• facebook
  • twitter
  • youtube
Monday, 19 October, 2026

সনাতন সংস্কৃতি ও নারী সম্মান নিয়ে বার্তা যোগগুরু রামদেবের, নবরাত্রির পূর্ণালগ্নে দেশবাসীকে কন্যা সুরক্ষার সংকল্প নেওয়ার আহ্বান

দেশে নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ এবং দুর্নীতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে রামদেব বলেন, এই ধরনের ঘটনার অবসান হওয়া প্রয়োজন

সনাতন সংস্কৃতি ও নারী সম্মান নিয়ে বার্তা যোগগুরু রামদেবের, নবরাত্রির পূর্ণালগ্নে দেশবাসীকে কন্যা সুরক্ষার সংকল্প নেওয়ার আহ্বান

Image: SNS

নবরাত্রি উপলক্ষে পতঞ্জলি যোগপীঠে কন্যাপুজোর আয়োজন করেছিলেন যোগগুরু রামদেব (Ramdev)। সেই অনুষ্ঠানে সনাতন সংস্কৃতি, নারী সম্মান এবং দেশের নৈতিক ব্যবস্থা নিয়ে একাধিক মন্তব্য করেন তিনি (Ramdev)। দেশে নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ এবং দুর্নীতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে রামদেব বলেন, এই ধরনের ঘটনার অবসান হওয়া প্রয়োজন।

তাঁর (Ramdev) দাবি, ধর্ষকদের মৃত্যুদণ্ডের বিধান থাকা উচিত এবং এ ধরনের মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য় ফাস্ট ট্র্যাক আদালতে শুনানি হওয়া দরকার। দুর্নীতি এবং গোহত্যা নিয়ে কঠোর শাস্তির কথা বলেন তিনি। রামদেবের কথায়, ‘তিনটি কাজ অবিলম্বে করা উচিত—ধর্ষকদের ফাঁসি, দুর্নীতিগ্রস্তদের ফাঁসি এবং গো-হত্যাকারীদেরও ফাঁসি’।

সাংবাদিকদের তিনি (Ramdev) বলেন, ‘ভারতীয় সনাতন সংস্কৃতির দৃষ্টিভঙ্গি হল প্রতিটি রূপের মধ্যেই দেবী ভগবতীর দর্শন করা। এই ভাবনা শুধু কন্যাদের মধ্যেই শুধু সীমাবদ্ধ নয় বরং সমগ্র সৃষ্টির মধ্যেই দেবীর উপস্থিতি উপলব্ধি করার শিক্ষা দেয়। তাঁর মতে, যাঁদের মধ্যে এই দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে, তাঁরা কামনাবাসনার ঊর্ধ্বে উঠতে পারেন এবং ব্যাভচার কিংবা দুর্নীতির কথা ভাবতেও পারেন না।‘

আরও পড়ুন: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা যা পারেনি তা করে দেখাল পতঞ্জলি! জন্মদিনে ১২টি নতুন অবিশ্বাস্য ওষুধ আনলেন বালকৃষ্ণ

তিনি (Ramdev) আরও বলেন, ‘আমাদের ভারতীয় সনাতন দৃষ্টিভঙ্গি হল প্রতিটি নাম, রূপ ও স্বরূপের মধ্যেই ভগবতীকে দর্শন করা। শুধু কন্যাদের মধ্যে নয়, সমস্ত দৃষ্টির মধ্যেই দেবীর উপস্থিতি অনুভব করতে হবে। এটাই সনাতন, এটাই ভারতে দৃষ্টিভঙ্গি। যাঁদের মধ্যে এই দৃষ্টি রয়েছে, তাঁরা কামনাবাসনামুক্ত। তাঁরা কখনও দুরাচার, অনাচার, ব্যভিচার বা দুর্নীতির কথা ভাবতেও পারেন না।‘

দেশে ছোট ছোট মেয়েদের সঙ্গে ধর্ষণ এবং সমাজে অশ্লীলতার ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন যোগগুরু। এই ধরনের অপরাধ বন্ধ হওয়া দরকার বলে তিনি মনে করেন। রামদেব বলেন, ‘ভারতে ছোট ছোট মেয়েদের সঙ্গে ধর্ষণ, অশ্লীলতার যে ঘটনা ঘটছে, তা বন্ধ হওয়া উচিত। দুরাচারীদের ফাঁসি হওয়া দরকার। সেই মতো আইন তৈরি করতে হবে এবং ফাস্ট ট্র্যাক আদালতে মামলার শুনানি হওয়া উচিত।‘

আরও পড়ুন: ফিল্মি তারকা নয়, রোল মডেল হোন বাবা-মা আর দাদু-দিদা: গুরুপূর্ণিমায় আবেগঘন বার্তা রামদেবের

তিনি (Ramdev) আরও বলেন, ‘দেশে এমন ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন, যাতে কোনও মা বা মেয়ের সঙ্গে কোনও রকম অন্যায় না হয়। তাঁর কথায়, বারতে কোনও মা-মেয়ের সঙ্গে একবারও অন্যায় হওয়া উচিত নয়। এমন বিচারব্যবস্থা গড়ে তোলাই হবে নবরাত্রির প্রকৃত সার্থকতা।‘

ধর্ষণ, দুর্নীতি এবং গোহত্যা—এই তিনটি বিষয়ে অবিলম্বে কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন তিনি (Ramdev)। তাঁর কথায়, ‘তিনটি কাজ অবিলম্বে হওয়া উচিত। প্রথমত, ধর্ষকদের ফাঁসি, দ্বিতীয়ত-দুর্নীতিগ্রস্তদের ফাঁসি এবং তৃতীয়ত- গো-হত্যাকারীদেরও ফাঁসি।‘

গো-হত্যার প্রসঙ্গে তিনি (Ramdev) বলেন, ‘আমরা গরুকে মা বলে মনে করি। সেই মায়ের প্রকাশ্যে হত্যা করা হয়। এর চেয়ে বড় পাপ আর কী হতে পারে?‘ ধর্ষণ ও গো হ্ত্যাকে মহাপাপ হিসেবে উল্লেখ করে এই ধরনের ঘটনার অবসানে পক্ষে সওয়াল করেন তিনি।

যোগগুরু রামদেবের (Ramdev) বক্তব্যে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের সঙ্গে সামাজিক দায়িত্ববোধের বিষয়টিও উঠে এসেছে। কন্যাপুজোর মাধ্যমে তিনি (Ramdev) নারী সম্মান, শিশুদের নিরাপত্তা, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ এবং গো সংরক্ষণের মতো বিষয়গুলি তুলে ধরেন। তাঁর মতে, নবরাত্রির পুণ্যতিথি যেন শুধু পুজো-অর্চনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থাকে। সামাজিক সংকল্পই সনাতন সংস্কৃতি ও ভারতের গৌরবকে আরও শক্তিশালী করে তুলবে।

দেখুন: বাড়ির পুজোয় পরিবারের সঙ্গে কোয়েল, ১০২ বছরে মল্লিকবাড়ির দুর্গোৎসব