• facebook
  • twitter
Friday, 9 January, 2026

রুশ তেল কেনার শাস্তি, ভারতের উপর চাপ বাড়াতে ৫০০ শতাংশ শুল্ক চাপাতে চলেছে ট্রাম্প

এই বিল কার্যকর হলে ভারত, চিন, ব্রাজিলের মতো দেশগুলির উপর শুল্ক ও সেকেন্ডারি স্যাংশনের চাপ বহুগুণ বেড়ে যাবে

রুশ থেকে তেল কেনার শাস্তি আগেই দিয়েছিল আমেরিকা। ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপানো হয়েছিল ভারতের উপরে। এবার ৫০০ শতাংশ শুল্ক চাপাতে চলেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রাশিয়ার সঙ্গে তেল ও বাণিজ্য চালিয়ে যাওয়া দেশগুলির বিরুদ্ধে আরও কঠোর অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।

সম্প্রতি একটি বিল পাশ করতে চলেছে আমেরিকা। সেই বিলে অনুমোদনও দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই বিল পাশ হলে ভারত ও চিনের বাণিজ্যে ধাক্কা খাবে বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল। রাশিয়া থেকে প্রায় ৭০ শতাংশ জ্বালানি তেল কেনে ভারত ও চিন। এই বিল কার্যকর হলে ভারত, চিন, ব্রাজিলের মতো দেশগুলির উপর শুল্ক ও সেকেন্ডারি স্যাংশনের চাপ বহুগুণ বেড়ে যাবে।

Advertisement

এই আইন প্রস্তাবটি যৌথভাবে এনেছেন রিপাবলিকান সেনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম ও ডেমোক্র্যাট সেনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল। সেনেটে ইতিমধ্যেই এই বিলের পক্ষে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সহ-উদ্যোক্তা রয়েছেন। একই সঙ্গে হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসে সমান্তরাল একটি বিল পেশ করেছেন রিপাবলিকান সাংসদ ব্রায়ান ফিটজপ্যাট্রিক।

Advertisement

রিপাবলিকান সেনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের দাবি, মার্কিন প্রেসিডেন্ট দ্বিদলীয় রাশিয়া নিষেধাজ্ঞা বিলে নীতিগত সম্মতি দিয়েছেন। বুধবার হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক হয় গ্রাহামের। সেখানেই প্রেসিডেন্ট এই প্রস্তাবিত আইনটির প্রতি সমর্থন জানান। ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের পর সমাজমাধ্যমে একটি লম্বা পোস্ট করে গ্রাহাম জানান, আগামী সপ্তাহেই এই বিলটি নিয়ে আমেরিকার আইনসভায় ভোটাভুটি হতে পারে।

বিলটির গুরুত্ব ব্যাখ্যা করে লিন্ডসে লেখেন, ‘এর ফলে যে সমস্ত দেশ সস্তায় রাশিয়ার তেল কিনে পুতিনকে যুদ্ধে সহায়তা করছে, তাদের শাস্তি দিতে পারবেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।‘  রাশিয়া থেকে এখনও তেল আমদানি অব্যাহত রাখা দেশগুলিই এই শাস্তি পাবে বলে জানিয়েছেন তিনি। লিন্ডসে তাঁর পোস্টে ভারত ছাড়াও ব্রাজিল এবং চিনের কথা উল্লেখ করেছেন।

গ্রাহাম আরও বলেছেন, বিল পাশের এটিই আদর্শ সময়। ইউক্রেন শান্তিচুক্তির পক্ষে। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন মুখে যুদ্ধবিরতির কথা বললেও নিরীহদের হত্যা করছেন। এই পরিস্থিতিতে রাশিয়া থেকে বহু দেশ কম পয়সায় তেল কিনে পুতিনের যুদ্ধের মেশিনে তেল যোগাচ্ছে। এই বিলটি পাশ হলে সেই দেশগুলিকে শাস্তির মুখে পড়তে হবে।

উল্লেখ্য, রাশিয়া থেকে অশোধিত তেল কেনার জন্য শাস্তি হিসাবে ভারতের উপরে বাড়তি ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এর ফলে মোট ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপে ভারতের ঘাড়ে। আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির অন্যতম শর্ত হিসেবে রুশ তেল আমদানি বন্ধ করতে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ট্রাম্প। তা ছাড়া রাশিয়ার দুই তেল সংস্থা রসনেফ্ট ও লুকঅয়েলের উপরেও নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। এই পরিস্থিতিতে গত রবিবার ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ‘ওরা (ভারত) বাণিজ্য (রাশিয়ার সঙ্গে) করছে। আমরা ওদের উপর খুব তাড়াতাড়ি আরও বেশি শুল্ক চাপাতে পারি।‘

দিল্লি অবশ্য বার বার জানিয়েছে, দেশের  গ্রাহকদের কথা মাথায় রেখেই সিদ্ধান্ত নেবে তারা। কোন দেশ থেকে কতটা সস্তায় তেল পাওয়া যাচ্ছে, মাথায় রাখা হবে সেটাও। রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরেই মস্কোর তেল বিক্রির উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল আমেরিকা। সেই সময় তেল বিক্রি অব্যাহত রাখতে মোটা টাকা ছাড় দেওয়ার কথা ঘোষণা করে ভ্লাদিমির পুতিনের প্রশাসন।

ভারতও তেল কেনার বিষয়ে পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলির উপর নির্ভরতা খানিক কমিয়ে রাশিয়া থেকে তেল কেনার পরিমাণ ক্রমশ বাড়াতে থাকে। চিনের পর ভারতই রুশ তেলের দ্বিতীয় বৃহত্তম আমদানিকারক দেশ। ট্রাম্পের দাবি শুল্কের হার বাড়ানোর পর রাশিয়া থেকে তেল কেনার পরিমাণ কমায়নি ভারত।

তেল বিক্রির টাকা ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ব্যবহার করে রাশিয়া, দাবি ট্রাম্পের। বিশ্বে বহু যুদ্ধ থামানোর দাবিদার ট্রাম্প রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে ব্যর্থ। তাই পুতিনকে হাতে নয়, ভাতে মারতে চাইছে হোয়াইট হাউস দাবি কূটনৈতিক মহলের। তবে রাশিয়ার বিরুদ্ধে এখনও কোনও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়নি ট্রাম্প প্রশাসন।

উল্লেখ্য, ইউক্রেন যুদ্ধ প্রায় চার বছরে পা রাখতে চলেছে। সংঘাতের অবসান ঘটাতে ট্রাম্প প্রশাসন নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগ শুরু করেছে। বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার এই শান্তি আলোচনায় আমেরিকার প্রধান প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছেন।

গত ডিসেম্বরে ভারতে এসেছিলেন পুতিন।  আমেরিকা পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য রাশিয়া থেকে জ্বালানি কেনে বলে জানিয়েছিলেন রুশ প্রেসিডেন্ট। ভারত কেন রাশিয়া থেকে তেল কিনতে পারবে না সেই প্রশ্ন তুলেছিলেন ভ্লাদিমির পুতিন।

 

 

 

 

Advertisement