অন্ধ্রপ্রদেশের গোদাবরী নদীতে সপরিবারে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার ঘটনায় এক রাইফেল শুটিং কোচকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। মৃত ইঞ্জিনিয়ারের নাম থিলাপুরী নুকারাজুর। তাঁর পকেট থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার হয়েছে। সেই সুইসাইড নোটে ওই কোচের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ ওঠার পর ৫ রাজ্যে তল্লাশি চালানো হয়। এরপর উত্তরপ্রদেশের মেরঠ থেকে অভিযুক্ত শেখ সাদিক খানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ইঞ্জিনিয়ার, তাঁর স্ত্রী ও কন্যার মৃত্যু হয়েছে। ১০ বছরের নাতিকে উদ্ধার করে প্রাণে বাঁচান মৎস্যজীবীরা।
গত ১৬ আগস্ট রাতে রাজা মাধবেন্দ্রমের রোড-কাম-রেল সেতু থেকে স্ত্রী মীনা, মেয়ে সৌজন্যা এবং ১০ বছরের নাতিকে নিয়ে গোদাবরীতে ঝাঁপ দেন নুকারাজু। স্থানীয় মৎস্যজীবীরা নাতিকে উদ্ধার করতে পারলেও নুকারাজু, তাঁর স্ত্রী ও মেয়ের মৃত্যু হয়। পুলিশ সূত্রে খবর, সুইসাইড নোটে সাদিকের বিরুদ্ধে নুকারাজুকে দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ভাবে চাপ দেওয়া এবং হেনস্থার অভিযোগ করা হয়েছে।
অন্য একটি সূত্রের দাবি, ধর্ম পরিবর্তনের জন্য চাপ, ব্ল্যাকমেল এবং হুমকির অভিযোগও রয়েছে ওই নোটে। অভিযোগগুলির সত্যতা পুলিশ খতিয়ে দেখছে। কাকিনাড়ার পুলিশ সুপার বিন্দু মাধব জানিয়েছেন, ঘটনার পর থেকেই সাদিক আত্মগোপন করেছিলেন। ৫ রাজ্যে ১০টি পুলিশ দল তাঁর খোঁজে তল্লাশি চালায়। পুলিশের নজর এড়াতে তিনি মোবাইল ফোন ব্যবহার বন্ধ করে দিয়েছিলেন।
আরও পড়ুন: ২০ বিদ্রোহী সাংসদকে নোটিশ শীর্ষ আদালতের, খারিজ হবে সাংসদ পদ?
পুলিশ সূত্রের খবর, ডিজিটাল লেনদেনের সূত্র ধরে শেষ পর্যন্ত তাঁর অবস্থান চিহ্নিত করা সম্ভব হয়। মেরঠ থেকে গ্রেপ্তারের পর ট্রানজিট রিমান্ডে তাঁকে অন্ধ্রপ্রদেশে নিয়ে আসা হয়। জানা গিয়েছে, নুকারাজুর পরিবারের সঙ্গে সাদিকের ২ বছরের বেশি সময় ধরে পরিচয় ছিল। তিনি নুকারাজুর নাতির স্কুলের রাইফেল শুটিং কোচ ছিলেন। কেন এই পরিবারের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের অবনতি হল, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ঘটনায় বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে সিবিআই বা এনআইএ তদন্তের দাবিও উঠেছে।




