৪৮ বছরের দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবশেষে পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের রত্নভাণ্ডারের অন্দরমহল খোলা হল। মন্দিরের রীতি মেনে মঙ্গলবার দুপুর ১টা ২৮ মিনিটে দরজা খোলা হয়। অন্দরমহল থেকে বেশ কয়েকটি বড় সিন্দুক উদ্ধার করা হয়েছে, যেগুলোর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে।
ভোটের আগে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। জেতার পর সেই প্রতিশ্রুতি পুরণ করল ওড়িশার বিজেপি সরকার। জয়ের পর ওড়িশা সরকারের তত্ত্বাবধানে, হাইকোর্টের অনুমতি নিয়ে অন্দরমহলের দরজা খোলা হয়েছে। এর আগে ১৯৭৮ সালে শেষবার এই দরজা উন্মুক্ত হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে রত্নভাণ্ডারের বহির্মহল খোলা হলেও অন্দরমহলে কেউ প্রবেশ করেননি।
Advertisement
প্রশাসন সূত্রে খবর, উদ্ধারকৃত সিন্দুকের তালিকা ১৯৭৮ সালের তালিকার সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হবে। প্রতিটি গয়নার গুণগত মান যাচাই করা হবে এবং রত্নভাণ্ডারের থ্রিডি ম্যাপিং করা হবে। লক্ষ্য, কোনও রত্ন হারিয়ে গেছে কিনা তা নিশ্চিত করা। ভাণ্ডারে প্রায় ১৮০ ধরনের মূল্যবান গয়না রয়েছে, যার মধ্যে ৭৪টি ভারী সোনার গয়না, ওজন কখনও দেড় কেজি পর্যন্ত।
Advertisement
অন্দরমহলের রত্নভাণ্ডারে শুধু অমূল্য গয়না নয়, ‘রেজা সুনা’ এবং রুপোর মতো উপকরণও রয়েছে, যা দেবতাদের গয়না মেরামতের কাজে ব্যবহৃত হয়। বহু জল্পনা ও গুজব রয়েছে গোপন কুঠুরির রত্ন-অলঙ্কার নিয়ে। বর্তমানে এই মহলটির তত্ত্বাবধান করছেন ওড়িশা হাইকোর্টের বিচারপতি বিশ্বনাথ রথ। বিশেষজ্ঞ কমিটি এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও ঘোষণা দেয়নি। তবে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ভাণ্ডারে সোনা, হিরে, মুক্তা এবং নানা ধরনের মূল্যবান অলঙ্কার রয়েছে।
Advertisement



