শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত পোশাক ব্যক্তিগত পছন্দ অনুযায়ী পরিবর্তনের অধিকার কোনও শিক্ষার্থীর নেই। এক গুরুত্বপূর্ণ রায়ে এমনই স্পষ্ট বার্তা দিল এলাহাবাদ হাইকোর্ট। স্কুলের নির্ধারিত পোশাকের সঙ্গে হিজাব পরার অনুমতি চেয়ে এক ছাত্রী আদালতের দারস্থ হয়েছিল। মঙ্গলবার এলাহাবাদ হাইকোর্ট সেই পড়ুয়ার আবেদন খারিজ করে দেয়। আদালতের পর্যবেক্ষণ, হিজাব পরা ইসলাম ধর্মের বাধ্যতামূলক ধর্মীয় অনুশীলন নয়। শুধুমাত্র ধর্ম পালনের জন্য স্বাধীনতার যুক্তি দেখিয়ে স্কুলের ইউনিফর্মকে এভাবে ছোট করা যায় না।
মামলাটি দায়ের করেছিল প্রয়াগরাজের একটি বেসরকারি স্কুলের এক নাবালিকা ছাত্রী। সে ওই স্কুল থেকেই মাধ্যমিক পাশ করে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হতে চায়। তার দাবি ছিল, স্কুলের ইউনিফর্মের পাশাপাশি হিজাব পরার অনুমতি দেওয়া হোক। ছাত্রীর বক্তব্য, হিজাব পরা ইসলামের একটি অপরিহার্য ধর্মীয় অনুশীলন। সে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে ওই স্কুলে হিজাব পরে আসছে।
বিচারপতি জে জে মুনির ও বিচারপতি ইন্দ্রজিৎ শুক্লার ডিভিশন বেঞ্চ মামালার শুনানিতে জানায়, ওই ছাত্রী বিভিন্ন ক্লাসের ছবি জমা দিয়েছে। সেই ছবিতে দেখা গিয়েছে, ওই ছাত্রী ছাড়া বাকি পড়ুয়ারা কেউ হিজাব পরেনি। এমনকী একই ধর্মীয় সম্প্রদায়ের অন্য কোনও ছাত্রীও হিজাব পরেনি। আদালত জানিয়েছে, হিজাব পরা ইসলামের অপরিহার্য ধর্মীয় অনুশীলন। এই দাবি সমর্থনে কোনও গ্রহণযোগ্য প্রমাণ পেশ করা হয়নি।
রায়ে বলা হয়েছে, এ বিষয়ে এর আগে বিভিন্ন হাইকোর্টে মামলা হয়েছে। সেখানে সংশ্লিষ্ট রায়গুলিতে হিজাব পরাকে ইসলাম ধর্মের এমন অপরিহার্য ধর্মীয় অংশ হিসেবে স্বীকৃত দেওয়া হয়নি, যার অনুপস্থিতিতে ধর্মীয় বিশ্বাসই বিপন্ন হয়ে পড়বে। গত ২১ আগস্ট দেওয়া রায়ে আদালত স্পষ্ট করে জানিয়েছে, কোনও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত ইউনিফর্ম যদি সবার ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রযোজ্য হয়, বৈষম্যমূলক না হয় এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখার উদ্দেশ্যে প্রণীত হয়, তাহলে সেই নীতি কার্যকর করার পূর্ণ অধিকার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের রয়েছে।
হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ, কোনও শিক্ষার্থী ব্যক্তিগত পছন্দের ভিত্তিতে ইউনিফর্মে পরিবর্তন বা সংযোজনের আইনি অধিকার দাবি করতে পারে না। এমন অনুমতি দেওয়া হলে ইউনিফর্মের মূল উদ্দেশ্যই নষ্ট হবে। অন্যদিকে, স্কুল কর্তৃপক্ষ আদালতে জানায়, এটি একটি স্বনির্ভর বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। যেখানে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করতে আসে। সেখানে একজন শিক্ষার্থীকে বিশেষ ছাড় দিলে তা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিয়মশৃঙ্খলার জন্য ক্ষতিকর।




