• facebook
  • twitter
Monday, 18 May, 2026

লখনউয়ে বুলডোজার অভিযান, ভাঙা হল ২৪০ আইনজীবীর চেম্বার

এলাহাবাদ হাই কোর্টের নির্দেশে লখনউ আদালত চত্বরের বাইরে প্রায় ২৪০টি আইনজীবীর চেম্বার ভাঙাকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়াল। বিক্ষোভে সামিল হলেন আইনজীবীরা।

প্রথম বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর বাংলাতে সবে বুলডোজার অভিযান শুরু হলেও যোগী রাজ্যে অনেক আগে থেকেই চলছে। এখনও তার রেশ কাটেনি। এবার এলাহাবাদ হাই কোর্টের লখনউ বেঞ্চের নির্দেশে রবিবার উত্তরপ্রদেশের রাজধানী শহরে ব্যাপক বুলডোজার অভিযান চালাল পুরসভা। জেলা আদালত চত্বরের বাইরে গড়ে ওঠা আইনজীবীদের বেআইনি চেম্বার এবং দোকান ভাঙাকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। বিশাল পুলিশ বাহিনী ও প্রাদেশিক সশস্ত্র কনস্টেবল বাহিনী মোতায়েন রেখে চলে উচ্ছেদ অভিযান।

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, সিভিল কোর্ট এবং জেলা শাসকের দপ্তরের বাইরে প্রায় ২৪০টি বেআইনি চেম্বার ও দোকান গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। আদালত চত্বরে দীর্ঘদিন ধরে দখল করে এই নির্মাণ গড়ে উঠেছিল বলে অভিযোগ। রবিবার সকালেই বুলডোজার নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় পুরসভার বুলডোজার টিম।

Advertisement

অভিযান শুরু হতেই আইনজীবীদের একাংশ প্রবল বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। প্রশাসনের বিরুদ্ধে স্লোগান ওঠে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ ও বিক্ষোভরত আইনজীবীদের মধ্যে ধস্তাধস্তির ঘটনাও ঘটে। পরিস্থিতি কিছুটা সময়ের জন্য অত্যন্ত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

Advertisement

ঘটনাস্থলে এক আইনজীবী আত্মহত্যার চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগ। বুলডোজার অভিযানের প্রতিবাদে তিনি নিজের চেম্বারের ভিতরে ফাঁস লাগানোর চেষ্টা করেন। তবে পুলিশ দ্রুত হস্তক্ষেপ করে তাঁকে উদ্ধার করে। এই ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়।

বিক্ষোভরত আইনজীবীদের অভিযোগ, কোনও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করেই এই উচ্ছেদ চালানো হয়েছে। তাঁদের দাবি, যথাযথ নোটিসও দেওয়া হয়নি। বহু চেম্বার চিহ্নিত না করেই সরাসরি ভাঙা শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। আইনজীবী এস পি সিং ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সারা জীবন তিনি ভারতীয় জনতা পার্টিকে ভোট দিয়েছেন। কিন্তু এ দিনের ঘটনার পর তিনি আর সেই দলকে সমর্থন করবেন না। তাঁর দাবি, প্রশাসন কোনও স্পষ্ট নোটিস দেয়নি। কোন চেম্বার ভাঙা হবে তাও জানানো হয়নি। আর এক আইনজীবী দেশাত্মবোধক গান গেয়ে অভিনব প্রতিবাদ জানান। বুলডোজার অভিযানের মাঝেই তিনি গান গেয়ে প্রশাসনের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেন।

তবে পুলিশ ও প্রশাসনের বক্তব্য, আদালতের নির্দেশ মেনেই সমস্ত পদক্ষেপ করা হয়েছে। পুলিশ আধিকারিক কমলেশ দীক্ষিত জানান, বেআইনি দখল সরানোর নির্দেশ ছিল। আগেই নোটিস পাঠানো হয়েছিল। আইন মেনেই উচ্ছেদ অভিযান চলছে বলে তাঁর দাবি। প্রশাসনের বক্তব্য, আদালতের বাইরে সরকারি জমি দখল করে এই নির্মাণ গড়ে উঠেছিল। এর ফলে এলাকায় যানজট ও সাধারণ মানুষের চলাচলে সমস্যা তৈরি হচ্ছিল। সেই কারণেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে দিনভর উত্তেজনা চললেও বড় কোনও আহতের খবর পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতির উপর নজর রাখছেন প্রশাসন ও পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকরা। অন্যদিকে, আইনজীবীরা অবিলম্বে উচ্ছেদ অভিযান বন্ধ করে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনায় বসার দাবি জানিয়েছেন।

Advertisement