুরু করেছে। কারণ সামনে কলকাতা এবং হাওড়া পুরসভার ভোট আছে। সেখানে কি বিজেপির সঙ্গে জোট করে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে এনসিপি? এমন প্রশ্নও উঠতে শুরু করেছে। আবার পরিস্থিতির বদল ঘটতেই অনেকেই বিজেপির গেরুয়া পতাকা হাতে নিয়ে ফেলেছেন। তাঁরা আবার আশা করছেন পুরভোটে টিকিট পাবেন। সেখানে এবার সরাসরি স্পষ্ট বার্তা দিয়ে দিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।
পুরসভার ভোটের দামামা বাজতে চলেছে। তার আগেই দলের অন্দরে ‘টিকিটের দাবিদার’ হতে নানা ছক কষা শুরু হয়েছে। এবার তাঁদের উদ্দেশে সতর্কবার্তা দিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তিনি এদিন সরাসরি জানালেন, অন্য দল থেকে এসে গেরুয়া পতাকা হাতে নিয়েই নিজেকে ‘ভবিষ্যৎ প্রার্থী’ হিসাবে তুলে ধরলে চলবে না। গেরুয়া পতাকার জোরে প্রার্থী নয়। দলের নাম করে দুর্গাপুজো কমিটি দখল অথবা ‘তোলা’ আদায়ের রাজনীতি কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। গেরুয়া পতাকা হাতে নিলেই যে টিকিট মিলবে না সেটা একেবারে স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি। তাই এখন যাঁরা ঘুঁটি সাজাচ্ছিলেন তাঁদের মাথায় হাত পড়েছে।
কলকাতা এবং হাওড়া পুরসভা নির্বাচনের দায়িত্বে আছেন বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ রাহুল সিনহা ও কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। কদিন আগে সুকান্তবাবু বলেছিলেন, যে জিততে পারবে সেই টিকিট পাবে। এবার শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্ট বার্তা দিলেন, ‘কিছু মানুষ বিজেপির পতাকা নিয়ে গেরুয়া আবির লাগাচ্ছে। তাঁরা নিজেদের এমনভাবে প্রোজেক্ট করছে যেন তাঁরা ভবিষ্যতের প্রার্থী। এটা চলবে না। তৃণমূলে থাকাকালীন গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব, ইট-পাথর ছোঁড়া, বাড়ি ভাঙচুরের মতো ঘটনায় যুক্ত ছিলেন কেউ কেউ। এখন বিজেপির পতাকা হাতে নিয়ে তাঁরাই নিজেদের সম্ভাব্য বিজেপি প্রার্থী হিসাবে তুলে ধরছেন।’ শমীকবাবুর কথা থেকে স্পষ্ট তৃণমূল থেকে এসে যাঁরা ঘর গোছাবেন ভাবছেন তাঁরা মূর্খের স্বর্গে বাস করছেন।
তাছাড়া বিজেপি কখনই চায় না তৃণমূলীকরণ হোক। সে কথা আগেই বলেছিলেন বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য। এবার সেটা রুখতেই আগেভাগে পুরভোট নিয়ে অবস্থান স্পষ্ট করে দিলেন তিনি। শমীক ভট্টাচার্য বলেন, ‘কিছু মানুষ হঠাৎ বিজেপির পতাকা হাতে নিয়েছেন। গেরুয়া আবির মাথায় মেখেছেন। তাঁরা অপ্রাসঙ্গিক। মানুষ তো তাঁদের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছে। মানুষ দখলদারির রাজনীতি বন্ধ করার জন্য আমাদের ভোট দিয়েছেন। মানুষ আমাদের ভোট দিয়েছেন জামার ভিতরের মানুষটাকে পরিবর্তন করার জন্য, জামা পরিবর্তন করার জন্য নয়। আর হাওড়া এবং কলকাতা, দুই পুরসভাতেই দুই তৃতীয়াংশ আসন পেয়ে বোর্ড গঠন করবে বিজেপি। এনসিপিআই এনডিএ’র শরিক হলেও তাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তারাই বলতে পারবে। আমার দল সরকারে এসেছে, যদি কোনও বিচ্যুতি থাকে, তাহলে সেই বিচ্যুতি আপনাদের চোখে পড়বে। বন্ধ করে দেবেন সেই বিচ্যুতি। তৃণমূল নির্মূল হয়ে গিয়েছে। তৃণমূলের নেতারা আবার ঘুরে আসতে চাইছেন। কেউ কেউ বলছে আমরা এক হয়ে গিয়েছি। কেউ নিজেকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করে দিয়েছেন। এটা চলতে পারে না।’




