হোয়াট্সঅ্যাপে অচেনা নম্বর থেকে বিয়ের নিমন্ত্রণ পেয়ে সাইবার প্রতারকদের ফাঁদে পড়লেন মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরের এক ব্যক্তি। সুন্দর ডিজিটাল বিয়ের কার্ড, সেখানে তারিখ, সময় ও অনুষ্ঠানের ঠিকানা—সবই ছিল নিখুঁত। কার্ডের শেষে দেওয়া একটি লিঙ্কে ক্লিক করতেই মুহূর্তের মধ্যে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে উধাও হয়ে যায় প্রায় ২০ হাজার টাকা। এরপর ঢুকতে থাকে আরও মেসেজ। সব কিছু বুঝে ওঠার আগেই অ্যাকাউন্ট ফাঁকা হয়ে যায় ওই ব্যক্তির।
জানা গিয়েছে, ওই ব্যক্তি প্রথমে অচেনা নম্বর থেকে বিয়ের নিমন্ত্রণ পেয়ে অবাক হলেও কৌতূহল সামলাতে পারেননি। কার্ডে লেখা ছিল, ‘আপনাকে স্বাগত। বিয়ের নিমন্ত্রণপত্র গ্রহণ করে বাধিত করবেন। সপরিবার অনুষ্ঠানে হাজির হয়ে নবদম্পতিকে আশীর্বাদ করবেন।’ আরও লেখা ছিল, লিঙ্কে ক্লিক করলে বিয়ে সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য জানা যাবে। লিঙ্কে ঢোকার কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁর মোবাইলে একের পর এক মেসেজ আসতে থাকে। মেসেজগুলিতে জানানো হতে থাকে অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তোলা হয়েছে। এইভাবে সর্বস্ব খুইয়ে ফেলেন ওই ব্যক্তি।এরপরেই গায়েব হয়ে যায় সাইবার অপরাধীরা।
Advertisement
এই ধরনের প্রতারণার শিকার শুধু সাধারণ মানুষই নন, জুড়ে দেওয়া হচ্ছে রাজনৈতিক নেতাদের নামও। সম্প্রতি ইন্দোরেই কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা সদাশিব যাদবের নাম ব্যবহার করে বহু মানুষকে বিয়ের নিমন্ত্রণ পাঠানো হয়। নিমন্ত্রণপত্রে বিয়ের তারিখ লেখা ছিল ২৪ ফেব্রুয়ারি। বিষয়টি নজরে আসতেই সমাজমাধ্যমে কার্ডের ছবি পোস্ট করে সদাশিব যাদব জানান, এটি সম্পূর্ণ ভুয়ো এবং তাঁর তরফে পাঠানো হয়নি। একই সঙ্গে সবাইকে কার্ডের সঙ্গে পাঠানো লিঙ্কে ক্লিক না করার আবেদন জানান তিনি।
Advertisement
এই ঘটনায় কংগ্রেস নেতা পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে জানানো হয়েছে, অচেনা নম্বর থেকে আসা কোনও লিঙ্কে ক্লিক না করতে এবং সন্দেহজনক ডিজিটাল নিমন্ত্রণ বা মেসেজ এড়িয়ে চলতে। সাইবার প্রতারণার নতুন কৌশল থেকে বাঁচতে এখনই সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
Advertisement



