• facebook
  • twitter
Monday, 19 January, 2026

আসামে বাঙালি হেনস্থা থানায় অভিযোগ তৃণমূল সাংসদ সুস্মিতার

বর্তমানে রিঙ্কু শেখ শিলচরের চামড়াগুদাম এলাকায় থাকেন এবং ভ্যানে করে ফেরি করে জীবিকা নির্বাহ করেন। এই এলাকা মূলত বাঙালি অধ্যুষিত।

আসামের শিলচরে এক বাঙালি শ্রমিককে ‘বাংলাদেশি’ বলে দাগিয়ে মারধর ও হেনস্থার অভিযোগ উঠেছে। শ্রমিকের নাম রিঙ্কু শেখ। তিনি পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার নুরপুর এলাকার বাসিন্দা। ঘটনায় কাছাড় জেলার সিনিয়র পুলিশ সুপার পার্থপ্রতীম দাসের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ সুস্মিতা দেব। অভিযোগপত্রে তিনি জানান, রিঙ্কু শেখকে কাছাড় শিলচরের বাসিন্দারা কীভাবে শারীরিক নির্যাতন ও হেনস্থা করেছেন।

বর্তমানে রিঙ্কু শেখ শিলচরের চামড়াগুদাম এলাকায় থাকেন এবং ভ্যানে করে ফেরি করে জীবিকা নির্বাহ করেন। এই এলাকা মূলত বাঙালি অধ্যুষিত। রিঙ্কুর অভিযোগ, রবিবার সকালে রোজকার মতোই তিনি ভ্যানে করে জিনিসপত্র নিয়ে বেরিয়েছিলেন। শিলচরের রাধামাধব রোড এলাকায় পৌঁছতেই কয়েক জন স্থানীয় ব্যক্তি তাঁকে ঘিরে ধরে। তাঁরা চিৎকার করে বলতে থাকে, ‘বাংলাদেশি ধরেছি’।

Advertisement

এর পরেই রিঙ্কুকে মারধর শুরু করা হয় বলে অভিযোগ। রিঙ্কু জানান, তিনি মুসলিম হওয়ায় তাঁকে সহজেই বাংলাদেশি বলে দাগিয়ে দেওয়া হয়। মারধরের পাশাপাশি তাঁর উপর যৌন হেনস্থাও করা হয় বলে অভিযোগ। আতঙ্কে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন।

Advertisement

তৃণমূলের সাংসদ সুস্মিতা দেব তাঁর অভিযোগপত্রে দাবি করেছেন, হামলাকারীরা বজরঙ্গ দলের সদস্য। তারা রিঙ্কুর কাছ থেকে পরিচয়পত্র ও অন্যান্য নথি দেখতে চায়। রিঙ্কু সমস্ত বৈধ নথি দেখালেও অভিযুক্তরা মারধর বন্ধ করেনি। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হয়ে ওঠে যে রিঙ্কুকে নিজের ভ্যান ও মালপত্র ফেলে পালিয়ে প্রাণ বাঁচাতে হয়।

ঘটনার পরে রিঙ্কু শিলচর থানায় গিয়ে অভিযোগ জানাতে চাইলেও পুলিশ প্রথমে বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয়নি বলে অভিযোগ। পরে তৃণমূল সাংসদ সুস্মিতা দেবের হস্তক্ষেপে অবশেষে পুলিশে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা সম্ভব হয়। ঘটনার তীব্র নিন্দা করে সুস্মিতা দেব দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, ভাষা ও ধর্মের ভিত্তিতে কাউকে বাংলাদেশি বলে দাগিয়ে দেওয়া সম্পূর্ণ বেআইনি এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল।

আসামের পর বিহারেও ‘বাংলাদেশি’ সন্দেহে পশ্চিমবঙ্গের এক পরিযায়ী শ্রমিককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা থানার মির্জাপুর বাদামপাড়ার বাসিন্দা হাফিজুল খান জীবিকার তাগিদে বিহারের মুজফ্ফরপুরে ফেরিওয়ালার কাজ করছিলেন। অভিযোগ, ফেরি করতে যাওয়ার সময় তাঁর মোটরবাইক আটকে তাঁকে ‘বাংলাদেশি’ বলে মারধর করা হয়। হামলাকারীরা তাঁর আধার কার্ড নকল বলেও দাবি করে। মারধরের একটি ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে ছড়িয়েছে। প্রাণভয়ে হাফিজুল বিহার ছেড়ে বাড়ি ফিরে এসেছেন। ঘটনার নিন্দা করেছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বাংলাভাষী শ্রমিকদের ভাষা ও পরিচয়ের কারণে ‘বাংলাদেশি’ তকমা দিয়ে হেনস্তার একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে। বিশেষ করে বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলিতেই এই ধরনের ঘটনা বেশি ঘটছে বলে বিভিন্ন রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে।

Advertisement